
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পেশায় দিল্লি পুলিসের সোয়াট কমান্ডো। তাতে কী! অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রীকে ভারী ডাম্বেল দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলল স্বামী! তারপর শ্যালককে ফোন করে বললেন, ‘বাড়িতে এসে দিদির লাশ নিয়ে যা। পারলে আমার কথা রেকর্ড করে রাখিস’। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিস।
রেহাই নেই খোদ পুলিসকর্মীরও। পণের বলি দিল্লি পুলিসের সোয়াট কমান্ডো কাজল চৌধুরী। ২০২২ সালে দিল্লি পুলিসে চাকরি পান তিনি। এরপর নিজের যোগ্য়তায় পুলিশের স্পেশাল সেল সোয়াট শাখার কমান্ডো হন। স্বামী অঙ্কুর চৌধুরী প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কর্মরত। ২০২৩ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু বিয়ের পরিণতি হল মর্মান্তিক।
অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে পণের জন্য শ্বশুরবাড়িতে রীতিমতো মানসিক অত্যাচার শিকার হতে হচ্ছিল কাজলকে। এরপর শুরু হয় শারীরিক অত্যাচার। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, ২০২৪ সাল থেকে আলাদা থাকছিলেন কাজল। কিন্তু সেখানে গিয়েও নাকি স্ত্রীর উপর অত্য়াচার করতেন অঙ্কুর।
গত ২২ জানুয়ারি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। অভিযোগ, বচসার মাঝেই কাজলের উপরে চড়াও হন অঙ্কুর। ভারী ডাম্বেল দিয়ে আঘাত করে মাথায়। গুরুতর আহত অবস্থায় দিল্লি পুলিসের ওই মহিলা কমান্ডোকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। মঙ্গলবার মৃত্য়ু হয় কাজলের।
কাজলের ভাই নিখিলও পেশায় পুলিসকর্মী। দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত তিনি। ঘটনার দিন ভাইকে ফোন করেছিলেন কাজল। নিখিল জানান, ফোনে মারধরের আওয়াজ পেয়েছিলাম। দিদির চিত্কার শুনতে পাচ্ছিলাম। এরপর ফোন কেটে যায়। কিছু ক্ষণ পরেই জামাইবাবুর কাছ থেকে ফোন আসে। ফোন ধরতেই বলে, ‘ওকে মেরে ফেলেছি। এসে লাশ নিয়ে যা’। এরপর দ্বারকা মোড়ে কাজলে বাড়িতে যান নিখিল ও তাঁর পরিবারের লোকেরা। গিয়ে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন কাজল।
দিন কয়েক দিল্লিতে ভরদুপুরে প্রকাশ্য রাস্তায় বছর চুয়াল্লিশের মহিলাকে গুলি করে খুন করেছিল দুষ্কৃতীরা। স্বামীকে খুনের মামলা প্রধান সাক্ষী ছিলেন ওই তিনি। মৃতের নাম রচনা যাদব। দিল্লির শালিমার বাগ এলাকার থাকতেন তিনি। এলাকার রেসিডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (RWA) সভাপতি ছিলেন। ঘড়িতে তখন প্রায় ১১টা। ঘটনার দিন সকালে এক প্রতিবেশীর সঙ্গে দেখা করে ফিরছিলেন। তখন তাঁর পথ আটকায় দুই অভিযুক্ত। একজন নাম জিজ্ঞেস করেন। পরিচয় দেওয়ামাত্রই ওই মহিলার মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে চম্পট দেয় আততায়ীরা। গোটা ঘটনাটি ধরা পড়েছে রাস্তার সিসিটিভি ক্য়ামেরায়। দেখা গিয়েছে অভিযুক্তদেরও।
এদিকে ২০২৩ সালে খুন হন রচনার স্বামী স্বামী বিজেন্দ্র যাদবও। সেই ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে পাঁচজন এখন জেলে। মূল অভিযুক্ত ভারত যাদব ফেরার। মামলাটি এখনও চলছে। মূল সাক্ষী ছিলেন রচনা। তদন্তকারীদের মতে, তাঁকে খুনের ফলে স্বামীর খুনের মামলাটি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। প্রাথমিক তদন্ত অনুমান, রচনার উপর নজর রাখছিল অভিযুক্ত।
(Feed Source: zeenews.com)
