
প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে, রবিবার সন্ধেয় ২০২৬ সালের ‘পদ্ম পুরস্কার’ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকার, আর তাতেই ‘পদ্মশ্রী’র জন্য প্রসেনজিতের নাম উঠে আসে। সেই খবর পেয়েই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন টলিউটে প্রসেনজিতের সতীর্থরা। আরও আগে তাঁর এই সম্মান পাওয়া উচিত ছিল বলে জানান প্রায় সকলেই। প্রসেনজিৎ যদিও কিছু জানাননি সেই সময়। শেষ পর্যন্ত সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন তিনি। (Padma Awards 2026)
প্রসেনজিৎ জানিয়েছেন নবীনা সিনেমা হলে নিজের সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি দেখছিলেন তিনি। সেই সময় ‘পদ্মশ্রী’ প্রাপ্তির খবর পান। দর্শকদের সঙ্গেই সেই খবর ভাগ করে নেন তিনি, যাতে সকলেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। ‘পদ্মশ্রী’ প্রাপ্তি নিয়ে প্রসেনজিৎ বলেন, “প্রথমেই আমার মাকে এই সম্মান উৎসর্গ করব আমি, যিনি আমাদের বড় করে তুলতে, আমার এই যাত্রার জন্য অনেক কিছু ত্যাগ করেছেন, চার দশক ধরে যে যাত্রা চলছে।”
প্রসেনজিৎ আরও বলেন, “এই সম্মান নিজের পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি আমি, আমার ছেলে মিশুকের সঙ্গে। অগণিত দর্শকের জন্যই আমি, আমি হতে পেরেছি।” ‘পদ্মশ্রী’ পাওয়ার খবর আসা মাত্র বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়কেও ফোন করেন প্রসেনজিৎ। গর্ববোধ করছেন বলে বিশ্বজিৎ তাঁকে জানান।
প্রসেনজিতের ‘পদ্মশ্রী’ প্রাপ্তি নিয়ে চারিদিকে যখন উচ্ছ্বাস, কিছুটা বিষাদের সুর ধরা পড়ে খোদ নায়কের গলায়। দীর্ঘদিনের বন্ধু, পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের কথা স্মৃতিচারণ করেন তিনি। বাণিজ্যিক ছবির বাইরে ‘আর্টহাউস’ ছবিতে প্রসেনজিতের জন্ম হয় ঋতুপর্ণের হাত ধরে। তাই প্রসেনজিৎ বলেন, “আজ ঋতুপর্ণকে খুব মিস করছি। আমার অভিনয়জীবনের একটি অংশকে গড়ে তোলায় ওঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রসেনজিতের ‘পদ্মশ্রী’ প্রাপ্তিতে উৎসাহে খামতি না থাকলেও, তাঁর মতো শিল্পীকে প্রাপ্য সম্মান দিতে এত দেরি হল কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন টলিপাড়ার অনেকেই। তবে প্রসেনজিতের বক্তব্য, “আমি বিষয়টিকে এভাবে দেখি না। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় কেরিয়ারের কোন সময় দাঁড়িয়ে সম্মান পেয়েছিলেন ভাবুন। সময় নিয়ে এত ভাবার কিছু নেই। সরকার সম্মান জানাল কি না, সেটাই সব। আমি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ।”
এবছর মার্চ-এপ্রিল নাগাদ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে ‘পদ্মশ্রী’ গ্রহণ করতে পারেন প্রসেনজিৎ।
(Feed Source: abplive.com)
