
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইন্ডিয়া ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে পাকিস্তানের আচমকাই ইউ-টার্ন! আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারতের সঙ্গে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলতে রাজি তারা। এমনটাই রিপোর্ট একাধিক মিডিয়ার। গত রবিরার ৮ ফেব্রুয়ারি লাহোরে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছিল পিসিবি-বিসিবি ও আইসিসি। বৈঠকে ছিলেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি, আইসিসি-র ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খোয়াজা, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তাঁদের সঙ্গে আইসিসি সিইও সঞ্জোগ গুপ্তও জুড়েছিলেন ভার্চুয়ালি। বৈঠকের পরেই সুর নরম করেছিল পাকিস্তান। যদিও তারা ৩ শর্তের দাবি জানিয়ে ছিল। পর্দার আড়ালের আলোচনার পরেই ক্রিকেটের অন্যতম হাই-প্রোফাইল ম্যাচের রাস্তা খুলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
অবশেষে ভারত-পাক
কয়েক সপ্তাহ ধরে জল্পনা-কল্পনার পর পাকিস্তান অবশেষে বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে বেসরকারি ভাবে রাজি হয়েছে। যা ১৮০-ডিগ্রি পরিবর্তন। সূত্রের মতে, বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত গোপন আলোচনার পরেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। আইসিসি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি যাতে অনুষ্ঠিত হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রথম থেকেই আগ্রহী ছিল। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারত-পাক ম্যাচ বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবেই বছরের পর বছর বিবেচিত হয়ে আসছে। বিপুল সংখ্যক দর্শক এই ‘মাদার অফ অল ব্যাটল’ দেখে । জানা গিয়েছে, আইসিসি টুর্নামেন্টের সময়সূচি এবং বাণিজ্যিক কাঠামোতে কোনও ব্যাঘাত রোধ করতে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে নীরবে কাজ করেছে
আইসিসি-র চুক্তি ও আর্থিক নিশ্চয়তা
আইসিসি যদিও মহারণ আয়োজনের মঞ্চ প্রস্তুত করতে বিস্তর দাবিদাওয়া মিটিয়েছে। বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চলেছে এবং ভবিষ্যতে দেশটি একটি মহিলা বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারে কিনা, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। ত্র মারফত জানা যাচ্ছে, পাকিস্তানের আইসিসি রাজস্বের অংশ বাড়ানোর প্রস্তাবও বিবেচনা করে দেখছে। এই পদক্ষেপটি বড় গ্লোবাল ইভেন্টগুলির আগে সম্পর্ক স্থিতিশীল করা এবং সহযোগিতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে, রাজস্ব পুনঃবন্টনের যে কোনও সিদ্ধান্তের জন্য আইসিসি-র আর্থিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেটে সায় নেই
আইসিসি একাধি দাবি মেনে নিলেও, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেটের বিষয়টিতে স্পষ্ট সীমারেখা টেনেছে। এই নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পুনরায় শুরু করার জন্য পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের আহ্বানে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে। কর্মকর্তারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততা ব্যক্তিগত বোর্ডগুলির নিজস্ব বিষয়। বিসিসিআই তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে এবং নীতি পরিবর্তনের কোনও ইঙ্গিত নেই। আপাতত, পাকিস্তানের নিশ্চিতকরণের ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতাটি পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে, যদিও বৃহত্তর রাজনৈতিক ও ক্রিকেটীয় বিরোধগুলি অমীমাংসিতই রয়ে গিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
