
বাংলাদেশে সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনে তাঁর দল BNP-কে বিশাল জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক। প্রধানমন্ত্রী পদে তিনিই শপথ নেবেন বলে আগেই দলের তরফে ঘোষণা করা হয়েছিল। সেইমতো এদিন শপথ নেন তারেক। তবে, প্রথামতো বঙ্গভবনে নয়, সাউথ প্লাজায় শপথ-গ্রহণ অনুষ্ঠান হয় এদিন। তারেক বলেন, “আমি আইন অনুসারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্ব বিশ্বস্ততার সঙ্গে পালন করব।” এতদিন বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার চলছিল। যার প্রধান ছিলেন মহম্মদ ইউনূস। এবার পাঁচ বছরের জন্য পূর্ণ মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী পেয়ে গেল বাংলাদেশ।
দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসনে থাকার পর গত ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ ফেরেন তারেক। দীর্ঘদিন পর তাঁকে দেশে স্বাগত জানাতে বিএনপির বহু কর্মী-সমর্থক সেদিন জমায়েত করেছিলেন। বাংলাদেশের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক এই প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হলেন। এই পরিস্থিতিতে এখন দেখার ইউনূস পরবর্তী জমানায় নয়াদিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক কোন পথে এগোয়। কারণ, আওয়ামী লিগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের অগাস্টে দায়িত্ব নিয়েছিলেন ইউনূস। তাঁর মেয়াদকালে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা যায়। এমনকী ভারতের উদ্দেশে অনেক হুমকি-হুঁশিয়ারিও শোনা গেছে বাংলাদেশের অনেকের মুখে। যদিও সেই পরিস্থিতির এবার অবসান হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিনই প্রথমে বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হন তারেক। তাঁর পাশাপাশি এদিন আরও ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রেসিডেন্ট। শপথ-গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারত ও পাকিস্তান ছাড়াও, প্রতিবেশী আরও অনেক দেশ শামিল হয়। বাংলাদেশে নতুন মন্ত্রিসভার ঠাঁই পেয়েছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুই সদস্যও। তাঁরা হলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী তথা বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট নিতাই রাই চৌধুরী ও বৌদ্ধ ধর্মের দীপেন দিওয়ান। একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা হল, নতুন মন্ত্রিসভায় বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে বিএনপির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে নতুন মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
(Feed Source: abplive.com)
