Himanta Biswa Sarma: অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দাবি, ২০১৪ সালে ৫৮ জন কংগ্রেস বিধায়কের সমর্থন পাওয়ার পর সোনিয়া গান্ধি তাঁকে শপথের দিন ঠিক করতে বলেছিলেন। তবে রাহুল গান্ধী আমেরিকা থেকে ফোন করার পরই পরিস্থিতি বদলে যায়।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা
কলকাতাঃ অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মঙ্গলবার দাবি করেছেন, ২০১৪ সালে যখন কংগ্রেসের ৫৮ জন বিধায়ক তাঁকে সমর্থন করেছিলেন, তখন তৎকালীন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার দিন নির্ধারণ করতে বলেছিলেন। তবে, রাহুল গান্ধি আমেরিকা থেকে ফোন করার পরই পুরো পরিস্থিতি বদলে যায় বলে অভিযোগ তাঁর।
রাজ্য বিধানসভায় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শর্মা বলেন, “মল্লিকার্জুন খাড়গে অসমে আসার সময় ৫৮ জন বিধায়ক আমাকে মুখ্যমন্ত্রী পদে সমর্থন করেছিলেন। বহু সিনিয়র নেতা নিরপেক্ষ ছিলেন, আর মাত্র ১২ জন বিধায়ক সমর্থন করেছিলেন তরুণ গগৈ-কে। তখন রাহুল গান্ধী আমেরিকায় ছিলেন। সোনিয়া গান্ধি আমাকে তাঁর বাড়িতে ডেকে শপথ গ্রহণের তারিখ ঠিক করতে বলেন। আমি বলেছিলাম অম্বুবাচির পরের দিন শপথ নেব। কিন্তু এরপর রাহুল গান্ধীর ফোন আসে, আর সব বদলে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “কংগ্রেস আমাকে দল থেকে বের করে দিয়েছিল, গঙ্গায় ফেলে দিয়েছিল। আমি কেন দল ছেড়েছি তা অনেকেই জানেন না। তরুণ গগৈ সবাইকে গৌরবের বৈঠকে যোগ দিতে বলেছিলেন, মন্ত্রিসভার সকল সদস্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আমি বলেছিলাম, দলের জন্য কাজ করব, কিন্তু ওই বৈঠকে যাব না।”
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই অসম কংগ্রেসে ভাঙন দেখা দেয়। একাংশের বিধায়ক শর্মাকে মুখ্যমন্ত্রী করার পক্ষে ছিলেন এবং তরুণ গগৈয়ের বিরোধিতা করেন। ২০১৪ সালে মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেন শর্মা এবং ২০১৫ সালে কংগ্রেস ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টি-তে যোগ দেন। পরে তাঁর নেতৃত্বেই অসমে প্রথমবার ক্ষমতায় আসে বিজেপি।
এদিকে ভোটমুখী অসমে কংগ্রেসে বড় ধাক্কা লেগেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভূপেন বরা দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে শর্মা দাবি করেন, বর্তমান অসম কংগ্রেস তার মূল চরিত্র হারিয়ে ফেলেছে এবং এখন মূলত “বাংলাদেশি” ও “মিয়া” সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করছে বলে তাঁর অভিযোগ।
ভূপেন বরার ইস্তফা প্রসঙ্গে শর্মা বলেন, তিনি কংগ্রেসকে এআইইউডিএফের প্রভাবমুক্ত করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা পারেননি। “রাইনো” প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাংসদ রকিবুল হুসেন-এর দিকে ইঙ্গিত করেন বলেও মন্তব্য করেন।
(Feed Source: news18.com)