Chhattisgarh High Court: মেয়েটিকে জোর করা হয়েছে, তো! যদি যোনিতে প্রবেশের আগেই বীর্যপাত হয়, তবে ধর্ষণ বলা যায় না: হাইকোর্ট

Chhattisgarh High Court: মেয়েটিকে জোর করা হয়েছে, তো! যদি যোনিতে প্রবেশের আগেই বীর্যপাত হয়, তবে ধর্ষণ বলা যায় না: হাইকোর্ট

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ‘জোর করে পুরুষ যৌনাঙ্গ স্ত্রী যৌনাঙ্গে প্রবেশ ছাড়া বীর্যপাত- ধর্ষণ নয়’ : হাইকোর্ট

ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা (ধর্ষণ) এবং ৩৭৬ ধারার ব্যাখ্যা নিয়ে বিস্ফোরক রায় দিয়েছে ছত্তিশগড় হাইকোর্ট।

আদালত মনে করেছে, যদি, কোনও জোর করে অন্তরঙ্গতার সময়েও মহিলার যৌনাঙ্গে, পুরুষাঙ্গের প্রবেশ (Penetration) না ঘটে, শুধুমাত্র যৌনাঙ্গের উপরেই বীর্যপাতের ঘটনা ঘটে যায়, তবে তাকে ভারতীয় আইন অনুযায়ী ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার জয়সওয়ালের একক বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন।

মামলার প্রেক্ষাপট ও নিম্ন আদালতের রায়

এই মামলাটি মূলত একটি আবেদনের ভিত্তিতে শুরু হয়েছিল। নিম্ন আদালত (ট্রায়াল কোর্ট) একজন ব্যক্তিকে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।

১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিল। অভিযোগকারী মহিলার দাবি ছিল, অভিযুক্ত ব্যক্তি জোরপূর্বক তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি তাঁর শরীরের ওপর বীর্যপাত করেছিল। নিম্ন আদালত মহিলার জবানবন্দি এবং পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে ধর্ষণের দায়ে দণ্ডিত করে।

হাইকোর্টের আইনি ব্যাখ্যা ও পর্যবেক্ষণ

নিম্ন আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে অভিযুক্ত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। মামলাটি পর্যালোচনার সময় ছত্তিশগড় হাইকোর্ট ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার কঠোর আইনি ব্যাখ্যার ওপর জোর দেয়। আদালতের প্রধান পর্যবেক্ষণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

১. ‘পেনিট্রেশন’ বা প্রবেশের আবশ্যকতা: আদালত স্পষ্ট করে জানায় যে, ধর্ষণের অপরাধ সাব্যস্ত হওয়ার জন্য ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার অধীনে ‘পেনিট্রেশন’ বা যৌনাঙ্গ-প্রবেশ অত্যন্ত জরুরি।

বর্তমান আইন অনুযায়ী, যোনিপথ, মুখগহ্বর, মূত্রনালী বা পায়ুপথে পুরুষাঙ্গের সামান্যতম প্রবেশ ঘটলেই তা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু যদি কোনোও মেডিকেল রিপোর্টে বা সাক্ষ্যপ্রমাণে এই প্রবেশের প্রমাণ না পাওয়া যায়, তবে তাকে ধর্ষণ বলা আইনিভাবে সম্ভব নয়।

২. বীর্যপাত বনাম ধর্ষণ: বিচারপতি জয়সওয়াল তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন, নির্যাতিতার শরীরের ওপর বীর্যপাত হওয়া একটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং অপরাধমূলক ঘটনা হতে পারে, কিন্তু আইনি সংজ্ঞায় এটি ধর্ষণের পর্যায়ে পড়ে না যদি না সেখানে কোনও শারীরিক প্রবেশ ঘটে থাকে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ‘শুধুমাত্র বীর্যপাত হওয়া বা বীর্য শরীরের ওপর পাওয়া যাওয়া ধর্ষণের প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট নয়, যদি না প্রবেশের বিষয়টি প্রমাণিত হয়।’

৩. মেডিকেল রিপোর্টের গুরুত্ব: এই মামলায় ফরেনসিক ও মেডিকেল রিপোর্ট পর্যালোচনা করে আদালত দেখেছে যে, নির্যাতিতার শরীরে কোনো ধরনের ধস্তাধস্তি বা জোরপূর্বক প্রবেশের আঘাতের চিহ্ন ছিল না। যদিও বীর্যের নমুনা পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু পেনিট্রেশনের কোনও অকাট্য প্রমাণ ছিল না।

অভিযোগের পরিবর্তন ও নতুন সাজা

হাইকোর্ট অভিযুক্তকে ধর্ষণের (৩৭৬ ধারা) অভিযোগ থেকে খালাস দিলেও তাঁকে পুরোপুরি মুক্তি দেয়নি। আদালত জানায়, প্রবেশের প্রমাণ না থাকলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি মহিলার শ্লীলতাহানি করেছেন এবং তাঁর ওপর অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করেছেন।

ফলস্বরূপ, আদালত অভিযুক্তের ১০ বছরের কারাদণ্ড বাতিল করে তাকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ ধারার অধীনে (নারীর শ্লীলতাহানি ও সম্ভ্রমহানি) দোষী সাব্যস্ত করে। যেহেতু অভিযুক্ত ব্যক্তি ইতিমধ্যেই ৩ বছর ৬ মাস জেল খেটেছেন, তাই আদালত সেই সময়কালকেই তার সাজা হিসেবে গণ্য করে এবং তাকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেয়।

আইনি গুরুত্ব ও বিতর্ক

এই রায়টি ভারতের আইনি মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ২০১৩ সালের নির্ভয়া কাণ্ডের পর যখন ধর্ষণের আইনি সংজ্ঞা অনেক বেশি বিস্তৃত করা হয়েছিল, তখন পেনিট্রেশনের প্রমাণের ওপর এতটা গুরুত্ব দেওয়া নিয়ে মানবাধিকার কর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

আদালতের মতে, বিচার বিভাগীয় সিদ্ধান্তে আবেগের কোনো স্থান নেই; আইনি ধারা এবং প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই রায় দিতে হবে। প্রসিকিউশন পক্ষ পেনিট্রেশন প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত আইনের কঠোর অনুশাসন মেনে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ছত্তিশগড় হাইকোর্টের এই রায় মনে করিয়ে দেয় যে, ফৌজদারি মামলায় প্রমাণের ভার প্রসিকিউশনের ওপর থাকে। আইনি সংজ্ঞার সামান্যতম বিচ্যুতিও মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। যদিও এই রায়টি নির্যাতিতার জন্য মানসিক যন্ত্রণার হতে পারে, তবে আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে বিচারকগণ প্রমাণের অভাবকে উপেক্ষা করতে পারেন না। এই রায় ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।

(Feed Source: zeenews.com)