
সংগীত শুধু বিনোদনের মাধ্যমই নয়, এটি মস্তিষ্কের উপরও গভীর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে পছন্দের গান শুনলে মনের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং চাপ কমে। কারণ, প্রিয় সংগীত শোনার সময় মস্তিষ্কে ডোপামিন নামে একটি ‘ফিল-গুড’ রাসায়নিক নিঃসৃত হয়। গবেষণা কী বলছে জানুন!
অনেক ছাত্রছাত্রীর মনেই এই প্রশ্নটা ঘোরে—পড়াশোনার সময় গান শুনলে কি সত্যিই পরীক্ষায় ভাল নম্বর পাওয়া যায়? কেউ বলেন, ক্লাসিক্যাল বা লো-ফাই সুর মনোযোগ বাড়ায়। আবার অনেকে মনে করেন, এতে বরং মনোযোগ নষ্ট হয়।
আপনি যখন পছন্দের গান শোনেন, তখন মস্তিষ্কে ডোপামিন নামে একটি ‘ফিল-গুড’ রাসায়নিক নিঃসৃত হয়। এটি মন ভাল রাখে, চাপ কমায় এবং দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করাকে কম ক্লান্তিকর মনে করায়। ফলে পরীক্ষা আগে মন শান্ত ও উদ্দীপ্ত থাকলে তা স্বাভাবিকভাবেই কাজে লাগে। তবে উল্টো দিকও রয়েছে। খুব বেশি তালে ভরা বা গানের কথাযুক্ত ট্র্যাক অনেক সময় মনোযোগ ভাগ করে দিতে পারে, বিশেষ করে অঙ্কের সমস্যা সমাধান বা প্রবন্ধ লেখার মতো গভীর মনোযোগের কাজের সময়।
কী ধরনের গান শুনছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্সট্রুমেন্টাল মিউজিক, ক্লাসিক্যাল সুর বা অ্যাম্বিয়েন্ট ধরনের সংগীত মনোযোগ ধরে রাখতে বেশি সাহায্য করে। এই ধরনের সুরে একটি স্থির ছন্দ থাকে এবং মস্তিষ্ককে খুব বেশি মানসিক প্রক্রিয়া করতে হয় না। যদিও এটি কোনও জাদু নয়, তবু কিছু গবেষণা বলছে নির্দিষ্ট ধরনের সংগীত অল্প সময়ের জন্য স্মৃতি এবং স্থানগত বিশ্লেষণ ক্ষমতা কিছুটা বাড়াতে পারে।
এখানে ব্যক্তিগত পছন্দও বড় ভূমিকা রাখে। যদি কোনও গান আপনাকে বিরক্ত করে, তবে আপনার মস্তিষ্ক পড়াশোনার বদলে সেই বিরক্তির দিকেই বেশি মনোযোগ দেবে। তাই এমন গান বেছে নেওয়া উচিত যা আপনাকে শান্ত ও উৎসাহী রাখে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নীরবতা বা খুব হালকা পটভূমির শব্দই বেশি কার্যকর হতে পারে। মূল কথা হল, কোন পরিবেশে আপনার মনোযোগ সবচেয়ে ভাল থাকে তা জানা।
সময় নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ। পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের সময়—যেমন নোট পড়া, ফ্ল্যাশকার্ড দেখা বা সূত্র মুখস্থ করা—এই সময় গান শোনা অনেক সময় সাহায্য করতে পারে। তবে কঠিন সমস্যা সমাধান বা গভীর মনোযোগের কাজের সময় গান মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। অনেক ছাত্রছাত্রী আবার একই গান পড়ার সময় এবং পুনরাবৃত্তির সময় শোনেন, যাতে স্মৃতি সহজে ফিরে আসে। মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় স্টেট-ডিপেন্ডেন্ট মেমরি।
এই বিষয়টি বিভিন্ন স্নায়ুবিজ্ঞান গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে Valorie Salimpoor ও Robert Zatorre-এর গবেষণায় দেখা গেছে, প্রিয় সংগীত শোনার সময় মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসৃত হয়। তবে সব কিছুরই সীমা থাকা দরকার। খুব জোরে বা দীর্ঘ সময় ধরে গান শুনলে ক্লান্তি বা মাথাব্যথা হতে পারে, যা পড়াশোনার ক্ষতি করতে পারে।
সঠিকভাবে ব্যবহার করলে সংগীত মন ভাল রাখতে, চাপ কমাতে এবং কিছু ক্ষেত্রে স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে। তাই পড়ার সময় যদি গান শুনতেই চান, তবে ইন্সট্রুমেন্টাল বা শান্ত সুর বেছে নিন, কাজের ধরন অনুযায়ী গান নির্বাচন করুন এবং ভলিউমও সীমিত রাখুন। এতে হয়তো সরাসরি নম্বর বাড়বে না, কিন্তু পড়াশোনা আরও স্বচ্ছন্দ ও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।
(Feed Source: news18.com)
