জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ন্যূনতম বেতন কি হতে চলেছে ৫৮,৫০০ টাকা?
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য এক বড়সড় খুশির খবর আসতে চলেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ন্যূনতম বেতন একলাফে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। জল্পনা সত্যি হলে, বর্তমানে যা ১৮,০০০ টাকা, তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৫৮,৫০০ টাকায়।
বেতন বৃদ্ধির নেপথ্যে কোন অঙ্ক?
সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর কেন্দ্রীয় সরকার নতুন বেতন কমিশন গঠন করে। সপ্তম বেতন কমিশনের মেয়াদ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা।
সেই হিসেবে ২০২৪-২৫ সালের মধ্যেই অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কর্মচারী ইউনিয়নগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল যে, মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম বেতন এবং ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (Fitment Factor) পরিবর্তন করা হোক।
বর্তমানে সরকারি কর্মীদের বেতন নির্ধারিত হয় ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের ভিত্তিতে। তবে অষ্টম বেতন কমিশনে এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বাড়িয়ে ৩.৬৮ বা তার বেশি করার দাবি জানানো হয়েছে।
যদি সরকার ৩.৬৮ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর গ্রহণ করে, তবে ন্যূনতম বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৬,০০০ টাকার আশেপাশে পৌঁছাবে। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু গাণিতিক মডেল ও ইউনিয়নগুলোর জোরালো দাবির ভিত্তিতে এই বেতন ৫৮,৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছানোর একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চর্চা চলছে।
মূল্যবৃদ্ধি এবং মহার্ঘ ভাতা (DA): কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা বর্তমানে ৫০% মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) পাচ্ছেন। নিয়ম অনুযায়ী, ডিএ যখন ৫০ শতাংশের গণ্ডি স্পর্শ করে, তখন তা মূল বেতনের সাথে যুক্ত হওয়ার বা বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের দাবি ওঠে।
অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হলে শুধুমাত্র মূল বেতন নয়, এর সাথে যুক্ত বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
পেনশনভোগীদের সুবিধা: এই বেতন কমিশনের সুফল কেবল কর্মরত কর্মীরাই পাবেন না, বরং প্রায় ৬৭ লক্ষ পেনশনভোগীও এর দ্বারা উপকৃত হবেন। নতুন বেতন কাঠামোর ফলে তাদের পেনশনও এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে, যা অবসরের পর তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করবে।
সরকারের অবস্থান কী?
যদিও অর্থ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবে লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এবং আগামী বাজেট অধিবেশনগুলোতে এই বিষয়ে বড় কোনও ইঙ্গিত পাওয়ার আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের সময়ও কয়েক বছর ধরে আলোচনা চলেছিল। সরকারি সূত্রের খবর, কর্মচারীদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে পারে।
অর্থনীতির ওপর প্রভাব: একসাথে বিপুল পরিমাণ বেতন বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির ওপর দ্বিমুখী প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে যেমন কর্মীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে এবং বাজারে চাহিদার সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে সরকারের কোষাগারের ওপর বিশাল আর্থিক চাপ তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বেতন বৃদ্ধির ফলে মুদ্রাস্ফীতির ওপরও নজর দিতে হবে সরকারকে।
অষ্টম বেতন কমিশনের সম্ভাব্য সময়সীমা:
যদি ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ বা ২০২৫ সালের শুরুতে কমিশন গঠন করা হয়, তবে এর সুপারিশগুলো কার্যকর হতে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে কর্মীরা চাইছেন সরকার যেন দ্রুত এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে ২০২৬ সালের প্রথম দিন থেকেই তারা নতুন স্কেলে বেতন পেতে পারেন।
অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে বর্তমানে যে ৫৮,৫০০ টাকার জল্পনা চলছে, তা যদি আংশিকও সত্য হয়, তবে এটি হবে ভারতীয় প্রশাসনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় বেতন বৃদ্ধি। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা এই পরিবর্তনের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় সরকার এই বিপুল আর্থিক দায়ভার গ্রহণ করে কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করে কি না।
(Feed Source: zeenews.com)
