ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যাবে রাষ্ট্রপুঞ্জের? বকেয়া মেটাচ্ছে না কোনও দেশ, গুরুতর অভিযোগ

ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যাবে রাষ্ট্রপুঞ্জের? বকেয়া মেটাচ্ছে না কোনও দেশ, গুরুতর অভিযোগ
নয়াদিল্লি: সদস্য দেশরা কেউ বকেয়া টাকা মেটাচ্ছে না। অর্থনৈতিক ভাবে ধসে পড়ার অবস্থা রাষ্ট্রপুঞ্জের। কোনও জল্পনা-কল্পনা নয়, রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুটারেস খোদ সঙ্কটের কথা জানালেন। জানালেন, ঘোর অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে রাষ্ট্রপুঞ্জ। কাজকর্ম চালানোই মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। হাতে যা টাকা আছে, তাতে মেরেকেটে জুলাই পর্যন্তই চালানো যাবে। (United Nations Financial Collapse)

বকেয়া টাকা চেয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের সদস্য ১৯৩টি দেশকেই চিঠি লিখেছেন গুটারেস। জানিয়েছেন, বাধ্যতামূলক ভাবে প্রত্যেক দেশের টাকা মিটিয়ে দেওয়া উচিত। নইলে রাষ্ট্রপুঞ্জ ভেঙে পড়বে। বিষয়টি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রাপ্য কোটি কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। (UN Crisis)

গুটারেস জানিয়েছেন, আগেও সঙ্কটের মুখে পড়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। কিন্তু বর্তমানে যা পরিস্থিতি, তা অত্যন্ত গুরুতর। ২০২৫ সালে মোট বাজেটের ৭৭ শতাংশই মিলেছে। বকেয়া রয়ে গিয়েছে বিপুল পরিমাণ টাকা। সদস্য দেশগুলি নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে কি না, তার উপরই রাষ্ট্রপুঞ্জের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বলে জানান তিনি। গুটারেস জানিয়েছেন, একটুও বাড়িয়ে বলছেন না তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘হয় সদস্য দেশগুলি নিজেদের দায়িত্ব পালন করুক, সময়ে টাকা মিটিয়ে দিক, নয়ত আর্থিক পতন আটকাতে আর্থিক নিয়মাবলীতে আমূল পরিবর্তন ঘটাক’।

যে সময় রাষ্ট্রপুঞ্জের অর্থনৈতিক সঙ্কটের খবর সামনে এল, তাও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এতদিন রাষ্ট্রপুঞ্জে সবচেয়ে বেশি টাকা ঢালত আমেরিকা। কিন্তু সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার জানিয়ে দিয়েছে, রাষ্ট্রপুঞ্জে নিয়মিত যে টাকা দিত তারা, শান্তিরক্ষা বাজেটে যে টাকা বরাদ্দ করা হতো, এখন থেকে আর তা দেওয়া হবে না। এতকাল ওই খাতে যে টাকা দিত তারা, ২০২৫ সালে তার মাত্র ৩০ শতাংশের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি, রাষ্ট্রপুঞ্জের একাধিক সংস্থা থেকেও নাম তুলে নিয়েছে আমেরিকা। তাদের দাবি, “শুধু শুধু আমেরিকার করদাতাদের টাকা নষ্ট হচ্ছে।” 

আমেরিকার মতো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করলেও, অন্য দেশগুলিও নিজেদের ভাগের টাকা মেটাচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। ব্রিটেন, জার্মানিও নিজেদের অনুদান কমিয়েছে অনেকটাই। ফলে রাষ্ট্রপুঞ্জের কাজকর্ম বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।  ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নিজেদের বাজেটে কিছু পরিবর্তন ঘটায় রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভা। তার পরও সঙ্কট সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। কোনও দেশ থেকেই অনুদান এসে পৌঁছচ্ছে না বলে খবর। জেনিভায় রাষ্ট্রপুঞ্জের সদর দফতরে ইতিমধ্যেই সঙ্কটের কথা মুখে মুখে ফিরছে। টাকা বাঁচাতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে চসমান সিঁড়ি। বন্ধ রাখা হচ্ছে হিটার। অর্থনৈতিক সঙ্কটের কথা জানিয়ে দেওয়ালে দেওয়ালে সাবধানবাণীও ঝোলানো হয়েছে।

এমতাবস্থায় প্রহর গুনতে শুরু করেথেন অনেকেই। কারণ রাষ্ট্রপুঞ্জকে নিয়ে বার বার নিজের অসন্তোষ উগরে দিয়েছেন ট্রাম্প। এমনকি রাষ্ট্রপুঞ্জের বেশ কিছু শাখা একেবারে তুলে দিয়ে নিজের ‘বোর্ড অফ পিস’কে সেই জায়গায় প্রতিস্থাপন করতে চান তিনি, যারা গাজ়ায় ‘শান্তি ফেরানোর’ কাজ করবে’। সত্যিই কি এমন চান তিনি, আমেরিকার Fox TV-র এক সাংবাদিক প্রশ্নও করেন ট্রাম্পকে। জবাবে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বলেন, “হতেই পারে।” গত সপ্তাহে রাষ্ট্রপুঞ্জের World Health Organisation, WHO-ও ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছে আমেরিকা। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের বকেয়াও মেটায়নি। সুদান থেকে পালিয়ে আশা শরণার্থীদের খাদ্যের জোগান দে যে World Food Programme, তার অবস্থাও সঙ্কটে।

(Feed Source: abplive.com)