Indian Railway Big Update: জলে ভেজা মেঝেয় পড়ে চেনে বাঁধা স্টিলের মগ! ট্রেনের টয়লেটে আর দেখবেন না চেনা ছবি, কারণ…

Indian Railway Big Update: জলে ভেজা মেঝেয় পড়ে চেনে বাঁধা স্টিলের মগ! ট্রেনের টয়লেটে আর দেখবেন না চেনা ছবি, কারণ…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতীয় রেলে যাত্রার অভিজ্ঞতায় আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে রেলমন্ত্রক। দীর্ঘদিনের পুরনো এবং অপরিচ্ছন্ন প্রথা ভেঙে এবার ট্রেনের প্রতিটি কামরার শৌচাগারে আধুনিক ‘হেলথ ফসেট’ বা ‘জেট স্প্রে’ বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতদিন ট্রেনের বাথরুমে জলের জন্য যে লোহার শিকল দিয়ে আটকানো মগ ব্যবহার করা হতো, তা ধাপে ধাপে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিটি রেলওয়ে জোনকে।

পরিচ্ছন্নতার পথে এক বড় পদক্ষেপ

ট্রেন যাত্রার সময় যাত্রীদের অন্যতম প্রধান অভিযোগ থাকে শৌচাগারের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে। বিশেষ করে লোহার শিকলে বাঁধা মগগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেকেই সংকোচ বোধ করেন। কারণ এগুলি পরিষ্কার রাখা কঠিন এবং সংক্রমণের ভয় থাকে। যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং পরিচ্ছন্নতার কথা মাথায় রেখে রেলমন্ত্রক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এবার থেকে সাধারণ মগের বদলে আধুনিক শৌচাগারের মতো স্প্রে ব্যবহার করা হবে।

রেলমন্ত্রকের নির্দেশিকা

রেলওয়ে বোর্ড সমস্ত জোনের জেনারেল ম্যানেজারদের কাছে এই মর্মে একটি নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে:

ধাপে ধাপে পরিবর্তন: ট্রেনের প্রতিটি কামরার শৌচাগার থেকে পুরনো মগ সরিয়ে আধুনিক ফসেট বসাতে হবে।

রক্ষণাবেক্ষণ: এই স্প্রেগুলো যাতে নিয়মিত কাজ করে এবং কল নষ্ট না হয়, তার জন্য রক্ষণাবেক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

জলের অপচয় রোধ: অনেক সময় মগ দিয়ে ব্যবহারের ফলে প্রচুর জল অপচয় হয়। জেট স্প্রে ব্যবহারে জলের সঠিক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে বলে মনে করছে রেল।

যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি

ভারতীয় রেলে বন্দে ভারত বা প্রিমিয়াম ট্রেনগুলোতে ইতিমধ্যেই এই আধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সাধারণ এক্সপ্রেস বা প্যাসেঞ্জার ট্রেনগুলোতে এখনও পুরনো ব্যবস্থা বর্তমান। যাত্রীদের একাংশ দীর্ঘকাল ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন যে, শিকলে বাঁধা মগগুলি কেবল অপরিচ্ছন্নই নয়, বরং ব্যবহার করাও বেশ কষ্টসাধ্য। রেলের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ শ্রেণির যাত্রীরাও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

কেন এই সিদ্ধান্ত?

রেল আধিকারিকদের মতে, ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযানের’ আওতায় রেলওয়ের আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে। রেলের লক্ষ্য হলো যাত্রীদের একটি স্বাস্থ্যসম্মত এবং প্রিমিয়াম ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দেওয়া। শৌচাগারের পরিবেশ উন্নত হলে ট্রেনের ভেতরে দুর্গন্ধের সমস্যাও অনেকটা কমবে। এছাড়া, ট্রেনের ভেতরের সরঞ্জাম চুরির ঘটনা রুখতেও এই ব্যবস্থা কাজে দেবে। শিকলে বাঁধা মগ অনেক সময় টেনে খুলে নেওয়া হয়, কিন্তু ফসেট বা জেট স্প্রে পাইপের সাথে স্থায়ীভাবে যুক্ত থাকায় তা চুরি করা কঠিন হবে।

বাস্তবায়নের সময়সীমা

যদিও রেলের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি, তবে প্রতিটি জোনকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। পুরনো কামরাগুলো যখন মেরামতির (Maintenance) জন্য ইয়ার্ডে যাবে, তখনই এই নতুন কলগুলো বসানো হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বেশিরভাগ বড় দূরপাল্লার ট্রেনে এই সুবিধা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারতীয় রেল বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম পরিবহন ব্যবস্থা। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ রেলে যাতায়াত করেন। দীর্ঘ যাত্রার ক্ষেত্রে শৌচাগারের পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মগ সরিয়ে স্প্রে বসানোর এই সিদ্ধান্ত ছোট মনে হলেও, এটি যাত্রীদের অভিজ্ঞতায় বিশাল ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের জন্য এই আধুনিক ব্যবস্থা অত্যন্ত সুবিধাজনক হবে।

তবে রেলের এই উদ্যোগ তখনই সফল হবে যখন যাত্রীরাও এই সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহার করবেন এবং এগুলো নষ্ট করা থেকে বিরত থাকবেন। একই সাথে রেলকর্মীদেরও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে যাতে কারিগরি সমস্যার কারণে জল সরবরাহ বন্ধ না থাকে।

শিকল-বাঁধা মগ সরিয়ে আধুনিক স্প্রে বসানোর সিদ্ধান্ত রেলের মানসিকতার পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দেয়। এটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের সুবিধা ও আধুনিকীকরণে ভারতীয় রেল এখন আরও বেশি সচেষ্ট। অদূর ভবিষ্যতে আমরা হয়তো ট্রেনের শৌচাগারে আরও অনেক উন্নত ও স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার দেখতে পাব।

(Feed Source: zeenews.com)