)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শনিবার একেবারে চনমনে ছিলেন। রবিবার অফিসেও গিয়েছিলেন। আর সোমবার রাতেই কোমায় চলে গেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক মনজিত্ সাংঘা। প্রায় ৩২ সপ্তাহ হাসপাতালে থাকার পর ঘরে ফিরলেন দুই হাত ও দুই পা কনুই ও হাঁটু থেকে খুইয়ে। চিকিত্সকরা বলছেন, মারাত্মক ওই ঘটনার পেছনে তাদের পোষা কুকুর।
কীভাবে সম্ভব এরকম ঘটনা? ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সাংঘা এক রবিবার বিকেলে কাজ থেকে বাসায় ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরদিন সকালে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তার হাত-পা একেবারে বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়। ঠোঁট নীল হয়ে যায়। শ্বাস নিতে পারচ্ছিলেন না। তাঁর স্বামী কমলজিৎ সাংঘা বলেন, মনে হচ্ছিল সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। ভাবছিলাম, ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে এমন কীভাবে হতে পারে? শনিবার বাড়ির কুকুরের সঙ্গে খেলছিল। রবিবার কাজে গেল,আর সোমবার রাতে সে কোমায় চলে গেল।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্ত্রী মনজিতকে নিয়ে হাসপাতালে ছোটেন স্বামী কমলজিত্। হাসপাতাল তাকে আইসিইউতে পাঠিয়ে দেয়। অবস্থার এত দ্রুত অবনতি হতে থাকে যে চিকিৎসকদের তার হাঁটুর নিচ থেকে দুই পা এবং কনুইয়ের নীচে থেকে দুই হাত কেটে ফেলতে বাধ্য হন। হাসপাতালে থাকার সময় তার ৬ বার হার্ট অ্যাটাক হয়। এছাড়াও আরও আরও নানা জটিলতা দেখা দেয়। শুধু হাত-পা কেটে ফেলার পাশাপাশি তার প্লীহাও বাদ দিতে হয়।
কীভাবে এমন ভয়ংকর ঘটনা?
চিকিৎসকদের বক্তব্য, মনজিতের শরীরে সংক্রমণ শুরু হয় যখন তার পোষা কুকুরটি তার ছোট একটি কাটা বা আঁচড়ের জায়গা চেটে দেয়। এর ফলে কুকুরের লালায় থাকা জীবাণু তার রক্তে ঢুকে যায়। Capnocytophaga canimorsus নামের এই ব্যাকটেরিয়া সাধারণত কুকুরের শরীরে থাকে এবং তাদের কোনো ক্ষতি করে না। কিন্তু মানুষের শরীরে ঢুকলে এটি গুরুতর অসুখ, যেমন সেপসিস, এমনকি মারাত্মক অবস্থায় মৃত্যুও ঘটাতে পারে।
সেপসিস কী
সেপসিস শরীরে এক ধরনের মারাত্মক সংক্রমণ। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা উল্টো কাজ শুরু করে। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তখন নিজের সুস্থ টিস্যু ও অঙ্গগুলোকে আক্রমণ করতে শুরু করে। ফলে সারা শরীরে মারাত্মক ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ে। গুরুতর হলে এটি সেপটিক শকে পরিণত হতে পারে। এর ফলে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যায়। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একাধিক অঙ্গ বিকল হতে পারে এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
কেন হয় সেপসিস
বিশেষজ্ঞদের মতে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ সেপসিসের সবচেয়ে সাধারণ কারণ। তবে ছত্রাক, পরজীবী এবং ভাইরাসজনিত সংক্রমণ থেকেও সেপসিস হতে পারে। যে সব সংক্রমণ থেকে সেপসিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি, সেগুলো হল— ফুসফুস, মূত্রথলি, কিডনি বিশেষ করে ক্যাথেটার থাকলে, পেটের ভেতরের সংক্রমণ যেমন অ্যাপেন্ডিসাইটিস, পেরিটোনাইটিস, পিত্তথলি বা লিভারের সংক্রমণ, মস্তিষ্ক বা স্পাইনাল কর্ডের সংক্রমণ এবং ত্বকের সংক্রমণ।
(Feed Source: zeenews.com)
