Who Is Usman Tariq: বেচুবাবু থেকে ফিরকি বোলার! ধোনির জন্যই কামব্যাক, জোড়া কনুইয়ের বিতর্কিত পাকিস্তানি আবার শাহরুখের চ্যাম্পিয়ন নাইটও!

Who Is Usman Tariq: বেচুবাবু থেকে ফিরকি বোলার! ধোনির জন্যই কামব্যাক, জোড়া কনুইয়ের বিতর্কিত পাকিস্তানি আবার শাহরুখের চ্যাম্পিয়ন নাইটও!

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) পাকিস্তানের রহস্য স্পিনার উসমান তারিককে (Usman Tariq) নিয়ে বিস্তর চর্চা চলছে। তারিক শিরোনামে এসেছেন মূলত তাঁর অপ্রচলিত অ্যাকশনে! স্টপ-স্টার্ট রিদম এবং রাউন্ড আর্ম ডেলিভারি। বল ছাড়ার আগে বেশ কিছুক্ষণ থেমেই তিনি ডেলিভারি করেন। যা নিয়ে আবার নেটপাড়ায় প্রচুর মিমও ছড়িয়ে পড়েছে।

ভারত-পাকিস্তান: খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের নওশেরা জেলা ৬ ফুট ৪ ইঞ্চির স্পিনার ভারত-পাক ম্যাচের আগেও ছিলেন ফোকাসে। মহারণে তাঁকে খেলতে যাতে ভারতীয় ব্যাটারদের কোনও অসুবিধা না হয়, সেদিকটা মাথায় রেখেই মহারণের আগের দিন, ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) নেটে তারিকের মতো করেই বল করেছিলেন। ঘটনাচক্রে তিনি সূর্যকেই আউট করেছিলেন। তারিক নির্দিষ্ট কোটার বল করে ২৪ রান দিয়ে ১ উইকেট পেয়েছিলেন। ভারতের কাছে পাকিস্তান পর্যুদস্ত হওয়ার পর তারিক বলেছেন ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই তাঁর টিম পরেরবার ভারতের বিরুদ্ধে ভালো করবে। কে এই তারিক? কী কী জানা যায় তাঁর সম্বন্ধে?

বেচুবাবু থেকে ফিরকি বোলার: চার বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর, তারিক পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। ২০১৫ সালে পাকিস্তান ছেড়ে দুবাইতে চলে আসেন। সেখানে এক রিয়েল এস্টেট ফার্মে পারচেজ কোঅর্ডিনেটর/ সেলসম্যান হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরিস্থিতির চাপে ক্রিকেট ছেড়ে দেন।

এমএস ধোনি কানেকশন: ২০১৬ সালের শেষের দিকে ‘এমএস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ বায়োপিক দেখার পর তিনি পেশাদার ক্রিকেটে ফিরে আসার জন্য অনুপ্রাণিত হন। রেলওয়ে টিকিট কালেক্টর থেকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ধোনির রূপকথার যাত্রার সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত কানেকশন পান। তারিক বলছেন, ‘আমার অনুপ্রেরণার কথা বলতে গেলে, আমি এমএস ধোনিকে দেখার পরই ক্রিকেটে ফিরে এসেছি। তাঁর গল্পটি আমার মতোই মনে হয়েছিল কারণ আমিও চাকরি করতাম, এবং সে টিকিট কালেক্টর। তিনি ইতিহাস তৈরি করেছিলেন। এবং আমার মনে হয়েছিল ধোনি যদি পারেন, তাহলে আমিও পারব। তবে তার জন্য আমাকে খুব কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। এটাই আমাকে ক্রিকেটে ফিরতে অনুপ্রাণিত করেছিল।’

অ্যাক্সিডেন্টাল স্পিনার: মূলত তারিক একজন ফাস্ট বোলার। তারিক টেনিস-বল ক্রিকেট খেলার সময় হাতে চোট পান। তাঁদের টিমে বোলারের অভাব দেখা দেওয়ায় তারিক ফাস্ট বোলিং ছেড়ে অফ-স্পিন করেন। সেখান থেকেই তাঁর শুরু।

ভাইরাল স্কাউটিং: আনুষ্ঠানিক ভাবে স্কাউটিংয়ের আগে, তিনি তাঁর অস্বাভাবিক বোলিং অ্যাকশনের এক ভাইরাল ভিডিয়োর মাধ্যমে প্রাথমিক ভাবে নজর কেড়েছিলেন।

‘লং পজ’: তারিকের ডেলিভারির বৈশিষ্ট্য হল ‘বেসবল-স্টাইল’ স্তব্ধ রান-আপ এবং বল রিলিজের আগে ২ সেকেন্ডের এক উল্লেখযোগ্য বিরতি নেন। যা ব্যাটারের সময় এবং ফোকাস নষ্ট করারই নীলনকশা

বিতর্কিত ডেলিভারি: পিএসএলের টানা দুই মরসুমে (২০২৪ এবং ২০২৫) তাঁর ‘সন্দেহজনক অ্যাকশন’ রিপোর্ট করা হয়েছিল। তবে লাহোরে আইসিসি-র অনুমোদিত বায়োমেকানিক্যাল টেস্টিংয়ে তাঁকে দু’বারই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

হাতে দুই কনুই: তারিক তাঁর বিতর্কিত বোলিং অ্যাকশনের সমর্থন বলেছেন যে, তাঁর হাতে দুই কনুই আছে। এটি একটি জন্মগত হাইপারমোবিলিটি বা “ডাবল-জয়েন্টেড” অবস্থা যার ফলে তার হাত সোজা থাকলেও স্বাভাবিক ভাবেই বাঁকা দেখায়।

টি-টোয়েন্টিআই হ্যাটট্রিক: ২০২৫ সালের নভেম্বরে রাওয়ালপিণ্ডিতে ত্রি-সিরিজে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেছিলেন।

সিপিএল চ্যাম্পিয়ন: ২০২৫ সালের ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে শিরোপাজয়ী ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের হয়ে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি (১০ ম্যাচে ২০ উইকেট) হন।

(Feed Source: zeenews.com)