
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভয়ংকর পরমাণু যুদ্ধের পথে আমেরিকা? ইরানে কি আঘাত হানবে আমেরিকার পরমাণু মিসাইল? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ যখন ষষ্ঠ দিনে, ঠিক তখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ‘মিনিটম্যান-III’ আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইলের (ICBM) পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, আশঙ্কা ও ভীতি- দুই-ই বাড়িয়ে তুলেছে। ‘ডুমসডে মিসাইল’ নামেও পরিচিত এই মিসাইল হিরোশিমায় ফেলা পরমাণু বোমার চেয়েও প্রায় ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম।
মঙ্গলবার রাতে মার্কিন এয়ার ফোর্সের গ্লোবাল স্ট্রাইক কম্যান্ড ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে নিরস্ত্র LGM‑30G মিনিটম্যান-III-এর উৎক্ষেপণ করে। এতে দুটি পরীক্ষামূলক রি-এন্ট্রি ভেহিকল যুক্ত ছিল বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। এই মিনিটম্যান-III-এর রেঞ্জ প্রায় ৬,০০০ মাইল (৯,৬০০ কিলোমিটার) পর্যন্ত। ৩ মার্চের পরীক্ষায় এই মিসাইলটি প্রায় ৬,৭০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝামাঝি অঞ্চলে অবস্থিত মার্শাল আইল্যান্ডের কাছে নির্ধারিত লক্ষ্যস্থলে আঘাত হানে। আর এরপরই উদ্বেগ, আতঙ্ক ছড়িয়েছে আমেরিকার ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা ঘিরে।
যদিও মার্কিন স্পেস ফোর্স জানিয়েছে, GT-255 নামে চিহ্নিত এই পরীক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রটি দীর্ঘদিন ধরে চলা নিয়মিত মূল্যায়ন কর্মসূচির অংশ। চলমান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সঙ্গে এর সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। উল্লেখ্য, মিনিটম্যান-III মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অস্ত্রভান্ডারের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। এটি ঘণ্টায় ১৫,০০০ মাইলের বেশি (প্রায় ২৪,০০০ কিমি প্রতি ঘণ্টা) গতিতে ছুটতে পারে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই মহাদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে আঘাত হানতে সক্ষম। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসেও আমেরিকা একবার মিনিটম্যান-III-এর নিয়ে পরীক্ষা চালায়, সেইসময়ও ওয়াশিংটনের পারমাণবিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। এরপর এখন ইরান যুদ্ধের মধ্যেই ফের ‘ডুমস ডে’ মিসাইল মিনিটম্যান-III এর পরীক্ষা, নতুন করে পরমাণু যুদ্ধের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
কেন মিনিটম্যান-III-কে ‘ডুমসডে মিসাইল’ বলা হয়?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারের অন্যতম ধ্বংসাত্মক অস্ত্র হওয়ায় একে ‘ডুমসডে মিসাইল’ বলা হয়। এটি হিরোশিমায় ফেলা পারমাণবিক বোমার চেয়েও প্রায় ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। ১৯৫০-এর দশকে বোয়িং এই মিসাইলটি তৈরি করে। শত্রুর আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে এই মিসাইলকে সাধারণত ভূগর্ভস্থ শক্তিশালী বাঙ্কার বা সাইলোতে রাখা হয়।
‘ডুমসডে মিসাইল’ নামে পরিচিত আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) মিনিটম্যান-III পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করে এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরের টার্গেটে মাত্র ৩০ মিনিটেরও কম সময়ে আঘাত হানতে সক্ষম। সাবমেরিন ও বোমারু বিমান, দুই থেকেই এই মিসাইল উৎক্ষপেণযোগ্য।
এই মিসাইলে রয়েছে MIRV (Multiple Independently Targetable Re-entry Vehicles) প্রযুক্। অর্থাৎ একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকেই একাধিক পৃথক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা সম্ভব। মিনিটম্যান-III সর্বোচ্চ প্রায় ২৮,৪০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিও অর্জন করতে পারে। এটি ৯,৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে।
কীভাবে আঘাত হানে ‘ডুমসডে’ মিসাইল?
সলিড ফুয়েল পরিচালিত এই মিসাইলকে কয়েক মিনিটের মধ্যে উৎক্ষেপণ করা যায়। উৎক্ষেপণের নির্দেশ পাওয়ার পরই মিনিটম্যান-III ভূগর্ভস্থ সাইলো থেকে সলিড-ফুয়েল রকেট ইঞ্জিনের সাহায্যে দ্রুত আকাশে উঠে যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই এটি উপরের বায়ুমণ্ডলে পৌঁছে যায়। তারপর সর্বোচ্চ উচ্চতায় এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে চলে যায় এবং মহাকাশ দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধাবমান হয়। এরপর এটি আবার বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ও অত্যন্ত উচ্চ গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
ইরান যুদ্ধের মাঝে কি পরমাণু বোমাও পরীক্ষা আমেরিকার?
শুধু ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা-ই নয়, প্রশ্ন উঠেছে ইরান যুদ্ধের মাঝে কি পরমাণু বোমাও পরীক্ষা আমেরিকা? প্রায় ১০০-রও বেশি ভূকম্পন রেকর্ড হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। আর এই রহস্যময় ভূমিকম্পের ঘটনা ঘিরেই আমেরিকার পরমাণু বোমা পরীক্ষার জল্পনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সামরিক ঘাঁটি Area 51-এর কাছাকাছি এলাকায় গত এক সপ্তাহে ১০০-র বেশি ভূকম্পন রেকর্ড হয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। এই Area 51-এর সঙ্গেই যুক্ত টোনোপাহ টেস্ট রেঞ্জ। অনেকেই সন্দেহ করছেন যে ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র গোপনে পরমাণু বোমা পরীক্ষা করছে! যদিও এই দাবির প্রেক্ষিতে এখনও পর্যন্ত কোনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
(Feed Source: zeenews.com)
