
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইরানের বিরুদ্ধে চলতি মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের আস্ফালন করল ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (US Central Command), আমেরিকার কেন্দ্রীয় কমান্ড হল মার্কিনি প্রতিরক্ষা বিভাগের ১১টি ঐক্যবদ্ধ যোদ্ধা কমান্ডের মধ্যে একটি। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা ‘র্যাপিড ডেপ্লয়মেন্ট জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স’-এর পূর্ববর্তী দায়িত্বভার গ্রহণ করে। এদের দায়িত্বের ক্ষেত্র- মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশ। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডেলে 100 Hours of Operation Epic Fury মর্মে একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেছে। ইরানের পারমাণবিক ও নিরাপত্তা পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার লক্ষ্যে আমেরিকা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই অপারেশন শুরু করে। যা এদিন ছ’নম্বর দিনে পা দিল। হামলার প্রথম দিনেই ইরানি সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেইনি আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতা নিহত হন। এর পরেই তেহরানের পক্ষ থেকে পাল্টা দেওয়া শুরু হয়।
সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরানে ১০০০ জনেরও বেশি, লেবাননে ৭০ জনেরও বেশি এবং ইসরায়েলে প্রায় এক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন। সেন্টকম জানিয়েছে যে, শুধুমাত্র প্রথম চার দিনের মধ্যেই, আকাশ, স্থল এবং সমুদ্র থেকে ২০০০ নির্ভুল-নির্দেশিত যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করে ২০০০ রও বেশি হামলা চালানো হয়েছে। কমান্ড আরও জানিয়েছে যে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। CENTCOM অনুসারে ২০টিরও বেশি ইরানি জাহাজ ডোবানো হয়েছে। অন্যদিকে অভিযান শুরুর পর থেকে ইরানের ড্রোন উৎক্ষেপণ ৭৩ শতাংশ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ৮৬ শতাংশ কমেছে। এতে আরও বলা হয়েছে যে আমেরিকা, ইরানের আকাশসীমার আরও গভীরে প্রবেশ অব্যাহত রেখেছে। এই অভিযানকে তারা ‘ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক, সবচেয়ে জটিল এবং সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট বিমান অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ভিডিয়োটিতে বলা হয়েছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের সামরিক বাহিনী আমেরিকানদের হুমকি দেওয়ার ইরানের ক্ষমতা নির্মূল করার জন্য একঅভূতপূর্ব অভিযান পরিচালনা করছে, যেমনটি তারা প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে করে আসছে। আমরা এই যুদ্ধ শুরু করিনি, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে আমরা তা শেষ করছি। এই সময়ে যুদ্ধ অভিযান পূর্ণ শক্তিতে অব্যাহত রয়েছে এবং আমাদের সমস্ত লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত এগুলি অব্যাহত থাকবে।’
সেন্টকম ইরানের বেশ কয়েকটি দাবি প্রত্যাখ্যান করে সেগুলিকে “ভুয়ো খবর” বলেই জানিয়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে যে আমেরিকা এই অঞ্চল থেকে পিছু হটছে এবং তাদের যুদ্ধবিমান এবং একটি ডেস্ট্রয়ারও হারিয়েছে। তেহরানও দাবি করেছে যে প্রায় ১০০ জন মার্কিন মেরিন নিহত হয়েছেন। এদিকে সেক্রেটারি অফ ওয়ার পিট হেগসেথ এদিন ফ্লোরিডার টাম্পায় ম্যাকডিল বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের সদর দফতর পরিদর্শন করবেন বলেই আশা করা হচ্ছে। তিনি সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে দেখা করবেন এবং চলমান অভিযানের আপডেট নেবেন। ট্রাম্পও সামরিক বাহিনীর প্রশংসা করে বলেছেন, সর্বশেষ হামলার পর ওয়াশিংটন এক কমান্ডিং অবস্থানে রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে খুব ভালো করছি। কেউ ১০ স্কেলে বলেছে যে, আমি এটিকে কোথায় মূল্যায়ন করব? আমি ১৫ বলেছি।” তিনি আরও যোগ করেছেন যে, অভিযানের পরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত ধ্বংস করা হচ্ছে। তাদের লঞ্চার ধ্বংস করা হচ্ছে। ট্রাম্পের যোগ, ‘এটা অনেক বছর ধরে আমাদের জন্য এক বিরাট হুমকি ছিল। ৪৭ বছর ধরে তারা আমাদের মানুষকে হত্যা করে আসছে এবং সারা বিশ্বের মানুষকে হত্যা করছে। আমরা এখন খুব শক্তিশালী অবস্থানে আছি। এটি সামরিক শক্তির এক দুর্দান্ত প্রদর্শন।’ বোঝাই যাচ্ছে যে, আমেরিকা থামবে না।
(Feed Source: zeenews.com)
