পেট্রোল হতে পারে ১৪০! কতটা তেল আছে ভারতের?

পেট্রোল হতে পারে ১৪০! কতটা তেল আছে ভারতের?
যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। ইজরায়েলের ইরান আক্রমণের পর থেকে ক্রমশই ওই অঞ্চলে বেড়েছে উত্তেজনা। পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরানও। একাধিক দেশের আমেরিকান সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন আক্রমণ করেছে তারা। আর এই পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্ব জুড়ে লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম।

ইতিমধ্যেই ব্যারেল পিছু ১৩ শতাংশ দাম বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের। হিসাব বলছে ২৫ ফেব্রুয়ারি গোটা বিশ্বে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৬৫ থেকে ৬৭ টাকার মধ্যে। ইতিমধ্যেই সেই দাম ছুঁয়ে ফেলেছে ব্যারেল পিছু ৮২ ডলার। আশঙ্কা করা হচ্ছে আগামীতে এই দাম ছুঁয়ে ফেলতে পারে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারও। আর এমন হলে যে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে তার একটা বিরাট প্রভাব পড়বে, এই কথা বলাই যায়।

আসলে গোটা বিশ্বের তেলের বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ যে স্ট্রেট অফ হরমুজ হয়ে। অন্যদিকে গোটা বিশ্বের তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বা লিক্যুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাসের বাণিজ্যের প্রায় এক তৃতীয়াংশ হয় ওই স্ট্রেট অফ হরমুজের মাধ্যমেই। ফলে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে সবার আগে আটকে পড়ে এই স্ট্রেটই।

মার্কিন প্রশাসনের জ্বালানির তথ্য (US Energy Information Administration) অনুযায়ী ২০২৪ সালে প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল (২ কোটি ব্যারেল) তেল স্ট্রেট অফ হরমুজ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তথ্য বলছে এর দাম ছিল প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৫ লক্ষ ৮২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা।

সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী গত মাসে বলেন, ভারতের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ ৭৪ দিনের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে পারে।

বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের কী ক্ষতি?

ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই সংঘাতের পরিস্থিতিতে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম গোটা বিশ্বেই পৌঁছে যেতে পারে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারে। আর এমন হলে সেটা হবে পেট্রোলিয়ামের দামে প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি। আর এর ফলে আজ যে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ১০০ টাকা, আগামীতে সেই তেলের দামই ঠেকতে পারে প্রায় ১৪০ টাকায়। যদি গোটা বিশ্বে অপরিশোধিত পেট্রোলিয়ামের দাম বাড়ে তাতে কী ক্ষতি হবে সাধারণের? আসলে পেট্রোলিয়ামের দাম বাড়লে দাম বাড়বে পেট্রোল ও ডিজেলের। ফলে যে কোনও শিল্পের ক্ষেত্রে বাড়বে কাঁচামাল আমদানি, পণ্য রফতানি ও যে কোনও যন্ত্র চালানোর খরচ। আর এমন হলে তার প্রভাব পড়বে সেই সব সংস্থা যে পণ্য বিক্রি করে তার উপর। এতে আখেরে চাপ পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটেই।

(Feed Source: abplive.com)