KHANCHA | Trailer: ভাঙল স্টিরিওটাইপের ‘খাঁচা’, সিনেবাপের প্রথম ছবির ট্রেলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে সত্যের জয়ের

KHANCHA | Trailer: ভাঙল স্টিরিওটাইপের ‘খাঁচা’, সিনেবাপের প্রথম ছবির ট্রেলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে সত্যের জয়ের

ড. প্রবীর ভৌমিকের প্রযোজনা সংস্থা স্বভূমি এন্টারটেনমেন্টের ছবির সবচেয়ে বড় চমক কমলেশের চরিত্রাভিনেতা, জনপ্রিয় এই ইউটিউবারকে সবাই চেনেন ‘সিনেবাপ’ নামে। সেই মৃণ্ময় এবার আসছেন বড়পর্দায়, স্বাভাবিকভাবেই তিনি উচ্ছ্বসিত। সম্প্রতি হয়ে গেল ছবির ট্রেলার লঞ্চ ৷ ‘‘হিরো হওয়ার ইচ্ছা আমার বহু বছরের। এক দশকের উপরে অভিজ্ঞতা…২০১২ থেকে মিডিয়াতে কাজ শুরু করেছি, প্রথমে রিয়েলিটি শো, তারপর ইউটিউব। কিন্তু তারও আগে থেকে আমার স্বপ্ন হিরো হওয়ার। কিন্তু মেনস্ট্রিম কমার্শিয়াল সিনেমায় হিরো হওয়া মুখের কথা নয়। তার জন্য সঠিক প্রিপারেশন, সঠিক মানুষদের সান্নিধ্যে আসা আর সঠিক সময়টা খুব দরকার। ইউটিউবটা আমার প্যাশন এবং প্রফেশন, কিন্তু হিরো হওয়াটা আমার অ্যাম্বিশন। এটা ২০২৬-এ ফুলফিল হতে যাচ্ছে ৷’’, বলছেন মৃণ্ময়।

খাঁচায় নানা চরিত্রে অভিনয় করেছেন রজতাভ দত্ত, মীর, কাঞ্চনা মৈত্র প্রমুখ স্বনামধন্য অভিনেতা, অভিনেত্রীরা। আরও বিভিন্ন চরিত্রে রয়েছেন কৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্রুতি মিত্র, পূজা চট্টোপাধ্যায়, পূজা সরকার, সোনালী চৌধুরী, অলোক সান্যাল প্রমুখ ৷ ‘ও অভাগী’ ছবির সূত্রে এর আগে জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছিলেন অনির্বাণ চক্রবর্তী, খাঁচা তাঁর দ্বিতীয় ছবি। ‘‘ও অভাগী আমার শেষ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ফিচার ফিল্ম ছিল, যা সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেছিল এবং জাতীয় পর্যায়ে বেশ কিছু পুরস্কার জিতেছিল। তবে আমি কখনও কোনও নির্দিষ্ট সীমায় আবদ্ধ থাকতে চাইনি। সিনেমা মানেই বিনোদন, তাই আমি সবসময় নতুন দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করি। আমার প্রযোজককে ধন্যবাদ, যিনি আগের মতোই আমার উপর বিশ্বাস রেখেছেন’’, বলছেন পরিচালক অনির্বাণ।

‘‘বর্তমান প্রবণতা অনুযায়ী বড় বড় তারকারা সিলভার স্ক্রিন থেকে OTT এবং অন্যান্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক প্ল্যাটফর্মে আসছেন শো-বিজে টিকে থাকার জন্য। তাহলে কেন এই প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতিভাবান এবং দক্ষ তারকারা বড় পর্দায় পা রাখতে পারবেন না?’’ সিনেবাপকে মুখ্য চরিত্রে নেওয়া নিয়ে পরিচালক অকপট !

‘‘নতুন বছরে প্রথম বাণিজ্যিক সিনেমার প্রত্যাবর্তন ৷ এই বিষয়টা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। আমি পেশায় চিকিৎসক, কিন্তু সিনেমার জগতের সঙ্গে এক দশকের উপরে আবেগের সঙ্গে যুক্ত। গত বছর ছবিটির প্রথম ঝলক প্রকাশ করার উপলক্ষে দারুণ সমর্থনের জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ। জাতীয় স্তরে বিভিন্ন পুরস্কার প্রাপ্ত, দর্শক সমাদৃত, রাফায়ত রশীদ মিথিলা অভিনীত … ‘ও অভাগী’ ছবির সফল যাত্রাপথের পর, ও পরিচালক শেখর দাশের ছবি ‘পাগলা ঘোড়া’-র প্রযোজনা করার পরে- স্বভূমী এন্টারটেনমেন্ট থেকে আমাদের আগামী নিবেদন, অনির্বাণ চক্রবর্তী পরিচালিত – ‘খাঁচা’। উল্লেখ্য বিষয়.. ‘খাঁচা’… শুধু সিনেমা নয়, প্রকৃত অর্থে জনস্বার্থে প্রচারিত এক বার্তা। বাস্তবে মানব পাচারের যুদ্ধজয়ীরা কীভাবে ‘খাঁচা’-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কিছু দৃষ্টান্তমূলক কার্যক্রম তৈরি করছে তা ক্রমশ প্রকাশ্য।’’, বলছেন প্রযোজক প্রবীর ভৌমিক।

প্রযোজক প্রবীর ভৌমিক
প্রযোজক প্রবীর ভৌমিক
মৃণ্ময় দাস ও শ্রীতমা বৈদ্য
মৃণ্ময় দাস ও শ্রীতমা বৈদ্য

ছবির মুখ্য চরিত্র ‘কমলেশ’-এর ভূমিকায় মৃন্ময় দাস (Cinebap) বলেন, ‘‘আমাদের শ্যুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ছিল প্রচণ্ড ব্যস্ত ও উত্তেজনাপূর্ণ, তবে পুরোপুরি উপভোগ্য। বাঁকুড়ার প্রখর গরম থেকে শুরু করে কালিম্পঙের হিমশীতল ফ্রেম—সব মিলিয়ে এক অসাধারণ রোলার কোস্টার রাইড। কিছু একেবারে দারুণ উপভোগ্য নাচের পরিস্থিতিও ছিল। আমি নাচ নিয়ে বিশেষভাবে উন্মাদ নই। আমার কাছে নাচ মানে ধ্যানের মতো—এর জন্য সাধনা দরকার। আশা করি দর্শকরা আমার নাচের মুভগুলো পছন্দ করবেন। অ্যাকশন সিকোয়েন্সগুলো দুর্দান্ত হয়ে উঠেছে। বাজেটের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এমন চমৎকার অ্যাকশন দৃশ্য নির্মাণের জন্য আমাদের চিত্রগ্রাহক মলয় মণ্ডল, পরিচালক অনির্বাণ চক্রবর্তী, সম্পাদক মহঃ কালাম এবং ভিএফএক্স বিশেষজ্ঞ শুভায়ন চন্দ্রকে অবশ্যই ধন্যবাদ জানাতে হয়। এই ছবিটি আমার প্রথম সিনেমা ৷ তাই টিমের অনেকের সঙ্গেই আগে কাজ করা হয়নি। তবে আমাদের পরিচালক অনির্বাণ চক্রবর্তীর সঙ্গে আগে থেকেই পরিচয় ছিল। কৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ইমন চক্রবর্তী ছিলেন টেলিভিশনে আমার ‘মিরাক্কেল’ দিনের সহ-অংশগ্রহণকারী। কৃষ্ণর অবদান অনেকটাই রয়েছে এই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে। মীর আফসার আলি ছিলেন আমাদের মেন্টর এবং রজতাভ দত্ত ছিলেন জুরি মিরাক্কেলের সময়। নিজের চলচ্চিত্রের অভিষেকে জুরি ও মেন্টরের সঙ্গে একই পর্দা ভাগ করে নেওয়া নিঃসন্দেহে এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়।’’

অভিনেতা মৃণ্ময় দাস
অভিনেতা মৃণ্ময় দাস

পরিচালক অনির্বাণ চক্রবর্তীর কথায়, ‘‘এখন ট্রেলারের দৃশ্যগুলোর দিকে তাকালে মনে পড়ে যায়, এই রকম এক উন্মাদ ও প্রাণবন্ত ইউনিটের সঙ্গে শুটিংটা কতটা রোমাঞ্চকর ছিল। সাধারণত আমরা সবাই সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে আউটডোর লোকেশনে শুট করতে ভালবাসি। বাঁকুড়ায় প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে এবং কালিম্পঙে হিমশীতল শীতে আমরা শ্যুট করেছি—তবু একবারের জন্যও কেউ কোনও অভিযোগ করেনি। আমাদের লিড চরিত্র ‘কমলেশ’-এর মতো একটি চরিত্রে অভিনয় করতে গেলে একজন অভিনেতাকে ফিটনেস, অ্যাকশন, নাচ ও অভিনয়—সবকিছুরই যথাযথ প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মৃন্ময় খুব পরিশ্রম করেছে, যেমনটা করেছে অন্যান্য অভিনেতারাও। তাঁর রূপান্তরটাই ছিল সবচেয়ে কঠিন যাত্রা। সেই রূপান্তরকে দৃঢ়তা ও ধারাবাহিকতার সঙ্গে ধরে রাখার জন্য তাঁর অধ্যবসায় ও নিখাদ নিষ্ঠার প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাই। একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই। কালিম্পঙের এক দুর্গম এলাকায় আমরা শুট করছিলাম। হঠাৎ লোকাল ম্যানেজার এসে আমাকে একটি ভিডিও দেখায়—কয়েক ঘণ্টা আগেই ঠিক যেখানে আমি বসেছিলাম, সেখানেই একটি চিতা বাঘ দেখা গিয়েছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই কিছু কারিগরি ত্রুটির কারণে আমাদের সব লাইট নিভে যায়। ঘন অন্ধকার পাহাড়ি জঙ্গলে মোবাইল স্ক্রিনে ভেসে ওঠা চিতা বাঘের তাকিয়ে থাকা চোখ ছাড়া আর কিছুই দৃশ্যমান ছিল না। তখনই বুঝেছিলাম, আমরা তার এলাকায় অনধিকারপ্রবেশকারী—সে নয়। আমি চাই দর্শকরা নিখাদ বিনোদনের জন্য এই ছবিটি দেখতে আসুন।’’

পরিচালক অনির্বাণ চক্রবর্তী
পরিচালক অনির্বাণ চক্রবর্তী

অভিনেত্রী প্রত্যুষা পালের কথায়, ‘‘ট্রেলারটা দেখলেই আমি প্রচণ্ড আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। ওই কয়েক মিনিটের মধ্যেই গত দু’বছরের সংগ্রাম, অপেক্ষা, আত্মসংশয় আর অধ্যবসায়ের স্মৃতিগুলো ফিরে আসে। এই টিমের সঙ্গে এটাই আমার প্রথম কাজ, আর প্রথম দিন থেকেই অভিজ্ঞতাটা খুব বিশেষ মনে হয়েছে। নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ক্যামেরা চালু হওয়ার মুহূর্তে সব ভয় কেটে গিয়েছিল। মনে হয়েছিল, এটাই আমার ঠিক জায়গা।’’

প্রত্যুষা পাল
প্রত্যুষা পাল
সঙ্গীতশিল্পী রাপূর্ণা ভট্টাচার্য
সঙ্গীতশিল্পী রাপূর্ণা ভট্টাচার্য

তিনি আরও বলেন, ‘‘আনুষ্ঠানিক কোনও ওয়ার্কশপ না থাকলেও, টিম হিসেবে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে আমি চরিত্রটার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হতে পেরেছি—এই প্রক্রিয়ার জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। টেলিভিশনে দশ বছরের বেশি কাজ করার পর আমি মনে করি, সিনেমা প্রস্তুতির জন্য বেশি সময় দেয়, আর সিরিয়াল প্রতিদিনের অভিনয়চর্চার এক ধরনের স্কুল। দুটোই আমাকে গভীরভাবে গড়ে তুলেছে। নিজের কাজটা যদি মন দিয়ে ও সততার সঙ্গে করা যায়, তাহলে কিছুই অসম্ভব মনে হয় না। এই ছবির অভিজ্ঞতাটা অসাধারণ, আর সারাজীবনই—সিনেমা, টেলিভিশন বা ওয়েব—যে মাধ্যমেই হোক, অভিনয় করে যেতে চাই।’’

(Feed Source: news18.com)