Baloch Woman ‘Fidayeen’ IED Attacks: নীল সালোয়ার-কামিজ, মোহময়ী হাসি! জাস্ট খেলার ছলে ২০০ পাক-সেনা ওড়ালেন দুই সুন্দরী! ফিদায়েঁ জঙ্গিহানার অবিশ্বাস্য VDO…

Baloch Woman ‘Fidayeen’ IED Attacks: নীল সালোয়ার-কামিজ, মোহময়ী হাসি! জাস্ট খেলার ছলে ২০০ পাক-সেনা ওড়ালেন দুই সুন্দরী! ফিদায়েঁ জঙ্গিহানার অবিশ্বাস্য VDO…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বালুচিস্তানে দীর্ঘদিনের ধিকিধিকি আগুন-জ্বলা বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন এখন এক ভয়াবহ ও চরম রূপ ধারণ করেছে। সশস্ত্র সংগঠন ‘বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি’ (BLA) গত কয়েক দিন ধরে ওই প্রদেশজুড়ে তাদের সুপরিকল্পিত ‘অপারেশন হেরোফ’ (Operation Herof)-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের ডাক দিয়ে যে তাণ্ডব চালিয়েছে, তাতে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। এই অভিযানের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক হলো—বিদ্রোহের সামনের সারিতে শিক্ষিত নারী ও তরুণ প্রজন্মের বলিষ্ঠ উপস্থিতি। এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি’ (BLA)। ভিডিয়োটিতে একজন নারী ‘ফিদায়েঁ’ বা আত্মঘাতী হামলাকারীকে হাসিমুখে রাইফেল চালাতে এবং পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের বার্তা দিতে দেখা গিয়েছে।

ভিডিয়োর প্রেক্ষাপট ও হাওয়া বালুচের বার্তা

ভিডিয়োটি বিএলএ-র ‘অপারেশন হেরোফ’ (Operation Herof)-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের সময় ধারণ করা হয়েছে। ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, হাওয়া বালুচ একটি লাল-নীল কুর্তা এবং বিএলএ লোগো দেওয়া বেসবল ক্যাপ পরে রাইফেল হাতে গুলি ছুড়ছেন। ভিডিয়োটি তাঁর মৃত্যুর মাত্র ১২ ঘণ্টা আগে রেকর্ড করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

ভিডিয়োতে তাঁকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে শোনা যায়, ‘আজ আনন্দের দিন। আজ আমরা শত্রুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছি। আমরা তাদের দেখিয়ে দেব যে, বালুচ মায়েরা ও বোনেরা পিছিয়ে নেই।’ যখন তাঁকে যুদ্ধের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি হাসিমুখে উত্তর দেন, ‘যুদ্ধ বেশ মজার।’ তাঁর এই আত্মবিশ্বাস ও হাসিমুখে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার মানসিকতা বিশেষজ্ঞদের ভাবিয়ে তুলছে। এই ভিডিয়োটি সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় ফেলেছে।

নারী ও শিক্ষিত যুবকদের অংশগ্রহণ: বদলে যাওয়া প্রেক্ষাপট

হাওয়া বালুচ, তাঁর বাবাও ২০২১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে প্রাণ হারান। হাওয়া কেবল আবেগতাড়িত হয়ে এই পথে পা বাড়াননি, বরং তিনি ছিলেন একজন শিক্ষিত তরুণী। বিশেষজ্ঞদের মতে, বালুচিস্তানে বিদ্রোহের ধরনে এক বিশাল পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে কেবল উপজাতীয় প্রধানরা বা পাহাড়ি বিদ্রোহীরা লড়াই করত, এখন সেখানে ‘জেনারেশন জেড’ (Gen Z) বা বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা যোগ দিচ্ছে। হাওয়া বালুচ নিজেই একজন শিক্ষিত নারী ছিলেন, যার বাবাও ২০২১ সালে সামরিক বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে নিহত হন।

হাওয়া বালুচ ছাড়াও আসিফা মেঙ্গল নামে আরেক নারী ফিদায়েঁ এই অভিযানে অংশ নেন। আসিফা গত শুক্রবার নোশকির আইএসআই (ISI) সদর দপ্তরে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালান। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও স্বীকার করেছেন যে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে অন্তত দুজন নারী জড়িত ছিলেন। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীদের এই চরমপন্থী পথে পা বাড়ানো প্রমাণ করে যে, বেলুচিস্তানের অসন্তোষ এক নতুন ও গভীরতর মাত্রায় পৌঁছেছে।

অপারেশন হেরোফ: ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র

বিএলএ-র দাবি অনুযায়ী, ‘অপারেশন হেরোফ’ শুরু হওয়ার পর ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সংঘর্ষ চলেছে। বিএলএ মুখপাত্র জীয়ান্দ বেলুচ দাবি করেছেন যে, মস্তুং, খারান, পাসনি এবং তুম্পের মতো এলাকাগুলোতে তারা সফল অভিযান শেষ করেছে এবং কোয়েটা ও নোশকিতে পাকিস্তানি বাহিনীকে প্রতিহত করেছে। গত কয়েকদিনের সংঘর্ষে ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া গিয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, পাল্টা অভিযানে শতাধিক বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, বিএলএ দাবি করেছে যে তারা কয়েকশ পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে, যদিও নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে এই সংখ্যার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

দাবি ও পাল্টা দাবির সংক্ষিপ্ত তালিকা:

বিএলএ-র দাবি: তারা ২০০-র বেশি পাকিস্তানি সেনা ও পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে এবং ১৭ জনকে বন্দী করেছে। তাদের নিজেদের ১৮ জন যোদ্ধা (১১ জন ফিদায়েঁসহ) নিহত হয়েছে।

পাকিস্তান সরকারের তথ্য: মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানিয়েছেন, ১৭ জন নিরাপত্তা কর্মী এবং ৩১ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন।

সামরিক বাহিনীর দাবি: পাল্টা অভিযানে ১৩৩ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে।

বেসামরিক প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি

সংঘাতের মাঝে বিএলএ-র রণকৌশলে এক ধরনের ‘মানবিক প্রচারণার’ চেষ্টা দেখা গেছে। নোশকির ডেপুটি কমিশনার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারকে আটক করার পর তারা সসম্মানে ছেড়ে দেয়। বিএলএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশ যদি তাদের পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, তবে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে যারা ‘দখলদার’ সেনাবাহিনীকে সাহায্য করবে, তাদের পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

কেন এই দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা?

বালুচিস্তান পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ হলেও এটি সবচেয়ে জনবিরল এবং অনুন্নত। এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ যে, তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ (যেমন গ্যাস ও খনিজ দ্রব্য) পাকিস্তান সরকার লুট করছে, কিন্তু বিনিময়ে স্থানীয়রা কোনো উন্নয়ন পাচ্ছে না। রাজনৈতিক বঞ্চনা, গুম বা নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ থেকে এই সশস্ত্র বিদ্রোহের জন্ম। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC) প্রকল্পের বিরোধিতাও এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

বালুচিস্তান পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ হলেও, এটি সবচেয়ে অনুন্নত ও বঞ্চিত। এই দীর্ঘস্থায়ী বিদ্রোহের পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে:

১. সম্পদ লুণ্ঠনের অভিযোগ: বেলুচিস্তানের প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ সম্পদ থেকে প্রাপ্ত আয় স্থানীয়দের উন্নয়নে ব্যয় না করে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ে যাচ্ছে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ।

২. মানবাধিকার লঙ্ঘন: গত কয়েক দশকে হাজার হাজার বেলুচ যুবক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা (Enforced Disappearances) সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা তৈরি করেছে।

৩. সিপেক (CPEC) প্রকল্পের বিরোধিতা: চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্পে স্থানীয়দের স্বার্থ উপেক্ষিত হওয়ায় বিএলএ চিনা বিনিয়োগ ও স্থাপনাগুলোতে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে।

ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ

হাওয়া বালুচ বা আসিফা মেঙ্গলদের এই আত্মঘাতী প্রবণতা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক গভীর সংকটের সংকেত। এটি কেবল পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যা নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকিস্বরূপ। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে শিক্ষিত নারীদের এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, কেবল সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে এই রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতা এবং তথ্যের অসঙ্গতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সামনের দিনগুলোতে এই অস্থিরতা পাকিস্তানের অর্থনীতি এবং বিশেষ করে বৈদেশিক বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেলুচিস্তানের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত এখন আর কেবল পাহাড়ি লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন শিক্ষিত সমাজের একটি বড় অংশের ‘মরো কিংবা বাঁচো’ লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

হাওয়া বালুচের এই ভিডিয়োটি কেবল একটি যুদ্ধের দৃশ্য নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক গভীর সংকটের সংকেত। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষিত নারীদের এই আত্মঘাতী প্রবণতা পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএলএ-র দাবি এবং পাকিস্তানি সরকারের সামরিক অভিযানের মাঝে সাধারণ মানুষের জীবন এখন গভীর সংকটের মুখে।

(Feed Source: zeenews.com)