
ভারত স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৫১ সালে এই হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্প থেকেই শুরু হয় আইআইটি খড়গপুরের পথচলা। যদিও আইআইটি খড়গপুরের সঙ্গে নেতাজির প্রত্যক্ষ কোনও প্রশাসনিক যোগাযোগ ছিল না, তবুও ইতিহাসের সূত্রে হিজলি এবং নেতাজি এক সুতোয় বাঁধা।
আইআইটি খড়গপুরের সঙ্গে নেতাজির যোগ
খড়্গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: ২৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেছিলেন ভারতের বিশ্ববরেণ্য নেতা, বীর দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে লড়াই করা এই মহান বিপ্লবী ভারতের সশস্ত্র স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নায়ক। তবে অনেকেরই অজানা, মেদিনীপুর জেলার সঙ্গেও এক গভীর ঐতিহাসিক যোগাযোগ রয়েছে নেতাজির।
ব্রিটিশ শাসনাকালে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরে অবস্থিত হিজলিতে ছিল এক ভয়ঙ্কর বন্দিনিবাস। আজ যেখানে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইআইটি খড়্গপুরে গড়ে উঠেছে, সেখানেই একসময় ছিল হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্প। এই বন্দীনিবাসে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী বিপ্লবীদের আটকে রেখে ইংরেজরা চালাত নির্মম অত্যাচার। নির্যাতনের পাশাপাশি গুলিচালনার ঘটনাও ঘটত প্রায়শই।
১৯৩১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর হিজলি বন্দীনিবাসে নির্বিচারে গুলিচালনার ঘটনায় শহিদ হন দুই বিপ্লবী—তারকেশ্বর সেনগুপ্ত ও সন্তোষ কুমার মিত্র। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সন্তোষ কুমার মিত্র ছিলেন একজন সাহসী বিপ্লবী এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সহপাঠী। প্রিয় সহযোদ্ধার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে গভীরভাবে বিচলিত হন নেতাজি।
এই ঘটনার পর ১৯৩১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর হিজলি বন্দীনিবাসে আসেন স্বয়ং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। বন্দীনিবাসে ঘটে যাওয়া নৃশংসতার প্রতিবাদ জানান এবং শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তাঁর এই আগমন ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। সেই সময় হিজলিতে নেতাজির উপস্থিতি মেদিনীপুরের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে।
ভারত স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৫১ সালে এই হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্প থেকেই শুরু হয় আইআইটি খড়গপুরের পথচলা। যদিও আইআইটি খড়গপুরের সঙ্গে নেতাজির প্রত্যক্ষ কোনও প্রশাসনিক যোগাযোগ ছিল না, তবুও ইতিহাসের সূত্রে হিজলি এবং নেতাজি এক সুতোয় বাঁধা।
নেতাজির জন্মদিনের প্রাক্কালে তাই বীর দেশনায়ককে স্মরণ করে গোটা মেদিনীপুর। হিজলির ইতিহাসের পাতায় আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সাহস, প্রতিবাদ ও দেশপ্রেমের স্মৃতি।
