জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বহু টালবাহানার পর ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করেছে আমেরিকা। এর জেরে ভারতীয় পণ্যের উপর থেকে কর হ্রাস করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্পের দাবি ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনবে না। তবে ভারতের তরফে এমন কোনও কথা শোনা যায়নি।
দুদেশের এই চুক্তির মূল বিষয়গুলো হল, উভয় দেশ একে অপরের বাজারে পণ্য বিক্রির আরও বেশি সুযোগ পাবে। পণ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও উন্নত করা হবে।
চুক্তির ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন যে, ১৮% শুল্কের বিনিময়ে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করবে। এছাড়া ভারতীয় বাজারে আমেরিকান পণ্যের ওপর কোনো শুল্ক থাকবে না এবং ভারত ৫০০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের আমেরিকান পণ্য কিনবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চুক্তির ফলে ভারতের শ্রমনির্ভর রপ্তানি খাতগুলো, যেমন পোশাক, চামড়া, গয়না, খেলনা এবং আসবাবপত্র—আমেরিকান বাজারে বড় ধরনের সুবিধা পাবে। ভারতের জন্য নির্ধারিত ১৮% শুল্ক হার মূলত দেশটির ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোর জন্য উপকারী হবে। কারণ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় ভারতের শুল্ক কম।
কী রয়েছে চুক্তিতে
১. উভয় দেশ ব্যবসার পথে থাকা কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে কাজ করবে।
২. ভারত আমেরিকার চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং তথ্য-প্রযুক্তি পণ্যের লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
৩. আগামী ৫ বছরে ভারত আমেরিকা থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কেনার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি শক্তি, বিমান, দামি ধাতু, প্রযুক্তি পণ্য এবং কয়লা।
৪. দুই দেশ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াবে, বিশেষ করে ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত ‘গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট’এর ব্যবসা আরও সম্প্রসারিত হবে।
৫. ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক নিয়ম দূর করে আধুনিক নিয়ম তৈরির জন্য দুই দেশ একমত হয়েছে।
৬. পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং অন্য কোনো দেশের প্রভাব এড়াতে দুই দেশ একে অপরকে সহযোগিতা করবে।
৭. যদি কোনো দেশ শুল্কের নিয়মে পরিবর্তন আনে, তবে অন্য দেশও তাদের প্রতিশ্রুতি বা চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করার অধিকার রাখবে।
৮. ভারত আমেরিকার সব ধরনের শিল্পজাত পণ্যের ওপর শুল্ক তুলে নেবে বা কমিয়ে দেবে। এছাড়া আমেরিকার কৃষি পণ্য যেমন বাদাম, ফল, সয়াবিন তেল, মদ এবং পশুখাদ্য আমদানিতেও শুল্ক কমাবে।
৯. আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের ওপর ১৮% শুল্ক ধার্য করবে । এর আওতায় থাকবে পোশাক, চামড়া, প্লাস্টিক, রাসায়নিক ও হস্তশিল্প। তবে দুই দেশের চূড়ান্ত চুক্তি সফল হলে জেনেরিক ওষুধ, হীরা ও বিমানের যন্ত্রাংশের ওপর থেকে এই শুল্ক সরিয়ে নেওয়া হবে।
১০. জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আগে আমেরিকা ভারতীয় ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর যে কড়াকড়ি করেছিল, তা বিমানে যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে শিথিল করা হবে। গাড়ি তৈরির যন্ত্রাংশেও ভারত বিশেষ সুবিধা পাবে।
(Feed Source: zeenews.com)
