Sri Lanka Sends Message To Pakistan: ‘২০০৯ লাহোর অ্যাটাক!’ বেইমানদের ঘরে ডেকে ইন্ডিয়া ইস্যুতে চরম হুঁশিয়ারি রাবণের দেশের, ইন্ডিয়া ম্যাচ বয়কট করলেই…

Sri Lanka Sends Message To Pakistan: ‘২০০৯ লাহোর অ্যাটাক!’ বেইমানদের ঘরে ডেকে ইন্ডিয়া ইস্যুতে চরম হুঁশিয়ারি রাবণের দেশের, ইন্ডিয়া ম্যাচ বয়কট করলেই…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) অংশ নিচ্ছে পাকিস্তান। তবে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে এখনও অনড় সেই দেশের সরকার। ভাতৃসম বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ১৫ ফেব্রুয়ারি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিরুদ্ধে কলম্বোয় গ্রুপ পর্যায়ে ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান। এই মুহূর্তে পাকিস্তান দল রয়েছে শ্রীলঙ্কায়। পুরো বিশ্বকাপই তারা এই দেশে খেলবে। ইন্ডিয়া ম্যাচ বয়কট ইস্যুতে এবার রম হুঁশিয়ারি রাবণের দেশের। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ অনুষ্ঠিত না হলে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) টিকিট বিক্রির বিরাট টাকা খোয়াবে। এই মর্মেই এবং অতীত মনে করিয়ে শ্রীলঙ্কা লম্বা চিঠি দিল পাকিস্তানকে।

শ্রীলঙ্কার চিঠি পাকিস্তানকে

এক সর্বভারতীয় মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে দেওয়া চিঠিতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড লিখেছে,  ‘আমরা সাম্প্রতিক মিডিয়া প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপনাদের এই চিঠি লিখছি। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত পিসিবি-র অবস্থান সম্পর্কে অবগত। প্রতিবেদনগুলি থেকেই জানা যায় যে, পিসিবি নিশ্চিত করেছে যে তাদের জাতীয় দল এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে এবং পাকিস্তানের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে। এর সঙ্গে এও জানতে পেরেছি যে,  ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর আর প্রেমাদাসা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আমরা জানাতে চাই যে, শ্রীলঙ্কা এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কাকে বরাদ্দকৃত ম্যাচগুলির আয়োজক দেশ হিসেবে। এই ম্যাচগুলির জন্য সমস্ত বাণিজ্যিক, অপারেশনাল, লজিস্টিক এবং নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত। এর মধ্যে আতিথেয়তা পরিকল্পনা এবং ম্যাচের টিকিট বিক্রিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’ শ্রীলঙ্কা এই চিঠিতেই ‘২০০৯ লাহোর অ্যাটাক’ মনে করিয়ে দিয়েছে।

‘২০০৯ লাহোর অ্যাটাক’

২০০৯ সালের ৩ মার্চ ছিল ক্রিকেটের কালো দিন। সেদিন লাহোরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনের টেস্ট ছিল। শ্রীলঙ্কার টিম বাস যখন স্টেডিয়ামে ঢুকতে যায়, তখনই ১২ জন বন্দুকধারী বাসে হামলা চালিয়েছিল। শ্রীলঙ্কা দলের ছ’জন সদস্য আহত হয়েছিলেন এবং ছ’জন পাকিস্তানি পুলিস ও দু’জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। হামলাটি লস্কর-ই-ঝংভি করেছিল বলেই মনে করা হয়। এই ঘটনার পর পাকিস্তানে দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বন্ধ ছিল। এই ঘটনার পর পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চর্চা শুরু হয়েছিল এবং পাকিস্তান বহু বছর হোম ম্যাচ বিদেশে (যেমন আমিরশাহীতে) আয়োজন করতে বাধ্য হয়। লাহোর হামলার পর পাকিস্তানে সফরকারী প্রথম কয়েকটি দলের মধ্যে ছিল শ্রীলঙ্কাই। চিঠিতে শ্রীলঙ্কা আরও উল্লেখ করেছে যে, ২০২৫ সালে ইসলামাবাদে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর কিছু খেলোয়াড় দেশে ফিরতে চাইলেও, শ্রীলঙ্কা সফরটি সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

পাকিস্তানকে মনে করিয়ে দিল শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কার এই প্রসঙ্গে লিখেছে , ‘এই প্রেক্ষাপটে আমরা সম্মানের সঙ্গেই স্মরণ করতে চাই যে, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট এবং শ্রীলঙ্কা জাতীয় দল বেশ কয়েকবার পাকিস্তান সফর করেছে এবং অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও সংবেদনশীল পরিস্থিতি, এমনকী গুরুতর নিরাপত্তাজনিত ঘটনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলিতে অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল জাতীয় দলের কনভয়ে হামলা, যার ফলে শ্রীলঙ্কার কিছু খেলোয়াড় ও কর্তা আহত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আজও সেই আঘাতের শারীরিক ক্ষতি বহন করছেন, এবং অন্যরা গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক আঘাত পেয়েছেন। আরও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিতে, ওই অঞ্চলে বোমা হামলা-সহ আরও কিছু নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনা দলের সদস্যদের উপর অতিরিক্ত মানসিক ও পেশাগত চাপ সৃষ্টি করেছিল, যার ফলে কেউ কেউ দেশে ফেরার কথা ভাবতে বাধ্য হয়েছিলেন। এই পরিস্থিতিগুলির ভয়াবহতা সত্ত্বেও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট, শ্রীলঙ্কা সরকারের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি তাদের সমর্থনে অবিচল থেকেছে এবং খেলাটির বৃহত্তর স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক সংহতির জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে। এমন এক সময়ে যখন অন্যান্য বেশ কয়েকটি ক্রিকেট খেলিয়ে দেশ পাকিস্তানে সফর করতে দ্বিধাগ্রস্ত বা অনিচ্ছুক ছিল।’

(Feed Source: zeenews.com)