কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে বড় পদক্ষেপ ভারতের, বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ কমল বাজেটে

কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে বড় পদক্ষেপ ভারতের, বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ কমল বাজেটে
নয়াদিল্লি : শেখ হাসিনার পরবর্তী সময়ে ভারত-বিদ্বেষ বেড়েছে ওপার বাংলায়। ভারতের উদ্দেশে হুমকি-হুঁশিয়ারি বাদ যায়নি কিছুই। কূটনৈতিক সম্পর্কও খারাপ হয়েছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হিংসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহম্মদ ইউনূস সরকারের সঙ্গে চাপান-উতোর বেড়েছে ভারতের। তার পরেও কমেনি হিংসার ঘটনা। প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। অন্যদিকে, ঢাকার বিদেশ নীতিতে এখন অনেক বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার ঝোঁক বেড়েছে ইউনূস সরকারের। এই আবহে বড় পদক্ষেপ ভারতের। এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ তাৎপর্যপূর্ণভাবে কমিয়ে দিল ভারত। প্রতিবেশী দেশের জন্য এবার বাজেটে ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যা গত আর্থিক বছরের তুলনায় অর্ধেক। গতবার বাংলাদেশের জন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবারই, কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক রাজ্যসভায় জানিয়েছিল যে, সরকার বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের রিপোর্টে নজর রাখছে। সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, সম্পত্তি, ব্যবস্থা ও ধর্মীয় স্থানে হামলার ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিংহ বলেছিলেন, “ভারত ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উভয় স্তরেই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি উত্থাপন করেছে। ৪ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন।”

অন্যদিকে, বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসন সক্রিয়ভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। ২০২৪ সালে, ইউনূস মিশরে একটি সম্মেলনের ফাঁকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে দেখা করেন এবং বলেন যে, তিনি ১৯৭১ সালে ইসলামাবাদ থেকে ঢাকার রক্তাক্ত বিচ্ছেদের ফলে সৃষ্ট অমীমাংসিত বিষয়গুলির সমাধান করতে চান। শেহবাজ শরিফ জবাবে বলেছিলেন যে, ইউনূসের সঙ্গে তাঁর “উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ মত বিনিময়” হয়েছে। এরপর থেকে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ উভয় পক্ষ কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ায় সম্মত হয়েছে। উভয় দেশ জারি থাকা যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন (জেইসি) পুনরুজ্জীবিত করতে এবং উভয় দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা অন্বেষণের জন্য একটি নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশন গঠনে সম্মত হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে শেষ জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশনের মিটিং হয়েছিল ২০০৫ সালে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করছে এবং আগামী দিনে পাকিস্তানি বিমান সংস্থা ফ্লাই জিন্নাহ এবং এয়ার সিয়ালের সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে, যারা সরাসরি ফ্লাইট চালু করার ছাড়পত্র পেয়েছে।

(Feed Source: abplive.com)