
ভারত সফরে এসে ইউটিউবার রাজ শামানির পডকাস্টে যোগ দেন সুনীতা। সেখানে একরকম সাহস করেই সুনীতাকে প্রশ্ন করেন রাজ যে, “মহাকাশে ভিন্গ্রহী (এলিয়েন) আছে বলে কি বিশ্বাস করেন আপনি?” জবাবে সুনীতা বলেন, “অবশ্যই! অত কোটি কোটি নক্ষত্র মহাকাশে। আমরা ছোট্ট একটি গ্রহমাত্র। একটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে চলেছি। তাই বলব হ্যাঁ, মহাকাশে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। পৃথিবীতেই এমন এমন জায়গায় প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গিয়েছে, যা কল্পনাও করতে পারিনি আমরা…মহাসাগরের নীচে, থার্মাল ভেন্টে, যেখানে আলো ঢোকে না, বাতাস ঝোকে না, ঘোর অন্ধকার।” (Sunita Williams)
মহাকাশে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সপক্ষে সুনীতা যুক্তি দেন, “দ্বিতীয় বার স্পেসওয়াকের সময় দেখেছিলাম…স্পেস স্টেশনের বাইরে অনুজীব থাকে। আমাদের থেকেই হয়ত পৌঁছেছে। কিন্তু বেঁচেও আছে মহাকাশে। অর্থাৎ মহাকাশে বাঁচতে পারে ওরা, তার সপক্ষে প্রমাণ রয়েছে। বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপায় জলের অসিত্ব পাওয়া গিয়েছে। সেখানে মহাকাশ পাঠানো গেলে বোঝা যাবে।”
সুনীতা জানিয়েছেন, জল যেখানে আছে, সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতেই পারে। তাঁর কথায়, “জল আছে মানে কিছু না কিছু থাকতেই পারে। চাঁদে, মঙ্গলে তরল থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। হতে পারে ওখানেও হয়ত রয়েছে। পৌঁছতে পারলে দেখা যাবে।” তবে মহাকাশে প্রাণের অস্তিত্ব থাকলেও, তা যে মানুষের মতোই দেখতে হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই বলেই মত সুনীতার। অন্য কোনও প্রজাতি হতে পারে বলে মত তাঁর। সুনীতা বলেন, “কোনও না কোনও ফর্মে আছে (প্রাণের অস্তিত্ব)।”
আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-য় প্রায় তিন দশক কর্মরত ছিলেন সুনীতা। সম্প্রতি NASA থেকে অবসরগ্রহণ করেছেন তিনি। তিনি ভারতসফরে থাকাকালীনই NASA-র তরফে অবসরের কথা ঘোষণা করা হয়। সুনীতা জানিয়েছেন, আগামী প্রজন্মকে জায়গা করে দিতেই সরে আসছেন তিনি। মহাকাশ যে তাঁর অতিপ্রিয় জায়গা তা জানাতে ফোলেননি সুনীতা। কিন্তু ফের যাওয়ার কথা বললে স্বামী রেগে যাবেন বলেও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
(Feed Source: abplive.com)
