Zee 24 Ghanta Ananya Samman 2026: ভারতীয় ক্রিকেটে ‘অনন্য’ তিরাশির বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য কিরমানি…

Zee 24 Ghanta Ananya Samman 2026: ভারতীয় ক্রিকেটে ‘অনন্য’ তিরাশির বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য কিরমানি…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ১৯৮৩ সাল। লর্ডসের সেই ঐতিহাসিক জয়ধ্বনি আজও কানে বাজে ক্রিকেটপ্রেমীদের। আর সেই জয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন উইকেটের পিছনের এক অতন্দ্র প্রহরী— ডক্টর সৈয়দ মুজতবা হোসেন কিরমানি। আমরা সবাই জিম্বাবয়ের বিরুদ্ধে কপিল দেবের সেই অতিমানবিক ১৭৫ রানের ইনিংসের কথা জানি। কিন্তু পর্দার আড়ালের নায়ক ছিলেন কিরমানি। সেদিন ক্রিজে পাথরের মতো অটল থেকে তিনি অধিনায়ককে সঙ্গ দিয়েছিলেন বলেই সম্ভব হয়েছিল সেই মহাকাব্যিক জয়।

১৯৭৬ থেকে ১৯৮৬—এই এক দশকে ভারতীয় ক্রিকেটের ভরসার নাম ছিল কিরমানি। উইকেটের পিছনে তার ক্ষিপ্রতা যেমন ছিল নজরকাড়া, তেমনই ব্যাট হাতেও তিনি ছিলেন দলের ত্রাতা। পরিসংখ্যান বলে তিনি খেলেছেন ৮৮টি টেস্ট, করেছেন প্রায় ৩০০০ রান। কিন্তু দুটি সেঞ্চুরি আর এক ডজন হাফ সেঞ্চুরির চেয়েও বড় ছিল কঠিন সময়ে তাঁর রুখে দাঁড়ানোর ক্ষমতা। তাই তো তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের আসল ‘ক্রাইসিস ম্যান’।

মাঠ ছাড়ার পর কোচিং এবং জাতীয় নির্বাচক হিসেবেও তিনি ক্রিকেটের সেবা করে গেছেন সমান্তরালভাবে। ভারতীয় ক্রিকেটে আপনার অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য জি ২৪ ঘণ্টা অনন্য সম্মান ১৪৩২-এ সম্মানিত ডক্টর সৈয়দ মুজতবা হোসেন কিরমানি। আজ ভারতের অন্যতম সেরা এই উইকেটকিপারকে শ্রদ্ধা জানাতে পেরে আমরা গর্বিত।

ছর ঘুরে আবারও ফিরে এল সেই দিনটা। একটা দিন, যখন খবরের গতি একটু থামে, আর মানুষের গল্প একটু ধীরে, একটু গভীরভাবে শোনা যায়। জি ২৪ ঘণ্টা-র ‘অনন্য সম্মান ২০২৬’ সেইসব মানুষদের জন্য, যাঁরা প্রচারের কেন্দ্রে নন, অথচ সমাজের মেরুদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন নীরবে।

কেউ ভোরবেলায় হাসপাতালে ঢোকেন, রাত গভীর করে ফেরেন। কেউ সংস্কৃতির চর্চায় নিজের জীবনটাকেই সঁপে দিয়েছেন। কেউ সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করেছেন। এই সন্ধ্যা তাঁদের নাম উচ্চারণের। এই সন্ধ্যা তাঁদের দীর্ঘ নীরবতার পাশে দাঁড়ানোর।

সম্মান মানে শুধু ট্রফি নয়। সম্মান মানে—একটা স্বীকৃতি, যা বলে, “আপনি একা নন। আপনার পথচলা আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়নি।” বছরভর অসংখ্য খবরের ভিড়ে আমরা কখনও কখনও মানুষটার দিকে তাকাতে ভুলে যাই। এই আয়োজন সেই ভুলটা শুধরে নেওয়ার ছোট্ট চেষ্টা।

‘অনন্য’ শব্দটা আজ কোনও বিশেষণ নয়—এটা এক সম্পর্ক। একটা সময়ের সঙ্গে মানুষের, পরিশ্রমের সঙ্গে কৃতজ্ঞতার, নীরবতার সঙ্গে সম্মানের সম্পর্ক। আমরা প্রতিদিন খবর বলি। আজ আমরা কৃতজ্ঞতা বলব। কারণ সত্যিকারের আলো কখনও মঞ্চে তৈরি হয় না—তা তৈরি হয় মানুষের ভেতরে। আর সেই আলো একবার জ্বলে উঠলে, তা অনেক দূর পর্যন্ত পথ দেখায়। আজকের সন্ধ্যা সেই আলোর দিকেই মাথা নত করার।

(Feed Source: zeenews.com)