চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে অপরাজিত, তবে সত্যিই কি অপ্রতিরোধ্য ভারত?

চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে অপরাজিত, তবে সত্যিই কি অপ্রতিরোধ্য ভারত?
কলকাতা: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) নাগাড়ে ১২ ম্যাচ জয়। চলতি পর্বে এখনও অপরাজিত। তৃতীয়বার বিশের বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে মাঠে নামা ভারতের (Indian Cricket Team) বিজয়রথ তড়তড়িয়ে ছুটছে। তবে অপ্রতিরোধ্য দেখানো ভারতীয় দলে কি কোনও দুর্বলতা নেই? উদ্বেগের কোনও কারণ নেই? তেমনটা কিন্তু নয়।

ভারতীয় দল মেগা টুর্নামেন্টের চার ম্যাচেই বিভিন্ন সময়ে চাপে পড়েছে। তবে প্রতি ক্ষেত্রেই কোনও না কোনও তারকা হাত তুলে সামনে এগিয়ে এসে দলকে রক্ষা করেছেন। ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে নিজেদের সুপার এইটের অভিযান শুরু করবে টিম ইন্ডিয়া। সুপার এইটে কিন্তু একরকম পরিস্থিতি হলে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে বেগ পেতে হতে পারে টিম ইন্ডিয়াকে।

আমদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচ খেলবে টিম ইন্ডিয়া। সেই ম্যাচের আগে ভারতীয় দলের উদ্বেগের সবথেকে বড় কারণ দলের তারকা ওপেনারের ফর্ম। শুনতে বেশ অবাক লাগলেও আইসিসি ব়্যাঙ্কিং অনুযায়ী বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটার অভিষেক শর্মা তিন ম্যাচ খেলে এখনও খাতাই খুলতে পারেননি। অভিষেকে প্রতিভা প্রশ্নাতীত। তবে একদিকে যেখানে ঈশান কিষাণ দুরন্ত ব্যাটিং করছেন, সেখানে অভিষেকের এহেন ফর্ম ভারতীয় সমর্থকদের চিন্তা বাড়াচ্ছে।

অপরদিকে, তিনে নামা তিলক বর্মাকে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে দেখা যায়নি। নেদারল্যান্ডসের ম্যাচই ধরা যাক। তিলক ডাচদের বিরুদ্ধে ৩১ রান করলেও, তার জন্য নিয়েছেন ২৭ বল। তাঁর এই বেশ মন্থর গতিতেই নিজের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কিন্তু ঈশান কিষাণের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। প্রতি ক্ষেত্রেই হার্দিক বা শিবম দুবেদের কেউ না কেউ দলের ত্রাতা হয়ে উঠে এসেছেন। তবে এক ম্যাচে এর অন্য়থা হলে কিন্তু ভারতকে ভুগতে হতে পারে।

ভারতীয় দলের দ্বিতীয় উদ্বেগের কারণ স্পিন বোলারদের, আরও স্পষ্টভাবে বললে ডান হাতি অফস্পিনারদের বিরুদ্ধে দলের ব্যাটারদের ব্যর্থতা। জেরহার্ড ইরাসমাস, সাঈম আয়ুব বা আরিয়ান দত্ত, গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই অফস্পিনারদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ব্যাটারদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। সুপার এইটেও টিম ইন্ডিয়ার প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ় বা জিম্বাবোয়ে, প্রতি দলেই অফস্পিনার রয়েছেন। তবে শিবম দুবে এই নিয়ে চিন্তুিত নন। নেদারল্যান্ডস ম্যাচের সেরা ক্রিকেটারের দাবি, ‘এই নিয়ে আমাদের কোনও কথা হয়নি কারণ অনেক সময়ই এমন কিছু বল আসে যেগুলিকে মারা ব্যাটারদের জন্য সহজ হয় না। গোটাটাই একটা শটের ব্যাপার। ওই একটা শট লেগে গেলে আর আসন্ন ম্যাচগুলিতে কেউ অফস্পিন খেলা নিয়ে কোনও প্রশ্ন তুলবে না।’

অবশ্য ভারতীয় দলের সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতের মত খানিকটা ভিন্ন। তাঁর মতে ডান হাতি অফস্পিনারের বিরুদ্ধে বাড়তি সমস্যা নয়, বরং ফিঙ্গার স্পিনারদের বিরুদ্ধেই দলগতভাবে ভারতীয় ব্যাটারদের উন্নতির প্রয়োজন। তিনি নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পর বলেন, ‘অফস্পিনে সমস্যা নয়, আমার মনে হয়ে আমাদের ফিঙ্গার স্পিনারদের বিরুদ্ধেই আরও ভাল খেলতে হবে। পাকিস্তান ম্য়াচে মনে হয় ১৪ ওভার ওদের স্পিনাররা বল করেছিল (আদপে ১৮ ওভার) যেখানে আমরা ৭৮ রানে চার উইকেট হারাই। সত্যি পরিসংখ্যানের দিক থেকে এটা ভাল নয়।  কলম্বোর উইকেটটা কঠিন ছিল। তবে আজকে পরের দিকে আমদের স্পিন খেলায় উন্নতি হয়েছিল। এই মাঠের বড় বাউন্ডারি এবং কলম্বোর মন্থর গতির উইকেটের ফলেই এই সমস্যাটা বেশি করে চোখে পড়েছে। পরবর্তী ম্যাচগুলিতে প্রচুর ফিঙ্গার স্পিনারদের খেলতে হবে, তাই এই বিষয়ে নজর দেওয়াটা অবশ্যই দরকার। কিন্তু ভাল উইকেটে এই সমস্যাটা চোখে পড়বে না।’

সবশেষে যে সমস্যার কথা না বললেই নয়, সেটা হল ভারতীয় দলের ফিল্ডিং। এই বিশ্বকাপে টিম ইন্ডিয়ার ফিল্ডাররা মোট নয়টি ক্যাচ ফেলেছেন। ২০ দলের টুর্নামেন্টে আয়ার্ল্যান্ড বাদে আর কোনও দলের এত ক্যাচ ড্রপ হয়নি। কথায় আছে, ‘Catches win matches’। তাই টুর্নামেন্টের বিজনেস এন্ডে এসে ভারতীয় টিম ম্য়ানেজমেন্টের নিজেদের ফিল্ডিংয়ের দিকে নজর দেওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবার দেখার এই চ্যালেঞ্জগুলি সামলে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল বিশ্বকাপে নিজেদের সফর এগিয়ে নিয়ে যাতে পারে কি না।

(Feed Source: abplive.com)