
হদল ও নারায়ণপুর গ্রামের মাঝখানে গড়ে ওঠে বিশাল জমিদারবাড়ির প্রাসাদ। শুধু প্রাসাদই নয়, তার সঙ্গে তৈরি হয় নানা ঐতিহাসিক স্থাপত্য—দুর্গাদালান, রাসমঞ্চ, রথমন্দির, নাটমন্দির এবং নহবতখানা। এই স্থাপনাগুলোর স্থাপত্যশৈলী আজও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। পুরনো দিনের ইটের গাঁথুনি, খিলান দরজা, প্রশস্ত উঠোন এবং প্রাচীন অলংকরণ যেন সেই সময়ের ঐশ্বর্যের সাক্ষ্য বহন করে।
এই জমিদারবাড়ির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বোদাই নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বাণিজ্যের গল্পও। কথিত আছে, একসময় মণ্ডল পরিবার ওই অঞ্চলের সাতটি নীলকুঠির ইজারা নিয়েছিল। নদীপথে নীল বোঝাই বজরা ভাসিয়ে দূর-দূরান্তে বাণিজ্য চলত। সেই সময়কার নানা ঘটনা ও লোককথা এখনও স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে ফেরে, যা এই এলাকার ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
বর্তমানে জমিদারি প্রথা বা নীলকুঠির সেই জৌলুস আর নেই। তবে বিশাল প্রাসাদ, পুরনো মন্দির, রাসমঞ্চ এবং অন্যান্য স্থাপত্য আজও দাঁড়িয়ে আছে অতীতের স্মৃতি বহন করে। গ্রামের শান্ত পরিবেশ, নদীর ধারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ইতিহাসঘেরা এই স্থাপত্য মিলিয়ে হদল–নারায়ণপুর এখন ধীরে ধীরে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও প্রচার হলে হদল–নারায়ণপুরের মণ্ডল জমিদারবাড়ি ভবিষ্যতে বাঁকুড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হেরিটেজ পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। ইতিহাসের গন্ধ মেখে থাকা এই প্রাচীন প্রাসাদ আজও ভ্রমণপিপাসুদের আহ্বান জানায়—এসে দেখে যান গ্রামবাংলার বুকে লুকিয়ে থাকা এক বিস্মৃত ঐতিহ্য। (ছবি ও তথ্য: নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়)
(Feed Source: news18.com)
