)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ (ICC T20 World Cup 2026) শুরু হতে আর ৮ দিন বাকি। আর তার আগেই ম্যাচ ফিক্সিং কাণ্ডের জেরে নড়ে গেল বাইশ গজ। আমেরিকার ব্যাটার এবং প্রাক্তন অধিনায়ক অ্যারন জোনস (Aaron Jones) বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী নিয়ম ভঙ্গের একাধিক অভিযোগ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC)। মূলত ম্যাচ ফিক্সিং এবং তদন্ত চলাকালীন তদন্তকারীদের সঙ্গে অসহযোগিতা করার অভিযোগ জোনসের বিরুদ্ধে। ট্রাম্পের দেশের ক্রিকেট তারকাকে আপাতত সব রকমের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। বিশ্বকাপ প্রস্তুতির সময়েই আচমকাই ইউএসএ ক্রিকেট বিরাট ধাক্কা খেল।
আইসিসি ও ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ
আইসিসি এবং ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালার অধীনে জোনসের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। বেশিরভাগ অভিযোগই ২০২৩-২৪ মরমুসের বিম১০ (বার্বাডোস টি১০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট) টুর্নামেন্টের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা সিডব্লিউআই-এর এক্তিয়ারে। অন্য দু’টি অভিযোগ আইসিসি কোড দ্বারা পরিচালিত আন্তর্জাতিক ম্যাচের সঙ্গে সম্পর্কিত। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইসিসি নিশ্চিত করেছে যে, জোনসকে নিলম্বিত করা হয়েছে। আইসিসি বলেছে, ‘এই অভিযোগগুলি একটি বৃহত্তর তদন্তের অংশ, যার ফলে যথাসময়ে অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধেও আরও অভিযোগ আনা হতে পারে। জোনসকে অবিলম্বে সব রকমের ক্রিকেট থেকে সাময়িক ভাবে নিলম্বিত করা হয়েছে এবং ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে তাঁকে অভিযোগগুলির জবাব দিতে হবে।’আইসিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই মামলাটি শুধু জোনসেই শেষ নয়। তদন্ত চলতে থাকায় অন্যান্য ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধেও আরও অভিযোগ আনা হতে পারে। আপাতত জোনসের তাৎক্ষণিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
ম্যাচ ফিক্সিং বা অন্যায় ভাবে প্রভাবিত করা!
আইসিসি জানাচ্ছে জোনসের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিং বা অন্যায় ভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা, দুর্নীতিবিরোধী নিয়ম লঙ্ঘনকারী প্রস্তাবের বিষয়ে রিপোর্ট করতে ব্যর্থ হওয়া, তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করা এবং তথ্য গোপন বা বিকৃত করে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলির মধ্যে তিনটি সিডব্লিউআই দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালার অধীনে পড়ে, এবং দুটি আইসিসি বিধিমালার লঙ্ঘনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ৩১ বছর বয়সী জোনস সম্প্রতি ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শ্রীলঙ্কায় প্রশিক্ষণরত ইউএসএ-র ১৮ জনের স্কোয়াডের সদস্য ছিলেন। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে জোনস বিশ্বকাপ দলে নির্বাচনের জন্য অযোগ্য। আমেরিকা যদিও টুর্নামেন্টের জন্য তাদের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেনি।
জোনসের অপরিসীম গুরুত্ব দলে
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আমেরিকান টিমে জোনসের গুরুত্ব বিবেচনা করলে এই ঘটনা বিরাট ধাক্কা। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমেরিকার অধিনায়ক ছিলেন করেছিলেন, যা আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ যৌথ ভাবে আয়োজন করেছিল এবং দলের কয়েকটি স্মরণীয় পারফরম্যান্সে তিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন। জোন্স ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেন এবং তারপর থেকে আমেরিকার হয়ে ৫২টি ওডিআই এবং ৪৮টি টি-টোয়েন্টিআই খেলেছেন। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি কানাডার বিরুদ্ধে ৪০ বলে ৯৪ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেন এবং এরপর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিখ্যাত জয়ে ২৬ বলে অপরাজিত ৩৬ রান করেন, যা তাঁকে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি এনে দেয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়াও, জোন্স সিপিএল, এমএলসি এবং বিপিএল-সহ বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলেছেন। তবে গতবছর এপ্রিলের পর থেকে জোনস আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমেরিকার জার্সিতে মাঠে নামেননি।
(Feed Source: zeenews.com)
