
চাঁদের ওপর মালিকানা দাবির আশঙ্কা
নাসার অ্যাডিনিস্ট্রেটর বিন নেলসন সম্প্রতি মহাকাশ গবেষণায় চিনের লক্ষ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চিন কোনও না কোনওভাবে চাঁদের ওপর মালিকানা দাবি করতে পারে। অন্যান্য দেশের গবেষণায় বাধার সৃষ্টি করতে পারে। বলতে পারে, আমরাই শুধু চাঁদ নিয়ে গবেষণা করব। চিন চাঁদে অবতরণ করার মিশনে নামার পর থেকেই নাসা পর্যন্ত এমন আশঙ্কা করছে।

চিন আর রাশিয়ার যৌথ পরিকল্পনা চাঁদে
মার্কিন সংস্থা নাসার প্রশাসক ও চিনের কর্মকর্তাদের মধ্যে চাঁদ নিয়ে একটা বিতর্ক প্রকাশ্যে এসেছে। উভয় দেশই চাঁদের মিশনে কাজ করছে। এর মধ্যেই চাঁদের গবেষণা নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবিসমূহ সামনে এসেছে। ২০১৯ সালে চিন প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের একাংশে মহাকাশ যান অবতরণ করাতে সফল হয়। চিন আর রাশিয়া ২০২৬ সালে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছনোর যৌথ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

চাঁদ বা মহাকাশের কোনও বিশেষ গ্রহে অধিকার প্রশ্নে
শুধু চাঁদের মিশনে নামাই নয়, ২০২৭ সলের মধ্যে আন্তর্জাতিক চন্দ্র গবেষণা কেন্দ্র নির্মাণের ইচ্ছাপ্রকাশও করা হয়। তবে চিনকে নিয়ে যে উদ্বেগের বার্তা নাসার তরফে দেওয়া হয়েছে তার সঙ্গে একমত নন মহাকাশ গবেষণার দুই প্রথিতযশা বিজ্ঞানী। তাঁরা মনে করেন, কখনও কোনও দেশের পক্ষে চাঁদ বা মহাকাশের কোনও বিশেষ গ্রহে অধিকার ফলানো সম্ভব নয়।

চাঁদে গবেষণার ইজারা নিতে পারে না এককভাবে
মহাকাশ বিজ্ঞানীদের যুক্তি, চিন আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইনে আবদ্ধ। তাঁরা কখনই একপক্ষীয়ভাবে চাঁদে গবেষণার ইজারা নিতে পারে না। দাবি করতে পারে না, তাঁরাই একমাত্র চাঁদে গবেষণা চালাবে। অন্য। কোনও সংস্থা বা দেশকে গবেষণা করতে দেবে না। চিন যদি সেই কাজ করে তা রহবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইনের বিরুদ্ধে।

যদি কোনও দেশ চাঁদের মালিকানা দাবি করে…
কোনও দেশ কখনও চাঁদের দখল নিতে পারে না। চিন যদি তা করার চেষ্টা করে আন্তর্জাতিক স্তরে নিন্দার সম্মুখীন হবে। যদি কোনও দেশ চাঁদের মালিকানা দাবি করে, তবে তা হবে গর্হিত কাজ। মহাকাশ বা মহাকাশে যে কোনও বস্তুর অন্বেষণে বা গবেষণায় অধিকার সবার। তা যে কেউ করতে পারে। চিন যদি চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নামেও, তা দক্ষিণ মেরুতে পাড়ি দেওয়া একমাত্র দেশ হবে না।

চাঁদ নিয়ে নাসার পরিকল্পনা
চিনে যেমন চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে রাশিয়াকে সঙ্গে নিয়ে, তেমনই মার্কিন নেতৃত্বাধীন ২০টি দেশের দল আর্টেমি অ্যাকর্ডস ২০২৫ সালের মধ্যে মানুষকে চাঁদে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে। সেইসঙ্গে চন্দ্রপৃষ্ঠে একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন এবং একটি মহাকাশ স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে।
(Source: oneindia.com)
