জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিশ্বব্যাপী পরিবেশের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সিগারেটের বাট বা সিগারেটের ফেলে দেওয়া অংশ। রাস্তাঘাট, পার্ক এবং ড্রেনে ফেলে দেওয়া ওইসব অংশ জল ও জমিকে উভয়কেই মারাত্মক দূষিত করে দিচ্ছে। ওই বাটগুলিতে সেলুলোজ অ্যাসিটেট নামক একটি প্লাস্টিক থাকে। বহু বছর ধরে যা নষ্ট হয় না। ধীরে ধীরে মাটি বিষাক্ত উপাদানে ভরে দেয়। মাটির সঙ্গে মিশে যায় হেভি মেটাল। কিন্তু এখানেই ভেলকি দেখিয়ে দিয়েছেন চিনা বিজ্ঞানীরা। ওইসব বর্জ্যকে তাঁরা তৈরি করে ফেলেছেন এক দামি জিনিসে। একসময় যাকে বিপজ্জনক বলে মনে হত এখন তা মানুষের কাছে শক্তি।
বিশ্বজুড়ে সিগারেটের ফেলে দেওয়া অংশ বা ‘বাট’ থেকেই চিনের হেনান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক তৈরি করে ফেলেছেন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘সুপার-ক্যাপাসিটর’ বা শক্তি সঞ্চয়কারী ডিভাইস। এই বিপজ্জনক বর্জ্যকে “উন্নত ন্যানোপোরাস কার্বন ইলেকট্রোডে” রূপান্তরিত করেছেন। এই ইলেকট্রোডগুলিকে শক্তি সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে। গবেষকদের মতে,এগুলি থেকে তৈরি ডিভাইসগুলি উচ্চ শক্তি ঘনত্ প্রদান করে। দীর্ঘ সময় ধরে এগুলি স্থিতিশীলও থাকে।
গবেষণার সময়, সিগারেটের বাটগুলিকে প্রায় ৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গরম করা হয়। এরপর বিশেষ একটি রাসায়নিক দিয়ে ঘন কার্বন কণাগুলিকে খুলে ফেলা হয়। এতে ওইসব কণাগুলি দানাদার রাসায়নিকে পরিণত হয়। তাতেই তৈরি হয়ে যায় মৌচাকের মতো কাঠামো। ওই কাঠামোতে নাইট্রোজেন এবং অক্সিজেন যোগ করার ফলে এর তরিত্ পরিবহনের ক্ষমতা আরও বেড়ে যায়। এর ফলে উপাদানটি আরও বেশি চার্জ সঞ্চয় করতে সক্ষম হয়।
নতুন এই উপাদানটির মূল শক্তি হল এর স্থায়িত্ব। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি ১০,০০০ বার চার্জ এবং ডিসচার্জ করার পরেও এর ক্ষমতার ৯৫ শতাংশেরও বেশি ধরে রাখে। এর অর্থ হল এটি একটি সাধারণ স্মার্টফোন ব্যাটারির মতো দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না, বরং দীর্ঘস্থায়ী হয়। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এটি একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যাপাসিট্যান্স।
এই প্রযুক্তি ইলেকট্রিক গাড়ি দ্রুত চার্জ করতে, পাওয়ার গ্রিড স্থিতিশীল রাখতে এবং স্মার্টফোনের মতো পোর্টেবল গ্যাজেটগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। সহজ কথায়, যা আগে ছিল পরিবেশের জন্য বোঝা, বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টায় তা এখন ভবিষ্যতের জ্বালানি প্রযুক্তির একটি সস্তা ও কার্যকর উপাদানে পরিণত হতে চলেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
