NCERT: বিচারব্যবস্থার দুর্নীতি নিয়ে চ্যাপ্টারে উল্লেখ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। সুপ্রিম কোর্টে কড়া সমোলচনার পর এবার নিঃশর্ত ক্ষমা চাইল এনসিইআরটি।
জনসমক্ষে ক্ষমা চাইল এনসিইআরটি
নয়াদিল্লি: জাতীয় শিক্ষা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কাউন্সিল (এনসিইআরটি) অষ্টম শ্রেণির সামাজিক বিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তক ‘এক্সপ্লোরিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড’, যেখানে বিচার বিভাগের উপর একটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত ছিল, তা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করেছে। এনসিইআরটি জানিয়েছে যে পুরো বইটি প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং এটি আর পাওয়া যাবে। একইসঙ্গে তারা জনসমক্ষে বিবৃতি দিয়ে ক্ষমাও চেয়েছে।
বিচারব্যবস্থার দুর্নীতি নিয়ে চ্যাপ্টারে উল্লেখ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠার পরই সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয় এবং কড়া সমোলচনার মুখে পড়েছিল এনসিইআরটি। সর্বোচ্চ আদালতের কড়া অবস্থানের পর জনসমক্ষে ক্ষমা চাইল এনসিইআরটি। মঙ্গলবার নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে প্রেস বিবৃতি জারি করেছেন এনসিইআরটির অধিকর্তা এবং কর্মীরা।
সপ্তাহখানেক আগেই অষ্টম শ্রেণির এনসিইআরটি-র পাঠ্যবইয়ে ‘বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি’র অধ্যায় নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তার পরই কড়া অবস্থান নেয় সুপ্রিম কোর্ট। ‘বিতর্কিত’ ওই পাঠ্যবই নিষিদ্ধ করে শীর্ষ আদালত। দুঃখপ্রকাশ করে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও। উল্লেখ্য, এর আগের সংস্করণের পাঠ্যবইয়ে মূলত দেশের বিচার ব্যবস্থা ও আদালতের ভূমিকার কথাই শুধু ছিল। কিন্তু নতুন বইয়ে ‘আমাদের সমাজে বিচারবিভাগের ভূমিকা’ শীর্ষক সংশোধিত অধ্যায়ে শুধুমাত্র আদালতের গঠন, কাঠামো, ন্যায়বিচারের সুযোগের মধ্যেই আলোচনা সীমিত রাখা হয়নি। বিচারব্যবস্থার কাজকর্মে প্রভাব ফেলে, এমন সমস্যাগুলিও তুলে ধরা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতির প্রসঙ্গও।
বইয়ের ওই অধ্যায়ে বিচার ব্যবস্থার অন্দরে দুর্নীতি এবং বিশেষ করে সমাজের গরিব, আর্থিকভাবে দুর্বলতর অংশের সুবিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে তার প্রভাবের কথা রয়েছে। লেখা হয়েছে, সাধারণ মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতায় বিচারব্যবস্থার নানা স্তরে দুর্নীতি হতে দেখেন। গরিব ও প্রান্তিক অংশের মানুষের পক্ষে এর ফলে সুবিচার পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। তাই রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা তৈরি ও বিচার কাঠামোয় স্বচ্ছতার প্রসারে লাগাতার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মৈত্রেয়ী ভট্টাচার্য
(Feed Source: news18.com)