US Iran Tension: ইরানি ড্রোনকে গুলি করে নামল আমেরিকা, ট্রাম্প বললেন…

US Iran Tension: ইরানি ড্রোনকে গুলি করে নামল আমেরিকা, ট্রাম্প বললেন…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইরানের নাকের ডগায় মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন। আর সেই রণতরীর দিকে একটি ইরানি ড্রোন চলে আসায় তাকে গুলি করে নামাল মার্কিন ফাইটার জেট। আমেরিকার দাবি, অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে ড্রোনটি এগিয়ে আসছিল।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, ইরানের একটি ড্রোন জাহাজের দিকে ধেয়ে আসায় তাকে ধ্বংস করেছে একটি এফ ৩৫ ফাইটার জেট। এতে আমেরিকার কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এদিকে, ওই ড্রোনটি ধ্বংসের কয়েক ঘণ্টা পর হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজকে তাড়া করে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড।

আমেরিকা বারবার ইরানকে যুদ্ধের ভয় দেখাচ্ছিল। ইরানও জানিয়ে দিয়েছিল, হামলা হলে তারা মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজগুলোতে পাল্টা আক্রমণ করবে। দুপক্ষের এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই এখন তারা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করতে রাজি হয়েছে।

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে আমেরিকা ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে বোমা হামলা চালিয়েছিল। এরপর ইরানে সরকার বিরোধী আন্দোলনে যখন ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হয়, তখন আমেরিকা ওই অঞ্চলে তাদের একটি শক্তিশালী নৌ-বহর (রণতরী) মোতায়েন করে। আগামী শুক্রবার আলোচনার দিন ঠিক হয়েছে। ট্রাম্প আলোচনার কথা বললেও সামরিক হামলার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো প্রকার হুমকি বা ভয়ভীতি ছাড়া পরিস্থিতি তৈরি হলেই কেবল এই আলোচনা সামনে এগোবে।

গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, “সাহায্য আসছে।” সম্প্রতি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কোনো চুক্তি না হলে “খুব খারাপ কিছু” ঘটবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তিনি আলোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে শর্ত হলো—কোনো হুমকি বা অযৌক্তিক প্রত্যাশা থাকা চলবে না। আলোচনা হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে। ওমান, তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ আলোচনার আয়োজন করতে চাইলেও ভেন্যু বা সময় নিয়ে ইরান চিন্তিত নয়।

উল্লেখ্য, আমেরিকা মনে করে ইরান পরমাণু বোমা বানাতে চায়, কিন্তু ইরান বলছে তারা কেবল গবেষণার জন্য এটি করছে। আমেরিকা চায় ইরান যেন তাদের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বন্ধ করে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সাহায্য করা থামায়। তবে ইরান বলছে, তারা কেবল পারমাণবিক ইস্যু নিয়েই কথা বলবে, প্রতিরক্ষা বা ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে নয়।

একদিকে যখন আলোচনার কথা চলছে, অন্যদিকে সমুদ্রে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত মঙ্গলবার ‘স্টেনা ইম্পারেটিভ’ নামের একটি আমেরিকান পতাকাবাহী তেলের ট্যাঙ্কারকে ইরানের গানবোট এবং ড্রোন ঘিরে ধরে আটক করার হুমকি দেয়। খবর পেয়ে একটি মার্কিন রণতরী আকাশপথের সাহায্য নিয়ে ট্যাঙ্কারটিকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে যায়।

ইরানের সংবাদ সংস্থা বলছে, একটি জাহাজ তাদের জলসীমায় ঢুকে পড়েছিল, তাই তারা সতর্ক করে সেটিকে তাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ একটি সংস্থা জানিয়েছে, জাহাজটি ইরানের জলসীমায় ঢোকেনি।

(Feed Source: zeenews.com)