
দেশের বেশিরভাগ রাজ্য রাজস্ব ঘাটতির সমস্যায় ভুগছে বলে মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির৷ তার মধ্যেও ‘খয়রাতির নীতি’! কড়া সমালোচনা শীর্ষ আদালতের৷
নয়াদিল্লি: বিভিন্ন রাজ্যের সরকারের ‘ফ্রি-বিজ পলিসি’ বা ‘দান খয়রাতির নীতি’ নিয়ে এদিন কড়া সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট৷ সর্বোচ্চ আদালতের মতে, এমন ‘খয়রাতির সংস্কৃতি’ আদতে দেশের আর্থিক উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে৷ তামিলনাডুর একটি মামলার প্রেক্ষিতে এমনই পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের।
এদিনের শুনানি চলাকালীন, বিনামূল্যে সুবিধা দেওয়ার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করে সর্বোচ্চ আদালত৷ সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, এই নীতিগুলি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বাধা৷ তাই এগুলি পুনর্বিবেচনা করার উপযুক্ত সময় এখনই।
তামিলনাড়ু সরকার অধীনস্থ বিদ্যুৎবণ্টন সংস্থা তামিলনাড়ু পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কর্পোরেশন লিমিটেড সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি চলছিল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে। বৃহস্পতিবার সেখানেই এই কথা বলেন দেশের প্রধান বিচারপতি৷
মামলার মূল বিষয় ছিল, ডিএমকে সরকারের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা তামিলনাড়ু পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কর্পোরেশন লিমিটেডের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে, তাঁরা মানুষের রোজগার নির্বিশেষে তামিলনাড়ুর প্রত্যেককে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে৷ সেই মামলার শুনানি চলাকালীনই ‘খয়রাতির নীতি’র সমালোচনা করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ৷
এদিন শুনানি চলাকালীন শীর্ষ আদালত জানায়— কোনও রাজ্যের সরকার যদি গরিবদের সহায়তা করে, তাহলে তা বোঝা যায়। বেঞ্চ বলে, ‘‘উন্নয়নের দিকে নজর না রেখে, বেশির ভাগ রাজ্য এই সব খয়রাতির নীতি অবলম্বন করছে৷ এদিকে দেশের বেশিরভাগ রাজ্যই রাজস্ব ঘাটতির সমস্যার সম্মুখীন৷’’
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চ বলে, “ভারতে আমরা এ কোন সংস্কৃতি গড়ে তুলছি? দেশের অধিকাংশ রাজ্যই রাজস্ব ঘাটতির মুখে, তবুও তারা উন্নয়নের বিষয়টি উপেক্ষা করে এ ধরনের ফ্রি সুবিধা দিচ্ছে৷”
বেঞ্চ আরও জানায়, এ ধরনের উদার অনুদানমূলক বণ্টনের ফলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হয় এবং রাজ্যগুলির উচিত সবার জন্য বিনামূল্যে খাদ্য, সাইকেল বা বিদ্যুৎ দেওয়ার পরিবর্তে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করার দিকে মনোযোগ দেওয়া।
(Feed Source: news18.com)
