১২ ফেব্রুয়ারি ভোট পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসাবে ভারতকে আমন্ত্রণ বাংলাদেশের

১২ ফেব্রুয়ারি ভোট পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসাবে ভারতকে আমন্ত্রণ বাংলাদেশের
ঢাকা : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। এই উপলক্ষ্যে ভারতকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে পড়শি দেশের অন্তর্বর্তী সরকার। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসাবে ভোট পর্যবেক্ষণের জন্য ভারতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্য উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। এক বিবৃতিতে তিনি লেখেন, ‘আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষ্যে ৩৩০ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক আসার কথা নিশ্চিত করেছে। আমন্ত্রিত দেশগুলির মধ্যে যারা এখনও তাদের প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়ে নিশ্চিত করেনি সেগুলি হল-ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মিশর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া ও রোমানিয়া।’ এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশ-নীতি সংক্রান্ত উপদেষ্টা মহম্মদ তৌহিদ হোসেন।

শেখ হাসিনা পরবর্তী অস্থির সময়ে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন। এতদিন সেই সরকারই দেশ পরিচালনা করছে। যার নেতৃত্বে রয়েছেন মহম্মদ ইউনূস। তারপর থেকে বেশ কিছুদিন ধরে সেখানে নির্বাচিত সরকারের দাবি উঠছিল। এই পরিস্থিতিতে গত বছর ডিসেম্বর মাসে নির্বাচনের ঘণ্টা বাজে বাংলাদেশে। দিনক্ষণ ঘোষণা করে সে দেশের কমিশন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বাংলাদেশে নির্বাচন হতে চলেছে বলে জানিয়ে দেন বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। বাংলাদেশে মোট ভোটার ১২৭.৬ মিলিয়ন। বিদেশি বসবাসকারী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। বাংলাদেশের ৩০০ কেন্দ্রে ভোট পরিচালিত হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে রাজনৈতিক জনাদেশ নিয়ে সরকারে ফেরার পথে এটি অন্যতম বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এর আগে ২০২৬-এর এপ্রিল মাসে নির্বাচন করানোর পরিকল্পনা করেছিলেন ইউনূস। কিন্তু, দ্রুত নির্বাচন করানোর জন্য তাঁর উপর ভিতর এবং বাইরে থেকে ক্রমাগত চাপ ছিল। এই পরিস্থিতিতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঘোষণা করা হয়।

গত বছর বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ইউনূস। কিন্তু নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ক্ষমতায় আসার পরও স্থিতাবস্থা ফেরেনি বাংলাদেশে। বরং সাম্প্রদায়িক হিংসা, লুঠপাট চরমে ওঠে। ঘরে-বাইরে প্রবল চাপের মুখে পড়ে একসময় নাকি কুর্সি ছাড়তে চেয়েছিলেন মহম্মদ ইউনূস। তা নিয়ে কিছুদিন টানাপোড়েন পর্ব মিটিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদেই বহাল থাকেন নোবেলজয়ী। কিন্তু, তাঁর সিংহাসনে যে কাঁটা বিছানো, তা বিলক্ষণ বুঝেছেন তিনি। কারণ, গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে কার্যত ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। চাপ বাড়াতে থাকে খালেদা জিয়ার বিএনপি-ও।

(Feed Source: abplive.com)