
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইরানে যেন আজ শোকের পাহাড় নেমে এসেছে। সে দেশের মেয়েদের স্কুলে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ১৬৫ জন নিরপরাধ পড়ুয়া। আজ সেই ১৬৫ জন ছাত্রীর নিথর দেহ যখন একসঙ্গে সমাধিস্থ করার জন্য নিয়ে আসা হয়, তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন হাজার হাজার মানুষ। সম্প্রতি ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোশ্যাল মিডিয়ায় (X) সেই ছাত্রীদের গণকবরের একটি ছবি শেয়ার করেছেন, যা দেখে শিউরে উঠেছে সারা বিশ্ব।
ছবির বর্ণনায় দেখা যাচ্ছে, ধূসর মাটির ওপর সারিবদ্ধভাবে খুঁড়ে রাখা হয়েছে শত শত ছোট ছোট কবর। সাদা চকে দাগ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রতিটি সমাধিস্থল। কোথাও কোনো আভিজাত্য নেই, শুধু সারিবদ্ধ নিস্তব্ধতা। আরাগচি লিখেছেন, “এগুলো ১৬০টিরও বেশি নিরপরাধ ছোট মেয়ের জন্য খুঁড়ে রাখা কবর, যাদের শরীর মার্কিন-ইজরায়েলি বোমায় ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে।” ভারতের ইরান মিশনও এই মর্মান্তিক দৃশ্যকে ‘ছোট্ট দেবদূতদের ছোট ছোট কবর’ বলে অভিহিত করেছে।
These are graves being dug for more than 160 innocent young girls who were killed in the US-Israeli bombing of a primary school. Their bodies were torn to shreds.
This is how “rescue” promised by Mr. Trump looks in reality.
From Gaza to Minab, innocents murdered in cold blood. pic.twitter.com/cRdJ3BELOn
— Seyed Abbas Araghchi (@araghchi) March 2, 2026
মিনাবের সেই ‘শাজারেহ তাইয়েবেহ’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ছাত্রীদের রক্তমাখা স্কুলব্যাগ ও পাঠ্যবই। ভেরিফায়েড ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, উদ্ধারকারীরা কংক্রিটের স্ল্যাব সরিয়ে ছোট ছোট নিথর দেহ বের করে আনছেন। ইরানি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-র তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় আরও ৯৬ জন আহত হয়েছেন। ইরান এই ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ এবং ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে রাষ্ট্রপুঞ্জে অভিযোগ জানিয়েছে।
ইজরায়েলি সেনাবাহিনী এই এলাকায় কোনো হামলার বিষয়ে ‘অবগত নয়’ বলে দাবি করেছে, অন্যদিকে মার্কিন সেনাবাহিনী বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির এই রিপোর্টগুলি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে। তবে মিনাবের এই মাটির নিচের ছোট ছোট শরীরগুলো যে আগামীর ইতিহাসকে এক কালো অধ্যায়ের সাক্ষী করে রাখল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।
একসঙ্গে সারিবদ্ধভাবে সাজানো ১৬৫টি কফিনের দিকে তাকিয়ে স্তম্ভিত হয়ে যায় গোটা বিশ্ব। এই মর্মান্তিক পরিণতির সাক্ষী থাকতে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে শামিল হয়েছিলেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। কিন্তু এই শোকের আবহে কেবল কান্না নয়, ছিল তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সুর। শেষকৃত্যের জমায়েত থেকে সমস্বরে স্লোগান ওঠে— “আমেরিকা নিপাত যাক”, “ইসরায়েল নিপাত যাক”।
পড়ুয়াদের এই অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ইরানবাসী এক সুরে জানিয়েছেন, তারা কোনোভাবেই শত্রুর কাছে মাথা নত করবেন না। জমায়েত থেকে উচ্চকণ্ঠে বারবার ঘোষিত হয়েছে “আত্মসমর্পণ নয়”-এর ডাক। পশ্চিম এশিয়ার আকাশে যুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে আসার মাঝে এই ছাত্রীদের মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
