Iran vs USA: ট্রাম্পের ভয়ে কাঁটা হয়ে আছে ইরান? না হলে আমেরিকার ভয়ংকর চাপের মুখেই কেন ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি…

Iran vs USA: ট্রাম্পের ভয়ে কাঁটা হয়ে আছে ইরান? না হলে আমেরিকার ভয়ংকর চাপের মুখেই কেন ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: উত্তাল ইরান (Iran Unrest)। হুমকির বন্যা বইছে আমেরিকার তরফে। ইরান বিক্ষোভকে মাঝে রেখে বহুদিনের পুরনো শত্রুতা (Iran vs USA) জেগে উঠেছে ইরান ও মার্কিন মুলুকের। ইরানে বহুদিন ধরেই উদারপন্থীদের সঙ্গে কট্টরপন্থীদের সংঘাত চলছিল। এবার সেখানে ইকনমিক প্রোটেস্ট (Iran’s Economic Protests) চলছে। জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ঘিরে দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। তার সূত্রে দমন-প্রতিরোধ, মৃত্যু। সম্প্রতি আমেরিকা ইরানের উপর বড় রকম নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে। আর তার মধ্যেই আমেরিকা দাবি করল, তাদের ভয়েই ৮০০ ফাঁসি রদ করে দিল ইরান (Iran Halted 800 Executions of Protestors)। সত্যি?

ফাঁসিতে ‘না’

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন বহু মানুষ। এর মধ্যে ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল। খবর হল, সেই ফাঁসি নাকি স্থগিত করেছে ইরান কর্তৃপক্ষ। ইরান কি নিজের মুখে সেই কথা জানিয়েছে? না, ঘটনা তা নয়। দুদিন আগে বুধবার, ১৪ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট।

কেন ফাঁসি স্থগিত?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেন, আমাদের প্রেসিডেন্টের কাছে খবর এসেছে যে, ইরান ৮০০ জন বিক্ষোভকারীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা স্থগিত করেছে। এই বিক্ষোভকারীদের বুধবার ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের চাপের জেরে ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন তিনি।

ইরান কী বলছে?

তবে ফাঁসির বিষয়টি অস্বীকার করেছে ইরান। তারা জানিয়েছে, এই বিক্ষোভের জেরে কাউকে ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই তাদের ছিল না। এই কথা জানিয়েছেন খোদ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তেহরানের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বিক্ষোভের ঘটনায় কোনো ব্যক্তিকে ফাঁসি দেওয়ার কোনো ইচ্ছে বা পরিকল্পনাই তাদের সরকারের নেই। শুধু তাই নয়, তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ফাঁসির মতো কোনো শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি বর্তমানে তাঁদের ভাবনার বাইরে।

অশান্ত ইরান

ইরানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এই অস্থিরতার সূত্রপাত। গত তিন বছরের মধ্যে এটিই ইরান সরকারের পক্ষে সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে। গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর থেকে ইরান এমনিতেই তীব্র আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ইরানের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ এই আন্দোলন মোকাবিলায় দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছে। তারা অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে হওয়া প্রতিবাদ-বিক্ষোভকে বৈধ বলে অভিহিত করলেও বাস্তবে অত্যন্ত কঠোরভাবে তা দমন করছে। ইরান সরকার এই অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে দাবি করেছে, তথাকথিত সন্ত্রাসীরা এই আন্দোলনকে দখল করে নিয়েছে। গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানের রাজধানী তেহরানে দোকানদারদের ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত।

(Feed Source: zeenews.com)