জি ২৪ ডিজিটাল ব্যুরো: ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বাণিজ্য। টানা তিন মাস বন্ধ থাকার পর, ফের বেনাপোল স্থলবন্দর গিয়ে শুরু হল চাল রফতানি। ওপার থেকে ৫১০ টন চাল গেল ওপারে। কবে? গতকাল মঙ্গলবার।
বন্দর সূত্রে খবর, ভারত থেকে ৫১০ টন চাল আমদানি করল বাংলাদেশের হাজী মুসা করিম অ্যান্ড সন্স। ১৪ ট্রাকে করে তাল খালাস করা হল বেনাপোল বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে। বাংলাদেশে এখন চালের দাম আকাশছোঁয়া। দাম নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে বিনা শুল্কে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনূস সরকার।
গত বছরের নভেম্বরে মাসে বেনাপোল থেকে শেষবার চাল গিয়েছিল বাংলাদেশে। তারপর কার্যত বন্ধই ছিল বন্দরটি। বন্দরের পরিচালক মহম্মদ . শামীম হোসেন বলেন, মঙ্গলবার ভারত থেকে ৫১০ টন নন-বাসমতি মোটা চাল বেনাপোল স্থলবন্দরে এসেছে। দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশের ২৩২ সংস্থাকে ভারত থেকে ট দুই লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমোদন দেয় ইউনূস সরকার। মার্চেও ফের সেই চাল বাংলাদশের বাজারে সরবরাহ করার কথা।
ইউনূসের বাংলাদেশে খাদ্য সংকট। ভরসা সেই ভারতই! উত্তরবঙ্গের হিলি সীমান্ত দিয়েও ২ লক্ষ টন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি, নতুন করে ২ লক্ষ মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই খবরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি স্থলবন্দর-কে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, মিল মালিকরা জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকার ২৩২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ২০২৬ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত আমদানির অনুমতি দিয়েছে। দেশের বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মিল মালিকরা আরও জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশ চাল আমদানির কথা জানায়। নতুন দুই লাখ টন চাল সেটির একটি সংযোজন। বন্যায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় মজুদ আবারও আগের জায়গায় আনতে বাংলাদেশ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ টন চাল আমদানি করার উদ্যোগ নিয়েছে।
ভারতীয় চাল রপ্তানি ফেডারেশনের (আইআরইএফ) সভাপতি প্রেম গার্গ বার্তাসংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, “ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশ ভারতের চালের নিয়মিত ক্রেতা। বাংলাদেশ সবসময়কার আমদানিকারক। বাংলাদেশের চাল রপ্তানির প্রাথমিক সুবিধাভোগী হলো অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ীরা।” তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে কাছে হওয়ায় এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে দাম কম হওয়ায় বিষয়টি ভারতীয় ব্যবসায়ীর জন্য সহায়ক। জয় বাবা বাকেশ্বর চাল মিলের পরিচালক রাহুল খৈতান জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ বাজারে চাপের কারণে বাংলাদেশ বেসরকারিভাবে চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
