
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিশ্বে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে যতই নিউজ প্রিন্ট খরচ হোক, মেয়েদের পরিস্থিতি যে-তিমিরে সেই তিমিরেই। সুদানের (Sudan) যুদ্ধ ভোগাচ্ছে সেখানকার নারীদের। বলা হচ্ছে, তাঁরা শিকার হচ্ছেন ‘বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ’ (deadly Sexual violence) যৌন হিংস্রতার এবং অন্যান্য অপরাধেরও।
পরিবারেই সামনেই…
সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লিপ্ত। এই সংঘাতে এখনও পর্যন্ত হাজার-হাজার মানুষ নিহত। বাস্তুচ্যুত ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ। ব্যাপক যৌন হিংস্রতা ঘটছে এই সংঘাতে। ঘটছে লুটপাট! সঙ্গে নারীনির্যাতনও ঘটছে অহরহ। ধর্ষণের ঘটনাগুলি প্রায়ই পরিবারের সামনেই সংঘটিত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
যৌনদাসী
নারীদের সেখানে যৌনদাসী বানানো হচ্ছে। তাঁদের প্রতিবেশী দেশগুলিতে পাচার করা হচ্ছে। লজ্জা এড়াতে তাঁদের জোর করে বিয়েও দেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ সময়েই গর্ভধারণের মতো ঘটনা ঘটে যাচ্ছে বলেও, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। যুদ্ধরত দুই পক্ষ থেকেই নারীরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, আরএসএফ জাতিগত নিধনের পরিকল্পনা নিয়েই একরকম যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে এই হিংস্রতাকে ব্যবহার করছে। কী উদ্দেশ্য মেয়েদের সঙ্গে এই আচরণের? জানা যাচ্ছে, এর উদ্দেশ্য, তাদের অপমান করা, তাঁদের ঘরবাড়ি, এলাকা ও শহর ছাড়তে বাধ্য করা। পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করা!
নৃশংস হত্যাযজ্ঞ এবং
২০০০-এ শুরুতে দারফুরে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি তা বেড়েছে। জানা গিয়েছে, মেয়েরা সেখানে ব্যাপক হারে গণধর্ষণের শিকার হচ্ছেন! অপরাধীরা কখনো-কখনো শিউরে-ওঠা সেই নির্যাতনের ভিডিয়োও তুলে নিচ্ছে এবং তা নিয়ে উদ্যাপন করেছে। একজন বলেছেন, এখানে এখন যা ঘটছে, তা আরও অনেক বেশি কুৎসিত। এখন গণধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। হামলাকারী আরএসএফ যোদ্ধারা এসব কাজ খুব গর্বভরেই করে এবং তারা এটিকে অপরাধ হিসেবে দেখে না!
রাষ্ট্রসংঘ, এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত
সুদানের দারফুরে বিভিন্ন সম্প্রদায়গুলির উপর পরিকল্পিত হামলা নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করে এসেছে রাষ্ট্রসংঘ। অন্য দিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) উভয় পক্ষের দ্বারা সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
ধর্ষণ করে সম্মানিত করা হচ্ছে মেয়েদের?
দারফুরে বেঁচে ফেরা বেশ কয়েকজন নারী অত্যাচারীদের আশ্চর্য মনোভাবের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁরা বলছেন, আরএসএফ যোদ্ধারা তাদের (ওই মেয়েদের) নিচু জাতের মানুষের তকমা দিয়ে দাস বলে সম্বোধন করত এবং বলত, আমি যখন তোমাকে আক্রমণ করছি বা তোমাকে যৌন নির্যাতন করছি, তখন আমি আসলে তোমাকে সম্মানিতই করছি, কেননা আমি তোমার চেয়ে বেশি শিক্ষিত বা তোমার চেয়ে বেশি বিশুদ্ধ রক্তের অধিকারী!
(Feed Source: zeenews.com)
