মৌমিতা চক্রবর্তী: বাংলাদেশের নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে মঙ্গলবার সকালে দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। ভার্চুয়ালি তিনি বৈঠকে যোগ দেন। আওয়ামী লীগের এক প্রেসিডিয়াম সদস্যের বাড়িতে মিলিত হয়েছিলেন ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা।
মঙ্গলবারের বৈঠকে শেখ হাসিনা এই প্রথম নেতাদের বলেছেন, মানসিক এবং অন্যান্য প্রস্তুতি নিন। এবার সবাইকে দেশে ফিরতে হবে। নামতে হবে দেশের ময়দানে। হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ওয়ার্কিং কমিটির সকল সদস্য ভাষণ দেন। বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা সভায় উপস্থিত ছিলেন যাঁরা ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য না হলেও ভাষণ দিয়েছেন।
বৈঠকে নেতারা দেশের পরিস্থিতি নেত্রীর সামনে তুলে ধরেন। যে নেতা যে এলাকার দায়িত্বে আছেন তিনি সেখানকার পরিস্থিতি নেত্রীকে জানান। নেতারা বলেন, যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তা একটি প্রহসনমাত্র। এই সময় হাসিনা দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, বেশ কয়েকজন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে বলে এসেছেন খুব ভাল নির্বাচন হয়েছে। তারাই আবার নিজের দেশে ফিরে রিপোর্ট দিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচনের নামে এক সাজানো নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। হাসিনা বলেন,এমন দু’মুখো লোকেদের ভরসায় আমাদের বসে থাকলেও চলবে না। আমরা কেন এই নির্বাচনকে প্রহসন বলছি তার উপযুক্ত ব্যাখ্যা মানুষের কাছে হাজির করতে হবে। দলের নেতাদের হাসিনা বলেন, নির্বাচনী ফলাফলের চুলচেরা বিশ্লেষণ করুন। আওয়ামী লিগ নেত্রীর দাবি, তিনি ভোট বয়কটের যে আহ্বান জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের মানুষ তাতে তুমুল সাড়া দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ নির্বাচনের দিন থেকেই ভোটের হার নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে। তারা বলেছে, কোনভাবেই ৬০ শতাংশ ভোটের হিসাব মেলান কঠিন। হাসিনার আমলে ২০১৮ সালের নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে হয়েছিল বলে অভিযোগ আছে। এর আগে দলের এক সভায় সেই অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে আওয়ামী লীগ নেত্রী বলেন,এবার তো ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যে থেকে ব্যালট বাক্স বোঝাই করা হয়েছে।
আলোচনায় কয়েকজন নেতা আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। হাসিনা বলেন, ওই নিষেধাজ্ঞা দুটি কারণে অবৈধ। এক, আওয়ামী লীগ এমন কোনও অপরাধ করেনি যে কারণে সন্ত্রাস দমন আইনে তাদের কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা যায়। দুই, মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার ছিল অবৈধ সরকার। সেই সরকারের নির্দেশ কখনই বৈধ হতে পারে না। এরপরই শেখ হাসিনা বিএনপি সরকারের নাম না করে বলেন, আমরা আশা করব বর্তমান সরকার এই অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। যদি না করে তখন আমরা আমাদের মতো করে সিদ্ধান্ত করব। কর্মসূচি ঘোষণা করব।
মঙ্গলবারের বৈঠকে হাসিনা যেভাবে নেতাদের দেশে ফিরতে মানসিক ও অন্যান্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন তাতে কোন কোন নেতার ধারণা নেত্রী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ব্যাপারে কোনও ইতিবাচক বার্তা পেয়ে থাকতে পারেন। এদিনের বৈঠকে, তাঁর কন্ঠে পরিচিত আত্মবিশ্বাসী ধরা পড়েছে। মঙ্গলবারের বৈঠকের ভাষণে। তিনি জোর গলায় দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক মহল বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অনুমোদন করবে না।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবারের বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন না। তিনি অসুস্থ বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, এসএম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, সাইফুল আলম নাদেল, মির্জা আজম, মইবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ। বিগত কয়েকদিনে আওয়ামী লীগের একাধিক দলীয় অফিস খুলেছে। বেশ কিছু কর্মসূচিও লক্ষ করা যাচ্ছে।। এদিনের বৈঠকে শেখ হাসিনার নির্দেশ অত্যন্ত গুরুত্বর্ণ । তাহলে কি ফের নয়া সমীকরণ দেখা মিলবে পদ্মাপাড়ের রাজনীতিতে।
(Feed Source: zeenews.com)
