সংখ্যালঘু হিন্দুদের অধিকার রক্ষায় ব্রতী, বাংলাদেশে হাসিনার কেন্দ্রে প্রার্থী গোবিন্দ প্রামাণিক

সংখ্যালঘু হিন্দুদের অধিকার রক্ষায় ব্রতী, বাংলাদেশে হাসিনার কেন্দ্রে প্রার্থী গোবিন্দ প্রামাণিক
ঢাকা: অচলাবস্থা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত সাধারণ নির্বাচন হচ্ছে বাংলাদেশে। রাত পোহালেই সাধারণ নির্বাচন সেখানে, সেই সঙ্গে গণভোটও রয়েছে কালই। মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার নিষিদ্ধ করায়, এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘আওয়ামি লিগ’। তবে হাসিনার কেন্দ্র গোপালগঞ্জ ৩-র দিকে নজর গোটা দেশের। এবার ওই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন হিন্দু নেতা, পেশায় আইনজীবী গোবিন্দচন্দ্র প্রামাণিক। ( Bangladesh Election)

গোপালগঞ্জ ৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) এতদিন হাসিনার নির্বাচনী কেন্দ্র হিসেবেই পরিচিত ছিল। সেখান থেকেই ভোটে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন গোবিন্দ। নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের বিরুদ্ধে লাগাতার আক্রমণ নেমে এসেছে। তাই হাসিনার কেন্দ্র থেকে গোবিন্দর প্রার্থী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। (Gobinda Chanda Pramanik)

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ। সংখ্যালঘু হিন্দুদের অধিকার রক্ষা নিয়ে কাজ করে ওই সংস্থা। গত ২৮ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেন গোবিন্দ। বাংলাদেশে ধর্মীয় মেরুকরণ যখন তীব্রতর হচ্ছে, সেই আবহে গোবিন্দ ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে। কোনও রাজনৈতিক শিবিরের অংশ হতেও নারাজ তিনি।  তাঁর মতে, রাজনৈতিক দলের শৃঙ্খলায় নিজেকে আবদ্ধ করতে চান না তিনি। স্থানীয় সমস্যাগুলি তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। গোবিন্দ বলেন, “আমি সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে চাই, মানুষের কথা তুলে ধরতে চাই।”

গোপালগঞ্জ ৩ আসনটি হাসিনার গড় হিসেবেই পরিচিত বরাবর। বর্তমানে ওই আসনটিকে পাখির চোখ করেছে সব রাজনৈতিক দলই। BNP-র তরফে সেখানে প্রার্থী করা হয়েছে এস এম জিলানিকে। ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির প্রার্থী আরিফুল দরিয়া। জামাত-ই-ইসলাম প্রার্থী করেছে এমএম রেজাউল করিমকে। গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী আবুল বাশার, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মারুফ শেখ,  ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী শেখ সালাউদ্দিন, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ওলি আহমেদ।

এমন পরিস্থিতিতে গোবিন্দ মানুষের সমর্থন আদায় করতে পারেন কি না, তা-ই দেখার। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সংখ্যালঘু হিন্দু থেকে খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, সুফি, আহমদিয়ারা। রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে মৌলবাদীরা সেখানে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। গত কয়েক মাসেই পর পর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন খুন হয়েছেন সেখানে। তাই গোবিন্দের মতো মানুষজনই বাংলাদেশে বহুত্ববাদের ধারণা ফিরিয়ে আনতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও।

(Feed Source: abplive.com)