জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এআর রহমানের ‘সাম্প্রদায়িক’ মন্তব্যে (AR Rahman’s Communal Remark Controversy) বিতর্কের আগুন জ্বলছে দেশ জুড়ে। ভারতীয় সংগীতের মায়েস্ত্রো বলেছেন যে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে হিন্দি সিনেমায় তাঁর কাজের গতি কমেছে। পরিবর্তিত রিস্থিতির জন্য তিনি বলিউডে ‘ক্ষমতার পালাবদলকে’ দায়ী করেছেন! তাঁর মতে সম্ভবত ‘সাম্প্রদায়িক বিষয়’ হতে পারে।
অনেকেই মুখ খুলেছেন
জাভেদ আখতার (Javed Akhtar) থেকে শুরু করে লেজলি লুইস (Leslie Lewis) এবং হরিহরণ-সহ (Hariharan) বলিউডের অনেকেই রহমানের মন্তব্য নিয়ে তাঁদের মতামত জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু আলোচনার পর রহমান নীরবতা ভেঙে বলেছেন যে তিনি ‘কখনই কাউকে কষ্ট দিতে চাননি’। এবার রহমানের মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানালেন নির্বাসিত পদ্মাপারের লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Author Taslima Nasreen Reacts To AR Rahman’s Communal Remark)

কী বললেন তসলিমা নাসরিন
এক্স পোস্টে তসলিমা এই বিতর্ক নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করে লম্বা বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘এআর রহমান একজন মুসলিম এবং ভারতে অত্যন্ত বিখ্যাত। আমি যা শুনেছি, তাতে তাঁর পারিশ্রমিক বাকি সব শিল্পীর চেয়েই বেশি। তিনি সম্ভবত সবচেয়ে ধনী সংগীতশিল্পী। তিনি অভিযোগ করছেন যে, মুসলিম হওয়ার কারণে তাঁকে বলিউডে কাজ দেওয়া হচ্ছে না। শাহরুখ খান এখনও বলিউডের বাদশাহ। সলমান খান, আমির খান, জাভেদ আখতার, শাবানা আজমি—তাঁরা সবাই সুপারস্টার। বিখ্যাত ও ধনীরা কোথাও কোনো অসুবিধায় পড়েন না। তাঁরা যে ধর্মেরই হোন, যে জাতিরই হোন বা যে সম্প্রদায়েরই হোন না কেন। আমার মতো গরিব মানুষেরই যত অসুবিধা হয়। আমি একজন কট্টর নাস্তিক হওয়া সত্ত্বেও, আমার নামের কারণে আমাকে মুসলিম বলে ধরে নেওয়া হয়। যারা মুসলিম-বিরোধী, তারা পরোয়া করে না যে কেউ নাস্তিক নাকি আস্তিক। কেউ আমাকে বাড়ি ভাড়া দিতে চায় না। যখন হাসপাতালে যাই, তারা আমাকে ঠকিয়ে আমার পা কেটে ফেলে। হায়দরাবাদে নাস্তিক হওয়ার কারণেও আমাকে মার খেতে হয়। আমি ঔরঙ্গাবাদে পা রাখতে পারি না। আমাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এই সমস্যাগুলি এআর রহমানের জীবন বা বলিউডের মুসলিম তারকাদের জীবনের দূরতম সীমানার মধ্যেও আসে না। আমি একজন নাগরিক নই। একজন নাগরিক এবং একজন বাসিন্দার মধ্যে, ভোট দেওয়ার অধিকার ছাড়া অন্য সব অধিকার একই। অন্তত আইন তাই বলে। অনেক নাগরিক ভালোবাসার টানে ভারতে থাকেন না। আমি এখানে থাকি কারণ আমি ভালোবাসি। আমি নীতি ও আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত হই না। ইসলামের অন্তঃসারশূন্য হাড় ও মজ্জা ছিন্নভিন্ন করার পর আমি নির্বাসনের জীবন কাটাচ্ছি, তবুও মানুষ আমাকে বলে, ‘তোমরা চাঁদ দেখে ঈদ পালন করো’ অথবা ‘তোমাদের মধ্যে বহুবিবাহ প্রচলিত আছে।’ এই দেশের সাধারণ মানুষ নাস্তিকতা বা নাস্তিকতার উপর প্রতিষ্ঠিত মানবতাবাদ সম্পর্কে খুব কমই জানে। আসলে আমার কিছুই করার নেই। এই দেশের নারী-পুরুষ আমারই আপনজন। এই মাটির সংস্কৃতিও আমার সংস্কৃতি। একে পিছনে ফেলে আমি আর কতদূরই বা যেতে পারি? এআর রহমান হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নাস্তিক এবং আস্তিক সবার কাছেই শ্রদ্ধার পাত্র। তাঁকে করুণা করাটা মানায় না।’ তসলিমার এই পোস্টেও ঝড় উঠেছে…
(Feed Source: zeenews.com)
