)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এক চিনা চিকিৎসকের মুখে গুরুতর শিশু নির্যাতনের বিশদ বিবরণ শুনে আঁতকে উঠল নেটপাড়া! ১০ মাসের ফুলের মতো শিশুর ‘দুর্ব্যবহার’-এ তার মা এতটাই অতিষ্ট হয়ে পড়েছিলেন যে, একরত্তির শরীরে ৬০০ বার সূচ ফুটিয়ে শাস্তি দিলেন! সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এই প্রতিবেদন পড়ে, মানুষের মধ্যে একদিকে যেমন চরম ক্ষোভের সূষ্টি হয়েছে, তেমনই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই শিশুর জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়ানোর খবর পেয়েও উদ্বেগ চরমে উঠেছে।
চমকে দেওয়া ভিডিয়ো
সম্প্রতি ডঃ সুই ওয়েনইউয়ান নামের এক স্পাইন সার্জন, অনলাইে ওই শিশুর চিকিৎসা সংক্রান্ত একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। সুই সাংহাই জিয়াও টং ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিনের অধিভুক্ত সিনহুয়া হাসপাতালের স্পাইন সেন্টারে কর্মরত চিকিৎসক। সুই শিশু চিকিৎসাজনিত পরামর্শ দেওয়ার সময়ে এই ভয়াবহ ঘটনার কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান যে, ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর দক্ষিণ-পশ্চিম চিনের ইউনান প্রদেশের পুয়ের শহরে অবস্থিত মোজিয়াং কাউন্টি পিপলস হাসপাতালের শিশু বিভাগে ১০ মাস বয়সী এক শিশুকে ভর্তি করা হয়েছিল তীব্র জ্বর ও কাঁপুনি নিয়ে!
তদন্তে যা জানা গেল
তদন্তের সময়ে সুই জানতে পারেন যে, যখনই শিশুটি মায়ের সঙ্গে ‘দুর্ব্যবহার’ করত! বাচ্চাটির সর্দি, কাশি বা জ্বরের সময়ে মা তাকে সূচ ফুটিয়ে রক্তাক্ত করতেন। মায়ের পদবি দাও, তিনি ওই শিশুকে শাস্তি হিসেবে চিনের ঐতিহ্যবাহী ঘরোয়া প্রতিকার দিতেন। ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ বার সূচ ফোটানো হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাটিতে, দাও জুতো সেলাইয়ের জন্য ব্যবহৃত এক সূঁচ দিয়ে শিশুটির ঘাড়ে ফুটিয়ে দিয়েছিলেন। সূচটি ভেঙে যায় এবং এর সূচের ডগা ঘাড়ের মেরুদণ্ডে আটকে যায়। যার জন্য শিশুটিকে অস্ত্রোপচার করাতে হয়।
কেন শিশুর জ্বর?
দাও এবং তার স্বামীর সম্পর্কিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। সুই বলেছেন যে, অস্ত্রোপচারটি অত্যন্ত কঠিন ছিল, কারণ বাবা-মা সূচটির আকার বা তাতে কাঁটা ছিল কিনা, তা সঠিকভাবে বর্ণনা করতে পারেননি এবং ভুল দিকে এটি অপসারণ করলে চারপাশের টিস্যুর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারত। ডঃ সুই জানান, যাবতীয় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর সেদিনই সফল ভাবে অস্ত্রোপচার হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, সূচে সম্ভবত জং থাকার কারণে শিশুটির প্রচণ্ড জ্বর হয়েছিল। কিন্তু অস্ত্রোপচারের তিন-চার দিন পর তার তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং তাকে আইসিইউ থেকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।
মায়ের শিক্ষা কম
গত ২১ জানুয়ারি জননিরাপত্তা ব্যুরো, স্বাস্থ্য কমিশন, বেসামরিক বিষয়ক বিভাগ এবং মহিলা ফেডারেশনের সমন্বিত তদন্ত দল এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে। তদন্তের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, শিশুটির শরীরে থাকা সূচের ক্ষতগুলি হয়েছে তার মায়ের ঐতিহ্যবাহী সূচ-চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করে সারানোর চেষ্টার সময় । তদন্তে জানা যায় যে, দাওয়ের শিক্ষা কম ছিল, তার বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের অভাব ছিল এবং তার মধ্যে মানসিক উদ্বেগের লক্ষণও দেখা গিয়েছিল। যদিও চিনে শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইন রয়েছে, তবে দাওয়ের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
(Feed Source: zeenews.com)
