)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ‘শরারত’ গানের ব্যাপক জনপ্রিয়তার পর আয়েশা খান এখন বিনোদন জগতের পরিচিত নাম। কিন্তু সাফল্যের এই রূপকথার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক হাড়হিম করা অভিজ্ঞতা। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যেই নিজের সেই যন্ত্রণার কথা শেয়ার করলেন এই টিভি অভিনেত্রী। তিনি জানান, কীভাবে মাসের পর মাস ধরে অনলাইনে চলা হেনস্থা শেষ পর্যন্ত তাঁর কর্মস্থল অর্থাৎ ছবির শ্যুটিং সেট পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল।
আয়েশা জানান, দীর্ঘ কয়েকমাস ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ব্যক্তি তাঁকে কুরুচিকর মেসেজ পাঠিয়ে উত্যক্ত করছিল। বেশিরভাগ তারকার মতো তিনিও বিষয়টিকে অবজ্ঞা করে এড়িয়ে চলছিলেন। কিন্তু আসল চমক বা আতঙ্ক অপেক্ষা করছিল তাঁর ফিল্ম সেটে। আয়েশা লক্ষ্য করেন, যে ব্যক্তি তাঁকে অনলাইনে দিনের পর দিন স্টক করে আসছিল, সে আসলে তাঁরই বর্তমান প্রোজেক্টের একজন ক্রু মেম্বার। অর্থাৎ, যাকে তিনি ভার্চুয়াল জগতের শত্রু ভাবছিলেন, সে বাস্তবে তাঁরই আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।
এই ঘটনা সামনে আসার পর আয়েশা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, “অনলাইন হেনস্থা যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে এবং তা যে বাস্তবের নিরাপত্তায় কতটা ফাটল ধরাতে পারে, তা আমি হাড়হিম করা এই অভিজ্ঞতায় অনুভব করেছি।” সেটের ভেতরেই এমন এক ব্যক্তির উপস্থিতি তাঁর পেশাদার জীবনেও বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছিল। তবে অভিনেত্রী অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে পুরো বিষয়টি মোকাবিলা করেছেন এবং এই ধরণের ঘটনার বিরুদ্ধে সরব হওয়ার ডাক দিয়েছেন। পাশাপাশি অভিনেত্রী লেখেন, প্রায় রোজ ধর্ষণের হুমকি পেতাম। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম।
‘ধুরন্ধর’-এর ‘শারারাত’ গানে তাঁর পারফরম্যান্স যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তুফান তুলছে, ঠিক তখনই এই ব্যক্তিগত লড়াই লড়তে হয়েছে তাঁকে। ভক্তরা আয়েশার এই সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। বিনোদন জগতের তারকাদের নিরাপত্তা, বিশেষ করে নারী শিল্পীদের জন্য কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা যে কতটা জরুরি, আয়েশার এই অভিজ্ঞতার পর তা আবারও জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।
(Feed Source: zeenews.com)
