Bengali Literature: সাহিত্যের পাতায় আজও উজ্জ্বল পূর্ব বর্ধমানের এই গ্রাম, ইতিহাস ও ঐতিহ্য মিলন ক্ষেত্র

Bengali Literature: সাহিত্যের পাতায় আজও উজ্জ্বল পূর্ব বর্ধমানের এই গ্রাম, ইতিহাস ও ঐতিহ্য মিলন ক্ষেত্র

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়িয়ে রয়েছে পূর্ব বর্ধমানের এই গ্রাম। এখানেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ কাব্যের রচয়িতা মালাধর বসু। বৈষ্ণব তীর্থক্ষেত্র হিসেবে এই গ্রামের নাম আজও ছড়িয়ে দিকে দিকে।

স্মৃতিসৌধের ছবি

জামালপুর, সায়নী সরকার: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়িয়ে রয়েছে পূর্ব বর্ধমানের এই গ্রাম। এখানেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ কাব্যের রচয়িতা মালাধর বসু।শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের কিছু কাল আগে মালাধর বসু এই কাব্য রচনা করেছিলেন। আর তাঁর জীবন ও কর্মের মধ্য দিয়েই এই গ্রামের পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছিল দিকে দিকে।পরবর্তী সময়ে স্বয়ং শ্রীচৈতন্যদেবও এসেছেন এই গ্রামে বলে উল্লিখিত রয়েছে চৈতন্যমঙ্গল কাব্যে।বৈষ্ণব তীর্থস্থান হিসাবেই দেশ জুড়ে পরিচিতি পেয়েছে পূর্ব বর্ধমানের কুলীনগ্রাম। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের পাতায় এই গ্রামের নাম আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে। তাই প্রতিবছর মাঘী পূর্ণিমার দিন মালাধর বসুকে স্মরণ করা হয় গ্রামে। গ্রামে গড়ে উঠেছে তার স্মৃতি সৌধ।

পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর ব্লকের আবুজহাটি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুলীনগ্রাম হল একটি প্রাচীন জনপদ। পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন মালাধর বসু। তিনি ছিলেন একাধারে কবি ও পরম ভক্ত। তৎকালীন গৌড়ের পাঠান সুলতানের রাজদরবারে সঙ্গে তিনি সংযুক্ত ছিলেন।তার প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে নবাব দরবার থেকে তাকে গুনরাজ খাঁ উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ব্যাসদেবের রচিত সংস্কৃত ভাগবত পূরণের দশম স্কন্ধে যেখানে কৃষ্ণের জন্ম থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত লীলা কাহিনী বর্ণিত আছে তিনি তা বাংলা অনুবাদ করেছিলেন। এবং তার এই অনুবাদের মধ্য দিয়ে তৎকালীন বাংলার মানুষের কাছে কৃষ্ণ কাহিনীকে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তার পুত্র সত্যরাজ খাঁ ও পৌত্র রমানন্দ বসুর প্রচেষ্টায় কুলীনগ্রাম একটি অন্যতম বৈষ্ণব সংস্কৃতির কেন্দ্র রূপে গড়ে উঠেছিল।রমানন্দ বসু ছিলেন চৈতন্যদেবের খুবই অন্তরঙ্গ ও অন্যতম পার্ষদ । বসু পরিবারের আমন্ত্রণেই মূলত চৈতন্যদেব কুলীনগ্রামে এসে ছিলেন।

চৈতন্যদেবের নির্দেশই একসময় কুলীন গ্রাম থেকে রেশমের পট্টডোরি রথের সময় পুরীতে নিয়ে যাওয়া হত। বসু পরিবারের হাত ধরেই কুলীন গ্রামে গড়ে ওঠে জগন্নাথ দেবের মন্দিরেও। আর শুধু জগন্নাথ দেবের মন্দিরে নয়, কুলীন গ্রামে আরও আনেক দেব দেবীর মূর্তি ও মন্দির রয়েছে। প্রতিবছর রথযাত্রা এবং জন্মাষ্টমী তিথিতে ভক্তের ঢল নামে কুলীন গ্রামে। ওই দিন গুলিতে এই রাজ্য ছাড়াও দেশ ও বিদেশের বহু ভক্ত কুলীন গ্রামে সমবেত হন।