জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: যাত্রী-সহ নিখোঁজ বিমান। হন্যে হয়ে চলছে তল্লাশি অভিযান। জানা গিয়েছে, পাহাড়ের উপর বিমানটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু কোথায় যাত্রীরা? ১১জন যাত্রী নিখোঁজ। ঘটনাটি ইন্দোনেশিয়ার।
জানা গিয়েছে, ১৭ জানুয়ারি দুপুরে যোযাকার্তা প্রদেশ দক্ষিণ সুলাওয়েইসির রাজধানী মাকাসারা যাচ্ছিল। ATR 42-500 নামের এই বিমানটি ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্ট গ্রুপের ছিল। দুপুর ১.৩০-র দিকে বিমানটি দক্ষিণ সুলাওয়েসির মারোস এলাকায় যোগাযোগ হারায়। মেঘের মধ্যে কোথায় যেন হারিয়ে যায়। জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার আগে পাইলটকে বিমানের দিক পরিবর্তন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার পরেই আচমকা সব যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
বিমানে আটজন ক্রু সদস্য ও তিনজন যাত্রী ছিলেন, যাদের সবাই ইন্দোনেশিয়ার মৎস্য মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী ছিলেন। ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক বিষয়ক ও মৎস্য মন্ত্রণালয় ফিশারিজ়ের উপর আকাশ থেকে নজরদারি চালানোর জন্য বিমানটি ভাড়া করেছিল।
উদ্ধারকাজ চলাকালীন মাউন্ট বুলুসারাউং পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়া কিছু পর্যটক প্রথমে বিমানটির ধ্বংসাবশেষের হদিস পান। তাঁরা জানান, পাহাড়ি জঙ্গলের মধ্যে বিমানের ভাঙা টুকরো এবং আগুনের শিখা দেখা গিয়েছে। মাকাসার অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান মুহাম্মদ আরিফ আনোয়ার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, উদ্ধারকৃত ধ্বংসাবশেষের মধ্যে বিমানটির ফিউজলাজ, লেজের অংশ ও জানালার অংশ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরিফ বলেন, নিখোঁজ যাত্রীদের খোঁজে আকাশপথেও প্রায় ১,২০০ জন উদ্ধারকর্মীর ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বর্তমান অগ্রাধিকার হল বিমানের আরোহীদের খুঁজে বের করা এবং আমরা আশা করছি এখনও কাউকে না কাউকে নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
রবিবার সকালে, উদ্ধারকর্মীরা মারোস এলাকার বুলুসারাং পর্বতের কাছে বিমানের ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন জায়গায় খুঁজে পায়। পর্বতটি ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার (৯৩০ মাইল) দূরে অবস্থিত। উদ্ধারকর্মীরা বলেন, তারা প্রথম সকাল ৭.৪৬-এ বিমানের জানালার টুকরো দেখেছিল এবং তারপর ৭.৪৯-এ বিমানের বড় অংশ খুঁজে পেয়েছিল। বিমানটির পেছনের অংশও পর্বতের পাদদেশে দেখা গিয়েছিল। উদ্ধারকারীরা যেখানে ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছে, সেখানে পৌঁছেছে, তবে ঘন কুয়াশা এবং পাহাড়ি এলাকা কাজকে কঠিন করেছে। ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট সেফটি কমিটি দুর্ঘটনার তদন্ত করবে। বিমানটির দুর্ঘটনার কারণ এখনও জানা যায়নি, এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে অনেক সময় একাধিক কারণে দুর্ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া হাজারও দ্বীপকে সংযুক্ত করতে বিমান পরিবহণের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। সেখানে ১৭,০০০টিরও বেশি দ্বীপের মধ্যে যোগাযোগ রাখার জন্য বিমান ও ফেরি ব্যবহার করে। গত কয়েক বছর ধরে, ইন্দোনেশিয়া বিভিন্ন পরিবহন দুর্ঘটনায় ভুগছে, যেমন বিমান দুর্ঘটনা, বাস দুর্ঘটনা এবং ফেরি ডুবি।
(Feed Source: zeenews.com)
