আমেরিকার ৩০০০ কোটির রেডার সিস্টেম গুঁড়িয়ে দিল ইরান, শুধু একটি, না একাধিক? ধোঁয়াশা জারি

আমেরিকার ৩০০০ কোটির রেডার সিস্টেম গুঁড়িয়ে দিল ইরান, শুধু একটি, না একাধিক? ধোঁয়াশা জারি
নয়াদিল্লি: ইরানকে ‘হেরো’ ঘোষণা করে দিয়েছেন। আরও জোরাল আঘাত হানার হুমকি দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এবার জানা গেল, আমেরিকার মহার্ঘ রেডার সিস্টেম উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। স্যাটেলাইটের তোলা ছবিতে ধরা পড়ল ধ্বংসস্তূপ। (Iran Destroys US THAAD Radar System)

আমেরিকা, ইজ়রায়েল বনাম ইরানের যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে পা রেখেছে। হামলা, পাল্টা হামলায় যেমন তেতে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া, তেমনই অর্থনৈতিক সঙ্কটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখনও হুমকি-হুঁশিয়ারি চলছে লাগাতার। সেই আবহেই স্যাটেলাইটের তোলা ছবি সামনে এনেছে আমেরিকারই সংবাদমাধ্য়ম CNN. (US Iran War)

জানা গিয়েছে, জর্ডনে আমেরিকার রেডার সিস্টেম গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইরান। ইরান থেকে ইজ়রায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে গেলে, তা ইরাক, সিরিয়া, জর্ডনের উপর দিয়ে যায়। ওই সব দেশে আমেরিকার রেডার রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতি ধরে ফেলে, ক্ষেপণাস্ত্র গুঁড়িয়ে দেয় আকাশেই। জর্ডনে আমেরিকার সেই রেডার সিস্টেমই ইরান গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে খবর। 

জর্ডনে আমেরিকার যে রেডার সিস্টেম গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইরান, সেটি হল Terminal High Altitude Area Defence (THAAD). পশ্চিম এশিয়ায় শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন চিহ্নিত করে, আকাশেই গুঁড়িয়ে দেয়। আমেরিকার এক আধিকারিক Bloomberg-কে জানিয়েছেন, AN/TPY-2 রেডার সিস্টেম গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইরান, যা Thaad-এর ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জর্ডনে মুয়াফ্ফক সালটি বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ওই ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিটি বসানো ছিল। যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই সেটিতে আঘাত হানে ইরান। ইরান থেকে ওই বায়ুসেনা ঘাঁটির দূরত্ব ৫০০ মাইলের বেশি।

জর্ডনে যে রেডার প্রযুক্তি গুঁড়িয়ে দিয়েছে, সেটির মূল্য ৩০০ মিলিয়ন ডলার বলে জানা যাচ্ছে, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা। স্যাটেলাইটের তোলা ছবিতে যে দৃশ্য ধরা পড়েছে, তাতে রেডারের কাছে, বালির উপর ১৩ ফুট আয়তনের দু’টি গর্ত চোখে পড়েছে।  একাধিক বারের চেষ্টায় সেটি ধ্বংস করা গিয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। ৪০ ফুট আয়তনের পাঁচটি ট্রেলারের উপর বসানো ছিল রেডার প্রযুক্তি। একটিও আস্ত নেই, সবক’টিই প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে ঠাহর হচ্ছে। CNN জানিয়েছে, ১ মার্চ বা ২ মার্চ হামলা হয়ে থাকতে পারে। 

তবে জর্ডনের ওই রেডার প্রযুক্তিতেই শুধু হামলা হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ১ মার্চ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বায়ুসেনা ঘাঁটিতে মোতায়েন রেডার প্রযুক্তির কাছ থেকেও ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। সেখানে ধ্বংসাবশেষও চোখে পড়ে। সৌদি আরবের তরফে সেই নিয়ে কিছু জানানো হয়নি এখনও পর্যন্ত। পাশাপাশি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রুয়েইসের তিনটি সামরিক ভাবন এবং সাদেরে চারটি ভবনে হামলা চালানো হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে। কাতারে উম দহলে থাকা রেডার প্রযুক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধরা পড়েছে স্য়াটেলাইটের তোলা ছবিতে।  তবে হামলা হয়েছে মানেই পুরোপুরি সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছে নয় বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তবে এই ধরনের হামলায় সেগুলির ক্ষমতা যে ভেঙে পড়ে সেব্য়াপারে একমত সকলে। পেন্টাগনের এক আধিকারিক CNN-কে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের কথা মাথায় রেখে এখনই কোনও মন্তব্য করতে পারছেন না তাঁরা। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলই প্রথম ইরানে হামলা চালায়। দেশের সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হত্যা করে তারা। সেই থেকে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ নেমে এসেছে। উপসাগরীয় দেশগুলিতে আমেরিকার ঘাঁটি লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে ইরান। প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে শত্রুতা না থাকলেও, আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার সবরকম অধিকার আছে বলে জানায় ইরান। শনিবার দেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে আক্রমণ না হলে, তাঁরাও আর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়বেন না। কিন্তু আমেরিকার প্রেসিডেন্ট যে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানিয়েছেন, তা মেনে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

(Feed Source: abplive.com)