দেখা যেত ছায়ামূর্তি, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে রহস্যময় বেগুনকোদর স্টেশন! সেই গল্প এবার পর্দায়

দেখা যেত ছায়ামূর্তি, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে রহস্যময় বেগুনকোদর স্টেশন! সেই গল্প এবার পর্দায়

কলকাতা: বেগুনকোদর। এই রেলওয়ে স্টেশনটির নাম অনেকে জানেন, অনেকে আবার জানেন ও না। যাঁরা জানেন না, তাঁদের কাছে জানবার মতো সত্যিই কোনও কারণ ঘটেনি। কারণ এই স্টেশনটি জংশন নয়, বড় ট্রেন প্রায় দাঁড়ায় না বললেই চলে। তার ওপর, স্টেশনটি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ ছিল। তবে যাঁরা এই স্টেশনের নাম জানেন, তাঁরা জানেন একটিই কারণে। ভৌতিক বলে এই স্টেশনের কুখ্যাতি রয়েছে। সেই কুখ্যাতি এতটাই যে এই স্টেশনকে এড়িয়ে চলেন সাধারণ মানুষ। দিনের বেলাও এই স্টেশন চত্বরে পা রাখতে চান না কেউই। সেই স্টেশনের গল্পই এবার উঠে আসবে রুপোলি পর্দায়!

সুচন্দ্রা এক্স ভানিয়া এবং চন্দ্রোদয় পাল নিয়ে আসছেন নতুন সিনেমা, ‘পরবর্তী স্টেশন বেগুনকোদর’। এই সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে, সোহম মজুমদার, স্যান্ডি রং, প্রেরণা দাস ও সামিউল কে। ছবিতে আরও অভিনেতা অভিনেত্রীদের দেখা যাবে তবে তাঁদের নাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি। পশ্চিমবঙ্গ আর বিহার সীমান্তের কাছে পুরুলিয়ার ছোট্ট রেলস্টেশন বেগুনকোদর। সেই স্টেশন ঘিরে বাস্তব জীবনে যা যা গল্প রয়েছে, তার অধিকাংশটাই শোনা কথা, লোকমুখে প্রচারিত। সেই গল্পের ওপরে ভিত্তি করেই কি তৈরি হবে পর্দার ছবি?

পরিচালন জুটি বলছেন, ‘কিছু গল্প কখনও হারিয়ে যায় না। তারা ভুলে যাওয়া জায়গাগুলিতে নীরবে বেঁচে থাকে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষকে তার চারপাশের পৃথিবীকে বোঝার এক বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি দেয়। বেগুনকোদর তেমনই এক গল্প। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পুরুলিয়ার একটি ছোট্ট রেলস্টেশন একটি ‘ভৌতিক’ বলে কথা ছড়িয়ে পড়ায়, বন্ধ ছিল। কিন্তু পরবর্তী স্টেশন বেগুনকোদর নির্মাণে আমাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু শুধু ভূতের রহস্য ছিল না—তার পেছনে লুকিয়ে থাকা মানবিক গল্পটিও ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। এত দীর্ঘ সময় ধরে একটি স্টেশন বন্ধ থাকা মানে আশপাশের মানুষের বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া, হারিয়ে যাওয়া সুযোগ এবং একটি অঞ্চল ধীরে ধীরে রেলপথের মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়া।

পরিচালক আরও বলছেন, ‘এই গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন ডা. নয়ন মুখোপাধ্যায়, একজন সার্জন এবং যুক্তিবাদী, যিনি এই স্টেশনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্যের সত্যতা অনুসন্ধান করতে বেগুনকোদরে আসেন। কিন্তু অনুসন্ধান শুরু করতেই তিনি এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হন যেখানে বিশ্বাস, ভয়, জীবিকা এবং অদৃশ্য স্বার্থ একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। প্রত্যেকের কাছেই যেন ঘটনার আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা রয়েছে। এই ছবির মাধ্যমে আমরা অনুসন্ধান করেছি বিশ্বাস এবং বাস্তবতার মাঝের সূক্ষ্ম সীমারেখাকে, এবং দেখার চেষ্টা করেছি কীভাবে গল্প কখনও কখনও একটি জায়গা ও তার মানুষের ভাগ্যকে প্রভাবিত করে। শেষ পর্যন্ত পরবর্তী স্টেশন বেগুনকোদর শুধু একটি ভূতুড়ে স্টেশনের গল্প নয়; এটি বিশ্বাসের প্রকৃতি নিয়ে এক অনুসন্ধান—আর সেই সব সত্যেরও, যা অনেক সময় আমাদের বলা গল্পগুলোর আড়ালে লুকিয়ে থাকে।’

(Feed Source: abplive.com)