
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে বিধ্বংসী ভূমিধসে ততই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভার চিসুরিয়া জেলার পাহাড়ি এলাকার ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ১০। নিখোঁজ কমপক্ষে ৮০ জন। বিশাল কাদামাটির মোটা চাদরের তলায় একাধিক গ্রাম। প্রবল বৃষ্টি ও ভোর রাতে ভূমি ধসের কারণে ভয়ংকর অবস্থা হয়েছে একাধিক জনপদের।
অক্টোবর থেকে মার্চ, এই কমাস প্রবল বৃষ্টি হয় ইন্দোনেশিয়ায়। সেইসময় বন্যা এবং ভূমিধস একটি সাধারণ ঘটনা। পাসিরলাঙ্গু গ্রামের বাসিন্দা ওয়োহ (Oyoh) এএফপি-কে জানান, রাত ২:৩০ মিনিটের দিকে বজ্রপাতের মতো বিকট এক শব্দ শোনা যায়। তিনি বলেন, সকাল থেকেই বিরামহীন বৃষ্টি হচ্ছিল, আর তারপরই ভূমিধস শুরু হয়। ৫২ বছর বয়সী ওয়োহকে অনেকের সঙ্গে গ্রামের সরকারি কার্যালয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এই ব্যক্তিদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
দেশের দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার মুখপাত্র আব্দুল মুহারি সংবাদমাধ্যমে বলেন, এই ঘটনায় আটজন নিহত হয়েছেন এবং ৮২ জন নিখোঁজ।
স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থা জানিয়েছে তারা হাত দিয়ে মাটি খুঁড়ে, পাম্প দিয়ে মাটি সরিয়ে এবং ড্রোন ব্যবহার করে নিখোঁজদের সন্ধান করছে। গত বছরের শেষের দিকে ঝড় ও প্রবল বর্ষার কারণে সুমাত্রার তিনটি প্রদেশে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস হয়েছিল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই দুর্যোগে প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত হন এবং ২ লক্ষ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এই নতুন দুর্যোগের দেখা মিলল।
গত মাসে ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা, পশ্চিম সুমাত্রা ও আচেহ প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিধস এবং বন্যায় অন্তত ১ হাজার ১৭০ জনের মৃত্যু ঘটে। এই অবস্থায় পশ্চিম জাভার এই ভূমিধস ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উদ্ধারকারীরা এখন পাসিরলাঙ্গু গ্রামে নিখোঁজদের খোঁজে কাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন জনসাধারণকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে এবং নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
