জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: লাল কেল্লায় প্রাণঘাতী হামলায় (Red Fort Attack) জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammed) যোগসূত্র খুঁজে পেল রাষ্ট্রসংঘ (UN); তারা সতর্ক করল নতুন মহিলা জঙ্গি শাখা নিয়ে। রাষ্ট্রসংঘের একটি সন্ত্রাসবাদ বিরোধী নজরদারি দলের প্রতিবেদনে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদকে (JeM) দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লায় চালানো ভয়াবহ হামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
লাল কেল্লা হামলা
রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর দিল্লির লাল কেল্লায় যে হামলা হয়েছিল, যাতে ১৫ জন নিহত হন, তার পিছনে জইশ-ই-মহম্মদের হাত থাকার প্রমাণ মিলেছে।
মহিলা জঙ্গি শাখা
জইশ প্রধান মাসুদ আজহার গত ৮ অক্টোবর ‘জামায়াত-উল-মুমিনাত’ (Jamaat ul-Muminat) নামে শুধুমাত্র মহিলাদের নিয়ে গঠিত একটি শাখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন। রাষ্ট্ররসংঘের মতে, শাখাটি জঙ্গি কার্যকলাপে সরাসরি সহায়তা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে এবং সংগঠনের প্রচার ও রসদ সরবরাহ বাড়াতে মেয়েদের এই বাহিনীতে যুক্ত করার এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।
কী অবস্থায় জইশ
জইশ-ই-মহম্মদ মূলত ভারত ও জম্মু-কাশ্মীরকে টার্গেট করে কাজ করে। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি দীর্ঘকাল ধরে রাষ্ট্রসংঘের কালো তালিকায় রয়েছে। কিছু সদস্য-দেশ মনে করে, সংগঠনটি এখনও অত্যন্ত সক্রিয় এবং বিপজ্জনক, আবার কেউ কেউ মনে করে, এটি বর্তমানে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।
রাষ্ট্রসংঘের পর্যবেক্ষণ
রাষ্ট্রসংঘের নজরদারি দলটি সতর্ক করেছে এই বলে যে, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলি ক্রমাগত তাদের কাজের ধরন পরিবর্তন করছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক চাপের মধ্যেও নতুন কর্মী নিয়োগ ও বড় ধরনের হামলা চালানোর ক্ষমতা অর্জন করছে। রাষ্ট্রসংঘের এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জইশ-ই-মহম্মদ শুধু পুরনো ধাঁচেই নয়, বরং মেয়েদের ব্যবহার করে নতুন আঙ্গিকে তাদের সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। লাল কেল্লার মতো একটা জায়গায় হামলার দায় স্বীকার এবং তার সঙ্গে এই নতুন মহিলাশাখার সংগঠনকে কাজে লাগানো– দুটি বিষয়ই ভারতের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার পক্ষে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মত তাদের।
(Feed Source: zeenews.com)
