
আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প সরকারের আগের সব শুল্ককে ‘বেআইনি’ ঘোষণার আগেই তাদের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি ঠিক হয়ে যায় ভারতের। বাণিজ্যচুক্তি অনুযায়ী ৫০ থেকে কমে ১৮ শতাংশ শুল্ক চাপে ভারতের উপর। এর পর শুক্রবার আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট আগের শুল্কগুলিকে ‘বেআইনি’ ঘোষণা করে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের সেই রায় উড়িয়ে নতুন করে ১০ শতাংশ হারে বৈশ্বিক শুল্ক ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। ফলে ১০ শতাংশ হারেই শুল্ক দিতে হবে ভারতকে। (US Tariffs on India)
আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫০ দিনের জন্য নতুন ১০ শতাংশ হারে বৈশ্বিক শুল্কের ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। সমস্ত দেশের উপরই ওই হারে শুল্ক কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাই ভারতকে ঠিক কত শুল্ক দিতে হবে, সেই নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছিল। শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই যে সমস্ত দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি স্থির হয়ে গিয়েছে, তাদের ১০ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হবে।
pic.twitter.com/xkMPmzMyqQ Wonder why India rushed into a deal, giving up on energy purchase decisions, giving up on farmers interests rather than waiting for the US Supreme Court verdict? The trade is at 10% tariff now after the court intervention but again US imports to India at…
— Priyanka Chaturvedi🇮🇳 (@priyankac19) February 21, 2026
তবে ঘুরপথে আরও শুল্ক চাপানো হতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। কারণ ট্রাম্প নিজেই তেমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সমালোচনা করে তিনি লেখেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের যাঁরা আমাদের শুল্কের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের লজ্জা হওয়া উচিত। হাস্যকর রায়। আগের চেয়ে বেশি অর্থ যাতে উঠে আসে, তার জন্য সব কিছু করব আমরা’।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে মুখ খোলেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘ভারত রাশিয়া থেকে সরে গিয়েছে। আগে রাশিয়ার থেকে তেল কিনছিল। আমার অনুরোধে পিছু হটেছে। ওরা (ভারত) শুল্ক দেবে, আমরা দেব না। ভারতের সঙ্গে চুক্তি এই মর্মেই হয়েছে। অর্থাৎ আগে যা ছিল, তার বিপরীত। আমরা পরিস্থিতি উল্টে দিয়েছি’।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প সরকারকে শুল্কবাবদ আদায় করা টাকা ফেরত দিতে হতে পারে বলেও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াইয়ে যাবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। এতদিন চড়া হারে যে শুল্ক আদায় করেছে আমেরিকা, তাতে প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে তাদের। সেই টাকা কতদিনের মধ্যে ফেরত দিতে হবে, তা নিয়ে নির্দিষ্ট ভাবে কিছু বলেনি আদালত। বিচারপতি ব্রেট কাভানা জানান, এতে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। বিষয়টি কোর্ট অফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড-এ উঠতে পারে। কারণ শুল্কবাবদ টাকা ফেরত চেয়ে ইতিমধ্যেই ১০০০-এর বেশি মামলা দায়ের হয়েছে সেখানে। কিন্তু আমেরিকার সরকার ওই টাকা সহজে ফেরত দিতে রাজি হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিছু বড় সংস্থা যদিও বা টাকা ফেরত পায়, ছোট সংস্থা এবং ব্যবসায়ীদের অবস্থার পরিবর্তন হবে না বলে আশঙ্কা তাঁদের।
(Feed Source: abplive.com)
