
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে কড়া বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, ‘সুপ্রিম কোর্টের হাস্যকর সিদ্ধান্ত নিয়ে কেউ চালাকি করতে চাইলে (Play Games), বিশেষ করে এত দশক ধরে যারা আমেরিকাকে লুটে এসেছে, তাদের উপর আরও বেশি হারে শুল্ক চাপানো হবে। সম্প্রতি যে হারে সম্মত হয়েছে তারা, তার চেয়েও অনেক বেশি। সতর্ক হোন’। (US India Trade Deal)
সম্প্রতি আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ট্রাম্প সরকার দ্বারা আরোপিত সব বাণিজ্যশুল্ক ‘বেআইনি’। বাণিজ্যশুল্ক নিয়ে প্রেসিডেন্টকে তাঁর এক্তিয়ারও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ আমেরিকার সর্বোচ্চ আদালতের ওই নির্দেশ অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের উপর ট্রাম্প সরকারের তরফে চাপিয়ে দেওয়া আগের সব শুল্ক শূন্য হয়ে যায়।
কিন্তু সেই রায় মানতে নারাজ ট্রাম্প। তাই আদালতের রায়ের পর পরই বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে নতুন হারে বৈশ্বিক শুল্কের ঘোষণা করেন তিনি। প্রথমে ১০ শতাংশ হারে নতুন বৈশ্বিক শুল্ক ঘোষণা করলেও, একদিন পরই তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করে দেন। অর্থাৎ ভারতের সঙ্গে ১৮ শতাংশ শুল্কের হারে যে বাণিজ্যচুক্তিতে সম্মত হয়েছিল আমেরিকা, নয়া ঘোষণার পর তা কমে ১৫ শতাংশে নেমে আসে।
এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জন্য অপেক্ষা না করে কেন সাত তাড়াতাড়ি আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে সম্মত হল মোদি সরকার, প্রশ্ন তুলতে শুরু করে বিরোধীরা। যে চুক্তিতে ভারতের কৃষক, ভারতের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, এখন আর তা থেকে পিছু হটা সম্ভব হবে কি না সেই নিয়েও বিরোধীরা প্রশ্ন তোলেন।
আর সেই আবহেই হুঁশিয়ারি দিতে শোনা গেল ট্রাম্পকে। এখন বাণিজ্যচুক্তি থেকে পিছু হটলে, ফল ভাল হবে না বলে জানিয়ে দিলেন তিনি। সরাসরি ভারতের নাম না করলেও, ট্রাম্পের বার্তায় দিল্লির উদ্দেশেও হুঁশিয়ারি রয়েছে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। কারণ ভারত বহু দশক ধরে আমেরিকাকে ‘লুটেছে’, এখন আমেরিকা কোনও শুল্ক দেবে না, ভারতকেই শুল্ক দিতে হবে বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
(Feed Source: abplive.com)
