SC on Physical Assault: ‘স্তনে হাত, পাজামার দড়ি টানা মোটেই ধর্ষণের চেষ্টা নয়’, এলাহাবাদ হাইকোর্টের কুখ্যাত রায়কে চাবকাল ‘সুপ্রিম’ বেঞ্চ…

SC on Physical Assault: ‘স্তনে হাত, পাজামার দড়ি টানা মোটেই ধর্ষণের চেষ্টা নয়’, এলাহাবাদ হাইকোর্টের কুখ্যাত রায়কে চাবকাল ‘সুপ্রিম’ বেঞ্চ…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শীর্ষ আদালত (Supreme Court) তিরষ্কার করল এলাহাবাদ হাই কোর্টকে (Allahabad High Court)। নাবালিকার স্তন ধরা (grabbing child victim’s breasts) ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ নয়– এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণকে বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট; বিচারকদের জন্য সংবেদনশীলতা নির্দেশিকা তৈরির নির্দেশও দিল শীর্ষ আদালত।

অসংবেদনশীল

সুপ্রিম কোর্ট এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি বিতর্কিত রায় বাতিল করে দিয়েছে। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছিল, একজন নাবালিকার স্তন ধরা বা পোশাকের বাঁধন টেনে ধরা ধর্ষণের চেষ্টা (Attempt to Rape) হিসেবে গণ্য হবে না। সুপ্রিম কোর্ট এই পর্যবেক্ষণকে “অসংবেদনশীল” এবং “অমানবিক” বলে অভিহিত করল।

হাইকোর্টের বিতর্কিত রায়

এলাহাবাদ হাইকোর্টের একক বিচারপতির এক বেঞ্চ একটি মামলায় রায় দিয়েছিলেন, অভিযুক্ত কর্তৃক নাবালিকার স্তন ধরা, পায়জামার দড়ি ছিঁড়ে ফেলা এবং তাকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা ধর্ষণের চেষ্টার পর্যায়ভুক্ত নয়। হাইকোর্ট এটিকে কেবল শ্লীলতাহানি বা যৌন হেনস্থার (POCSO আইনের অধীনে) একটি লঘু অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছিল।

সুপ্রিম-হস্তক্ষেপ

সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (Suo Motu) মামলাটি গ্রহণ করে এবং এলাহাবাদ হাইকোর্টের ওই পর্যবেক্ষণগুলিকে বাতিল করে দেয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, এই ধরনের পর্যবেক্ষণ বিচার-প্রক্রিয়ায় সংবেদনশীলতার অভাব প্রকাশ করে।

আগের আদেশই বহাল

সুপ্রিম কোর্ট কাসগঞ্জের বিশেষ পকসো (POCSO) আদালতের আগের আদেশটি পুনর্বহাল করেছে, যেখানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে সমন জারি করা হয়েছিল।

সংবেদনশীলতার নির্দেশিকা

তবে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ আদালত ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমিকে (National Judicial Academy) একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। এই কমিটি বিচারকদের জন্য একটি খসড়া-নির্দেশিকা তৈরি করবে, যাতে যৌন অপরাধ এবং বিশেষ করে শিশু বা দুর্বল নিপীড়তদের মামলা পরিচালনার সময়ে বিচারকরা আরও সংবেদনশীল ও সহানুভূতিশীল আচরণ করেন।

সুপ্রিমমত

মোটকথা, শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে যে, বিচারকের রায়ে বা পর্যবেক্ষণে এমন কোনো ভাষা বা যুক্তি ব্যবহার করা উচিত নয়, যা ভিক্টিমের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে বা তার সঙ্গে যে অপরাধমূলক আচরণ করা হয়, তার গুরুত্বকে খাটো করে দেখায়। সহজ কথায়, সুপ্রিম কোর্ট এই রায়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করে, নাবালিকার উপর হওয়া এই ধরনের গুরুতর যৌন হামলাকে হালকাভাবে দেখার কোনো অবকাশ নেই এবং ভবিষ্যতে বিচারকদের এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

(Feed Source: zeenews.com)